টিকা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীকে থাপ্পড়, সাংবাদিক গ্রেফতার

প্রকাশিত: ০০:৩২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

টিকা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীকে থাপ্পড়, সাংবাদিক গ্রেফতার

গণটিকা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর এবং কেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগে দৈনিক মানবজমিনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ইয়ারব হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদরের ঝাউডাঙা হাইস্কুলের অস্থায়ী টিকা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিকা কেন্দ্রে ভাঙচুরের এক ঘণ্টা পর ইয়ারব হোসেনকে তুজলপুর গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর এবং কেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৩ সালে জামায়াতের সহিংস তাণ্ডব চলাকালে সন্ত্রাসীদের হাতে মারধরের শিকার হন ইয়ারব। তখন তার হাত-পা ভেঙে দেয় সন্ত্রাসীরা। জেলা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, ‘খবরটি শুনেছি। টিকা কেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনা জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছিল। তবে ওই সাংবাদিককে গ্রেফতারের বিষয়টি জানা নেই। এক টিকা পাঁচজনকে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এটি অনিয়ম নয়।’বতিনি আরও বলেন, ‘৭৮ ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার নয় ওয়ার্ডে এক লাখ ২১ হাজার করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ইউনিয়নে এক হাজার ৫০০ ও পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে ৫০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ও বুধবার, দুই দিন ক্যাম্পেইন চলবে। যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তারাই কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন।’ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বাবুল আক্তার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ঝাউডাঙা অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে গণটিকা কার্যক্রম চলছিল। এ সময় সাংবাদিক ইয়ারব সেখানে গিয়ে এক টিকা পাঁচ জনকে পুশ করার আপত্তি জানান। এ নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। তিনি স্বাস্থ্যকর্মী মনিরুল ইসলামকে থাপ্পড় মারেন এবং কেন্দ্র ভাঙচুর করেন। এ জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়েছে।’ সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন বলেন, ‘ঝাউডাঙা হাইস্কুল কেন্দ্রে টিকা দেওয়া নিয়ে অব্যবস্থাপনার খবর পাই। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যকর্মী মনিরুল ইসলাম আমাকে বলেন, ‘তুই কে রে? তুই কথা বলার কে’ বলে আমাকে ধাক্কা দেন। তখন আমি তাকে থাপ্পড় দিই। কেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্র ভাঙচুরের নাটক সাজিয়ে আমাকে পুলিশ দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে জেলায় এক লাখ ২১ হাজার টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর এবং কেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনা দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে স্বাস্থ্য বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’