শুক্রবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

৩ ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন : ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা ২৪ : মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিন ভাই। পাওনা টাকা ফেরত না দেয়ার ষড়যন্ত্রর করে তাদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তারা  অভিযোগ করেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মোলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মোলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী তিন ভাই জোবায়ের শিকদার, সুমন শিকদার, হোসেন শিকদার ও তাদের মা আছিয়া খাতুন।

 


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হোসেন শিকদার বলেন, আমার পিতা নিতাইগঞ্জের একজন  গম ব্যবসায়ী ছিলেন  এবং দুইটি ময়দার মিলের মালিক ছিলেন। তার পেশার  ধারাবাহিকতায় আমরা তিন ভাই এ ব্যবসায় করছি। ব্যাবসায়িক কারণে সৈয়দপুর গোগনগর ফকিরবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী হাছান ফকিরের কাছে আমরা তিন ভাই ব্যবসায়িক সংক্রান্ত লেনদেন বাবদ ৭০ লক্ষ টাকা পাওনা ছিলাম।

 

অর্থ পরিশোধ না করে তার নিজ দোকান মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ ও সৈয়দপুর ট্রেডার্স নামে উল্লেখিত টাকার চেক সবাইকে আলাদাভাবে দিয়ে মার্কেট থেকে চলে যায়।  সেই চেকের মেয়াদ ৬ মাস পেরিয়ে গেলে তিনি ৩ মাস সময় নিয়ে স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে দেন যে, সে মরে গেলেও তার ওয়ারিশগণ তার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দিবে বলে আশ্বস্ত করেন। তিন মাস পার হয়ে গেলে আমরা ওই চেকের মাধ্যমে ডিস-অনার মামলা দিয়ে থাকি।


পরবর্তীতে বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হলে তার পরিবারের সম্মুখে বলে সে ১ মাসের মধ্যে ৫৫ লাখ টাকা দিবে। তারপর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায় আমার সম্পদ সবই এজমালি। পরিবারের অনেকের খামখেয়ালির কারণে জায়গাগুলো বিক্রি হচ্ছে না। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বিকেলে জানতে পারি হাছান সরকারের সাথে তার সম্পর্কিত আত্মীয় আরেক পাওনাদার মামুনের সাথে হাতাহাতি হয়।

 

কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কিছুক্ষণের মধ্যেই আপোষ হয়ে যায়। এর পরে ১০ ডিসেম্বর জানতে পারি হাছান ফকির আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনার ৮ দিন পর হাছানের স্ত্রী আশা মনি পিংকি আমাদের ৩ ভাইয়ের নামে সদর থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনামূলক মামলা দায়ের করে। এজাহারে বলা হয়, আমরা ১০ বছর ধরে ব্যবসায়িক লভ্যাংশ নেই।


সম্মেলনে হোসেন শিকদার বলেন, আমি ব্যবসা শুরু করি ২০১৫ সালের শেষের দিকে আর হাছানের সাথে লেনদেন শুরু ২০১৮ তে। তাহলে ১০ বছর কিভাবে হয়? এছাড়া এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে গত ৩ ডিসেম্বর নাকি আমরা ৩ জন তাকে মেরেছি। কিন্তু ঐ দিন তার সাথে মারামারি হয়েছে অন্যজনের সাথে।

 

সেখানে আমাদের নাম জড়ালো কিভাবে? তার পরিবারের সাথে আমরা বসতে চেয়েছি কিন্তু তার ভাই সুলতান ফকির বলছে যদি আমরা আমাদের পাওনা টাকার দাবী ছেড়ে দেই তাহলে তাহলে মামলা তুলে নিবে নয়ত জেলা খাটানোর জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন তাই করবে।


তিনি আরো বলেন, খুব শীগ্রই আমাদের তদন্তের প্রতিবেদন চাচ্ছি । কারন আমার মা শারিরিক ও মানুসিকভাবে অসুস্থ। তা না হলে আমাদের পরিবার ও আমাদেরকে যেরূপ হয়রানির স্বীকার হতে হয়েছে ও হচ্ছে তার জন্য যদি আমার পরিবারের কোন সদস্যের যদি কোন ক্ষতি হয় তাহলে তার দায়ভার কে নিবে? আমরা এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি।

 

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মহোদয়, চেম্বার অব কমার্স, এসপি ও ডিসির কাছে আবেদন জানাই যাতে আমাদের পাওনা টাকা ও হয়রানিমূলক মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর