কুমিল্লার সেই ভিডিও আমাদের কাছে আছে: হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত: ২৩:৪৫, ১৬ অক্টোবর ২০২১

কুমিল্লার সেই ভিডিও আমাদের কাছে আছে: হাছান মাহমুদ

কুমিল্লার ঘটনার পেছনে বিএনপির ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মির্জা ফখরুল বলেছেন সরকার নাকি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় কুমিল্লার ঘটনার পেছনে তাদের ইন্ধন ছিল। এই কথার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব কি বাংলাদেশের সব মানুষকে বোকা ভেবেছেন। তিনি মনে করেছেন এই কথা বলে দেশের মানুষকে বোকা বানাবেন। তার কথায় দেশের মানুষ যেমন হাসছে, হনুমানও হাসে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু। সাধারণ সম্পাদক শিমুল গুপ্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, কুমিল্লার ঘটনায় কারা মিছিল বের করেছে, সেই ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। তারা কোন দলের সমর্থক, তারা কোন মতাদর্শে বিশ্বাস করে সেগুলো বের করে সবার সামনে প্রকাশ করবো। এদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেবো না।

তিনি বলেন, যারা বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত ছিল, এখনও যুক্ত আছে, ফেসবুকে যারা অপপ্রচার চালিয়েছে কিংবা চালাচ্ছে, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা ঘটনা ঘটিয়েছে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার প্রশংসা পছন্দ হয়নি বিধায় নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়। বিএনপি-জামায়াত রাজনৈতিকভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে নানা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটিয়ে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া হয়েছে, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। এর পেছনে বিএনপি-জামায়াতসহ ধর্মান্ধ গোষ্ঠী যুক্ত। তারা এই ঘটনা ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার সরকার বিশৃঙ্খলা দমন করেছে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। ছাত্রলীগের তরুণ ভাইবোনদের বিনয়ী হতে হবে। কারণ উদ্যত আচরণ কেউ পছন্দ করে না। পাশাপাশি লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে হবে। লেখাপড়া বাদ দিয়ে শুধু ছাত্রলীগের কাজ করার প্রয়োজন নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে পাকিস্তান দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানিয়ে হাছান মাহমুদ  বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের প্রশংসায় বিশ্বময় পঞ্চমুখ। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা আগেই অর্জন করার জন্য জাতিসংঘ আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃত করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে বলেছেন মানব উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সব সূচকে আজকে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে। মানব উন্নয়ন, সামাজিক সূচকসহ মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে আমরা ভারতকেও পেছনে ফেলেছি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা স্বজন কুমার তালুকদার, আবুল কাশেম চিশতী, শাহজাহান সিকদার, নজরুল ইসলাম তালুকদার, মুহাম্মদ আলী শাহ, ডা. মোহাম্মদ সেলিম, আকতার হোসেন খাঁন, শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, গিয়াস উদ্দিন খাঁন স্বপন ও যুবলীগের সভাপতি আরজু সিকদার প্রমুখ।