বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

৪ বছর পর তোলারাম কলেজে বেড়েছে পাসের হার

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ৪ বছর পরে কলেজের ফলাফলের মানের উন্নতি হয়েছে। একদিকে পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে অন্যদিকে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। 


২০১৪ সালের পর থেকে পরীক্ষার ফলাফল অবনতির দিকে যেতে থাকে। ২০১৮ সালের পরীক্ষার ফলাফলেও একই ধারা দেখা যায়। কিন্তু এই বছর পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন দেখা যায় বিশাল পরিবর্তন। 


২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। গতবছর পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গতবছরের তুলনায় পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ। একই সাথে গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১২ জন। কিন্তু এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ জন।  


বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে এই তথ্য পাওয়া যায়। 
তোলারাম কলেজে এই বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩৩১১ জন। যাদের মধ্যে পাস করেছে ২৫১৯ জন। ফেল করেছে ৭৯২ জন। 


২০১৪ সালে তোলারাম কলেজের পাশের হার ৮৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭৯ জন শিক্ষার্থী। ২৩৮৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ২০৯৪ জন। এই বছরের পরে প্রতি বছর কলেজের পরীক্ষার ফলাফল অবনতির দিকে যেতে থাকে।


২০১৫ সালে সে বছর তোলারাম কলেজের ছিল পাসের হার ৭২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ২৯ জন শিক্ষার্থী। ২২৬৩ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ১৬৪৪ জন।


পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তোলারাম কলেজে পাশের হার ৬৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। জিপিএ- ৫ পায় ১১৮ জন শিক্ষার্থী। তোলারাম কলেজে ২৭১৫ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অকৃতকার্য হয় ৮২২ জন। 


২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ২৫ জন। ২৭৪৫ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অকৃতকার্য হয় ৯১৯ জন।
২০১৮ সালে পরীক্ষার ফলাফল আরও শোচনীয় হয়ে দাড়াঁয়। পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ১২ জন। ৩০৮৯ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অকৃতকার্য হয় ১৭৬০ জন।


তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানী সিংহ কলেজের এইচএসসি ফলাফলের বিষয়ে বলেন, আমি গত বছর এই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করি। আমি এসেই বলেছিলাম কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টা করব।

সেই অনুযায়ী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত ক্লাসে আসা, ব্যবহারিক গুলো যেমন ঠিকমত করে, পরীক্ষাগুলো যেন ঠিকভাবে দেয় এই বিষয়গুলোতে মূলত নজর দিয়েছিলাম। 


এছাড়া অভিভাবক সভা করেছি। অভিভাবকদের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার উপর জোর দিতে বলেছি। অভিভাবকদের হাতেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল দিয়েছি। যেন অভিভাবকরা তাদের সন্তানের পড়াশোনায় উপর আরো গুরুত্ব দেয় এবং যতœশীল হয়।


তিনি আরো বলেন, আমি পাসের এই হারে পুরোপুরি খুশি নাহ। পাসের হার আরো বাড়াতে চাই। এজনর‌্য আরো কঠোর সিদ্ধান্ত নিবো আমি। যে শিক্ষার্থীরা ফেল করবে বা পরীক্ষা দিবে না তাদেরকে কোনভাবেই উর্ত্তীণ করা হবে না।   


উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জে চলতি বছরে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় ২১ হাজার ৪৭০ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন ১৫ হাজার ৪৮৭ জন। ফেল করেছেন ৫ হাজার ৯৮৩ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ১৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন।
 

এই বিভাগের আরো খবর