দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ইপিজেড ব্যবসায়ী ও তার লোকজনের ওপর হামলা; রাতভর মহড়া

প্রকাশিত: ০০:৫০, ১৭ মে ২০২২

আপডেট: ০০:৫১, ১৭ মে ২০২২

দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ইপিজেড ব্যবসায়ী ও তার লোকজনের ওপর হামলা; রাতভর মহড়া

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইপিজেড ব্যবসায়ী সেলিম মজুমদারের ম্যানেজার মো. শাহপরান (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত এপ্রিলের ১৮ তারিখে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগও করা হয়।যার নং -১৯৪৬। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় আদমজী ইপিজেডের (ইপক-৭) গার্মেন্টস এর গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঐ সোমবার রাতেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তিন জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া মুনলাইট গার্মেন্টস এলাকার মৃত ইউসুফ আলী প্রধানের ছেলে প্রায় ডজন মামলার আসামি হান্নান প্রধান ওরফে হাজেরা হান্নান (৪০), সোনা মিয়া মার্কেট এলাকার মাইগ্যা কাদিরের ছেলে অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী মো. ফিরোজ (৩৮) ও আইলপাড়া এলাকার মুসলিম জাউল্লার ছেলে মিজান (৩০)। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে একাধিক মামলার আসামি হান্নান প্রধানের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ওই ব্যবসায়ীর উপর হামলা করে। হামলার সময় অভিযুক্ত ফিরোজ ব্যবসায়ীর পকেটে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা ও দুটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ীর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত হান্নান প্রধান ও তার লোকজন তাকে প্রান নাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।

তখন ব্যবসায়ী সেলিম মজুমদারের ম্যানেজার শাহপরানের  অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১৫ মে দুপুর ১২ টায় উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের সহযোগী জাহাঙ্গীর, আবুল, ইলিয়াস,পানি আকতারের বোনজামাই নুর হোসেন, গ্যাস মিজান সহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী আদমজী ইপিজেডে প্রাইম ব্যাংকের সামনে পূর্বের দাবীকৃত ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে  ইপিজেড ব্যবসায়ী সেলিম মজুমদারের বালুর ট্রাক গার্মেন্টস এর সাইডে যাওয়া সময় ইপিজেড গেটে আটকে দেয়। এসময় গাড়ির ড্রাইভার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকেও মারধর করা হয়। এদিকে গতকাল ১৬ মে রাতে দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা না পাওয়ায় ইপিজেড ব্যবসায়ী সেলিম মজুমদার ও তাঁর লোকজনের ওপর হামলার  উদ্দেশ্যে দেশীয়y অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাত সাড়ে এগারটায় আদমজী নতুন বাজার এলাকায় হামলা চালায় হান্নান প্রধান, ফিরোজ ও পানি আকতারের লোকজনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, রবিবার রাতে ১৫০/২০০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ছুরি, রামদা, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আদমজী বিহারী ক্যাম্পের আশপাশ ও নতুন বাজার এলাকায় ছোটাছুটি করতে থাকে। এসময় দুই থেকে তিন গ্রুপের লোকজনের দিগবেদিক ছোটাছুটি তে চার দিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে বলে তারা জানান। হামলায় ইপিজেড ব্যবসায়ী সেলিম মজুমদারের ৪/৫ জন লোক আহত হয়।পরে পুলিশ আসলে উভয় পক্ষ চারদিকে ছুটে পালালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে যেকোনো মুহুর্তে আবারও এ ওয়ার্ডে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।  

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে আদমজী ইপিজেডে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেখে এলাকার জনাসাধারনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, তার আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীরা আদমজী ইপিজেডের ২৬ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা করে আসছে। এতে করে বঞ্চিত আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সরকার দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা তার উপর দিন দিন ফুঁসে উঠছে। দূর্নীতির দায়ে কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে দুদকে মামলাও রয়েছে।অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন কি করে আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে এসে সন্ত্রাসীরা মহড়া দিয়ে বালুর ট্রাক থামিয়ে  চাঁদাবাজি করে।এ ব্যাপারে আদমজী ইপিজেডের ব্যবসায়ীরা নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।