বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

৪ মাসে যা করলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে চলতি বছরের ৪ আগষ্ট থেকে যোগদানের পর বিগত চার মাসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন এলাকাকে মাদকমুক্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিরোধ নিষ্পত্তি, কমিউনিটি পুলিশিং সভা, মাদক বিরোধী অভিযান, ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা প্রদান সহ ব্যপক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন মোহাম্মদ কামরুল ফারুক।

 
থানা এলকা মাদক মুক্তকরণ : যোগদানের পর হতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে ১০০% মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে থানা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশী অভিযান পরিচালনা করে ১৬৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ১৪০ টি মাদক মামলা রুজু করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশী অভিযানের প্রেক্ষিতে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে বিদেশে চলে যায়। 


অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে, এখন তারা ভালোভাবে জীবন যাপন করছে। মাদক অভিযানের প্রেক্ষিতে বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রায় ৮০% মাদকমুক্ত। পুলিশের এরুপ কার্যক্রম থানা এলাকার জনগনের মাঝে বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছে এবং পুলিশের ভাবমূর্তি দারুনভাবে উজ্জল হয়েছে।


আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন : পুলিশি ব্যাপক তৎপরতার কারণে এবং ওসি’র ব্যাক্তিগত উদ্যোগের কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অত্যন্ত উন্নতি হয়েছে। জনগণ তাদের সম্পদ ও জান-মাল নিয়ে নিরাপদে আছেন, যা উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মিটিংয়ে একাধিকবার প্রশংসিত হয়েছে।


গ্রেফতারী পরোয়ানা নিষ্পত্তি : ওসি কামরুল ফারুক সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যোগদানের সময় জিআর সিআর ও সাজাপ্রাপ্ত মোট ৩ হাজর ৬’শ ৩৩টি গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলতবী ছিল। অত্যন্ত পরিশ্রম করে সকল অফিসারদের সহযোগীতায় জিআর, সিআর, সাজাপ্রাপ্ত সর্বমোট ২ হাজার ১’শ ১৫টি গ্রেফতারী পরোয়ানা নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হন বলে জানান তিনি। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সহ থানা এলাকায় পুলিশের ভাবমূর্তি দারুনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলতবী গ্রেফতারী পরোয়ানা ৫৮.৬২% নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


বহুল আলোচিত ট্রিপল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন : গত ১৯ সেপ্টেম্বর আসামী আব্বাস (৪০) পিতা-মোঃ কালাম গ্রামঃ-আটালিয়াপুর থানা-পটুয়াখালী পারিবারিক দ্বন্দের কারণে তার আপন শ্যালিকা নাজমিন (২৬), মেয়ে নুসরাত (৮), সুনাইনা ওরফে সায়মা (২) কে জবাই করে হত্যা করে এবং তার নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া (১৫) কে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে। 


উক্ত হত্যার ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার মাত্র ৫ ঘন্টার মধ্যে ওসি নিজে অপারেশন পরিচালনা করে মূল হত্যাকারী আব্বাসকে গ্রেফতার করেন। উক্ত আসামী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দী প্রদান করে ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করে। ঘটনার মাত্র ৫ ঘন্টার মধ্যে মূল হত্যাকারী গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় পুলিশের ভাব মুর্তি দারুনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনগনের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।


“ওপেন হাউস  ডে” ও “কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ”: নি¤œ স্বাক্ষরকারী আলোচ্য সময়ে ৪টি ওপেন হাউস ডে, ২০ কমিউনিটি পুলিশিং সভায় অংশগ্রহনের মাধ্যমে মাদক, জুয়া, বাল্য বিবাহ, জঙ্গীবাদ, চুরি, ডাকাতি প্রতিরোধ সহ থানার অপরাধ নিয়ন্ত্রনে সক্ষম হয়েছেন।

 

নিয়মিত “ওপেন হাউস ডে” ও “কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ”, বিভিন্ন প্রকার সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রন কার্যক্রমে অংশগ্রহন, জনসাধারনের অংশগ্রহন বৃদ্ধি ও মিডিয়া সদস্যদের সহযোগীতা গ্রহন। সর্বমহলে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলশ্রুতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রনের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে।


স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় বক্তব্য প্রদান : সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে উপস্থিত হযে অধ্যায়নরত বিভিন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে এবং ধর্মীয় সভায় মাদকের কুফল, বাল্য বিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং, জুয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ মূলক কর্মকান্ড সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন ওসি কামরুল ফারুক। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুলিশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা তৈরি হয়েছে এবং পুলিশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।


জঙ্গী গ্রেফতার সংক্রান্তে তথ্য : পুলিশি তৎপরতার কারণে জঙ্গীরা মাথাচারা দিতে পারেনি। এতে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া সহ সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।


শুক্রবারে জুম্মার খুতবার পূর্বে বক্তব্য প্রদান: থানা এলাকায় বিভিন্ন মসজিদে শুক্রবারে খুতবা পাঠ করার পূর্বে মাদক, জঙ্গীবাদ, ইভটিজিং, যৌতুক, বাল্য বিবাহ, জুয়া সম্পর্কে মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন ওসি। যার ফলে জনগনের মাঝে এই সকল বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি সহ পুলিশ সম্পর্কে জনগনের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।


ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা: বাংলাদেশের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা একটি গুরুত্বপূর্ণ থানা। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন অনেক ভিভিআইপি যাতায়াত করে থাকেন। ভিভিআইপিগন যাতে নিরাপত্তার সহিত ও দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌছাতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করেন তিনি। প্রথমবারের মত পবিত্র ঈদ-উল আযহার সময় কোন রকম যানযট ও ঝামেলা ছাড়া জনসাধারণ নির্বিঘেœ বাসায় যেতে পেরেছে।


কেপি আই সহ শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা : সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় ৭ (সাত) টি কেপিআই আছে। এই কেপি আই গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। কেপিআই গুলো ছাড়াও ইপিজেড এবং প্রায় ৩’শ এর মত শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে অনেক বিদেশী নাগরিক কর্মরত আছেন। কেপিআই, ইপিজেড ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সহ বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করায় এলাকায় পুলিশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর