চলছে না বাস, কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভোগান্তি

প্রকাশিত: ১৯:১১, ৬ নভেম্বর ২০২১

চলছে না বাস, কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভোগান্তি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতেও অনির্দিষ্টকালের জন্য চলছে পরিবহন ধর্মঘট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসা অন্তত এক হাজার পর্যটক।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) ছুটির দিন থাকায় বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা কুয়াকাটায় আসেন। শুক্রবার সারাদিন ঘোরাফেরা শেষে বিকালে বাস কাউন্টারে এসে শোনেন, জেলার অভ্যন্তরীণসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ।

কাউন্টারগুলো অগ্রিম টিকিট বিক্রি করলেও বাস না ছাড়ার কারণে টিকিট ফেরত নিচ্ছে। এদিকে, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস বন্ধ থাকলেও কুয়াকাটা থেকে খুলনা ও বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে বিআরটিসি বাস। তবে যাত্রীর ভিড় থাকায় সেগুলোতেও টিকিট পাওয়া মুশকিল। বাধ্য হয়ে কুয়াকাটায় থাকতে হচ্ছে পর্যটকদের। আবার অনেকে বিকল্প উপায়ে ঝুঁকি নিয়ে কুয়াকাটা ছেড়েছেন।

পর্যটক মো. রব্বানী বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার যশোর থেকে সপরিবারে কুয়াকাটায় ঘুরতে এসেছি। আজ বিকালে খুলনায় ফিরে যাবো, অগ্রিম টিকিটও করেছি। কিন্তু কাউন্টারে এসে শুনি গাড়ি বন্ধ। জরুরি কাজ আছে, তাই আগামীকাল অফিসে যেতে হবে। এখন চরম ভোগান্তিতে পড়লাম। বিআরটিসি বাস কাউন্টারে গিয়েও টিকিট পাইনি।’

বরিশাল থেকে আসা পর্যটক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৯ বন্ধু মিলে গতকাল বিকালে কুয়াকাটা ঘুরতে আসি। আমরা সবাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শুক্রবার ছুটির দিন, তাছাড়া করোনার কারণে অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। তাই কুয়াকাটায় ঘুরতে এসেছি, সারাদিন ভালো লেগেছে। বিকালে কাউন্টারে এসে দেখি বাস বন্ধ এখন চরম বিপাকে পড়েছি। হোটেলের রুমও ছেড়ে দিয়েছি।’

বাস কাউন্টার থেকে ফিরতে হচ্ছে পর্যটকদের
মাওয়া থেকে আসা পর্যটক সজল সাহা বলেন, ‘আমরা কয়েকজন এনজিওকর্মী বৃহস্পতিবার সকালে এসেছি। আজ সকালে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু গাড়ি বন্ধ থাকায় যেতে পারিনি। অপেক্ষায় ছিলাম বিকালে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু ছাড়েনি। এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেঙে ভেঙে মোটরসাইকেলে যাবো, এতে ভাড়া গুনতে হবে কয়েকগুণ বেশি।’

কুয়াকাটা এক্সপ্রেসের কাউন্টার ম্যানেজার আবুল কালাম বলেন, ‘গতকাল রাতে খুলনা, যশোর, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, শ্যামনগর, বগুড়া, হিলি, সিরাজগঞ্জ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার টিকিট বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে গাড়ি বন্ধ, তাই সবাই যাওয়ার জন্য আসছে এতে টিকিট রেখে টাকা  ফেরত দিচ্ছি।’

বাস যোগাযোগ বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলোতেও। অগ্রিম রুম বুকিং দিয়ে এখনও অনেকে কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেননি।

কুয়াকাটা হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জেনারেল এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, ‘বাস যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে পর্যটন খাত। একদিকে আজ শুক্রবার ছুটির দিন, অন্যদিকে পর্যটন মৌসুম। যদি দ্রুত এর সমাধান না হয় তাহলে পর্যটন শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতি।’

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘শুক্রবার সকালে বেশিরভাগ পর্যটক কুয়াকাটায় প্রবেশ করে, বিকালে ও পরদিন চলে যায়। যদি পরিবহন না ছাড়া হয় তাহলে বিকালে ও আগামীকাল পর্যটকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’

পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘প্রতি লিটারে ১৫ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুরু হয়েছে বাস ও ট্রাক ধর্মঘট। আমাদের দাবি, ভাড়া বৃদ্ধি করতে হবে, না হয় তেলের দাম কমাতে হবে।’