ইসিতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কাউকে না রাখার প্রস্তাব তরিকতের

প্রকাশিত: ২০:০৭, ২৭ ডিসেম্বর ২০২১

ইসিতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কাউকে না রাখার প্রস্তাব তরিকতের

একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে চলমান সংলাপের চতুর্থ দিনে নির্বাচন কমিশনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী বা তাদের পরিবারবর্গের কাউকে না রাখার প্রস্তাবসহ চার দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (বিটিএফ)। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকাল চারটায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এই দাবি জানান বিটিএফ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি। সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, সংলাপে তরিকত ফেডারেশনের নেতারা স্বাধীন, কার্যকর, গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে চার দফা দাবি পেশ করেন। বিটিএফ নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৮(১) ধারায় নির্বাচন কমিশন আইনের কথা উল্লেখ থাকলেও বিগত কোনও সরকারই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা দরকার। পিটিএফ চেয়ারম্যান অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠনের ব্যাপারেও মত দেন। তবে বিষয়টি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য রাজনৈতিক দল ছাড়াও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় বা সংলাপের আহ্বান জানান। মাইজভান্ডারী প্রস্তাবিত অনুসন্ধান কমিটিতে গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব দেন। নির্বাচন কমিশনে যাতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বা তাদের পরিবারবর্গের কাউকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া না হয়, সেই  দাবি জানায় বিটিএফ। প্রেস সচিব জানান, বিটিএফ প্রতিনিধি দলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনই সংলাপের মূল লক্ষ্য।’ রাষ্ট্রপতি হামিদ আশা প্রকাশ করেন, পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি দক্ষ, শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে। তিনি ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন। গত ২০ ডিসেম্বর প্রথম দিনে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপে বসেন রাষ্ট্রপতি হামিদ। এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর বিকাল চারটায় বৈঠক হবে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে, ২৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকাল চারটায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ-এর সঙ্গে এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে আলোচনা হবে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায়, ২ জানুয়ারি  বৈঠক হবে গণফোরামের সঙ্গে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সঙ্গে একই দিন সন্ধ্যা সাতটায়, আগামী ৩ জানুয়ারি সংলাপ হবে গণতন্ত্রী পার্টির সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টায় এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে ওইদিন সন্ধ্যা সাতটায় সংলাপ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।  খবর: বাসস