বৃহস্পতিবার   ২৮ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭   ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

৭২,৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২০  

 ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা মোকাবেলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। 

 

দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় কর্মপরিকল্পনা নিয়ে রবিবার (৫ এপ্রিল) গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এসব প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আশাকরি, পূর্বে ও আজকে ঘোষিত আর্থিক সহায়তার প্যাকেজগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে এবং আমরা কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি পৌঁছতে পারবো।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেউ কষ্ট পাক এটা আমাদের কাম্য নয়। সরকারিভাবে দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের দুর্দশা লাঘব করাই আমাদের দায়িত্ব। এই প্রণোদনা প্যাকেজের সুফল সবাই পাবেন। তবে কেউ কোনও অসততার আশ্রয় নেবেন না।”

 

সবাইকে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধিও আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সম্ভাব্য এই বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক সঙ্কট হতে উত্তরণের জন্য রপ্তানি খাতের পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের প্রতি আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে আমি সবাইকে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে আশ্চর্য এক সহনশীলতা ও ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যে জাতি মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে সে জাতিকে কোনো কিছুই দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”

 

গণভবনে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো তুলে ধরেন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান-

 

ক) আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থবছর শেষে এই হ্রাসের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

খ) চলমান মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংক সুদের হার হ্রাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

 

গ) সার্ভিস সেক্টর বিশেষত হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও এভিয়েশন সেক্টরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

 

ঘ) বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

 

ঙ) বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাসের কারণে এর মূল্য ৫০ শতাংশের অধিক হ্রাস পেয়েছে; যার বিরূপ প্রভাব পড়বে প্রবাসী-আয়ের ওপর।

 

চ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে মর্মে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রাক্কলন করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

 

ছ) দীর্ঘ ছুটি বা কার্যত লকডাউনের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদন বন্ধ এবং পরিবহন সেবা ব্যাহত হওয়ায় স্বল্পআয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা হতে পারে।

 

জ) চলতি অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হবে। এরফলে অর্থবছর শেষে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

 ঝ) বিগত ৩ বছর ধরে ধারাবাহিক ৭ শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। সামষ্টিক চলকসমূহের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর