সোমবার   ২৫ মার্চ ২০১৯   চৈত্র ১১ ১৪২৫   ১৮ রজব ১৪৪০

১১তম গ্রেড বেতন পুনঃ নির্ধারণ করার দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সোহেব তানবীর বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরে আগে বেতন বৈষম্য ছিলো না। তারা যে গ্রেডে বেতন পেতো, আমরাও সেই গ্রেডে বেতন পেতাম। অথচ পরে এটাকে বেতন বৈষম্য সৃষ্টি করা হয় ।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকালে প্রেসক্লাবের সামনে ১১তম গ্রেড বেতন পুনঃ নির্ধারণ করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতি সম্বনয় মানবন্ধন করে। 

আমরা  এই সরকারের মাধ্যমে বেতন বৈষম্য নিরসন হোক এটাই চাই। প্রধান শিক্ষকের যে গ্রেডে বেতন হয় সহকারী শিক্ষককেও একই গ্রেডে বেতন  দিতে হবে। আমারা কোনো সহকারী শিক্ষক পদ চাই না। প্রয়োজনে অফিস সহকারী দেওয়া হোক। অফিস সহকারী দিলে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদটা পূরণ হয়ে যাবে। 

আড়াইহাজার থেকে আসা  শিক্ষক আল-মামুন জানান, বর্তমানে ১১ গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু কিছু দিন আগে উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী প্রদান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের ১৪তম গ্রেডে রাখা হয়েছে। এতে বড় ধরণের ব্যবধান তৈরি করছে।

এতে বর্তমানে শিক্ষকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষদের ও সহকারীদের মূল বেতনের ব্যবধান হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেডে বাস্তবায়ন করা হয়। এতে ব্যবধান  হয় ৪ হাজার ৭০০শ টাকা। এতে বেতন বৈষম্য নিরষন তো হবেই না বরং আরো বৃদ্ধি করবে ।

তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা আবেদন জানাই, প্রাথমিক শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বঙ্গবন্ধু যে একধাপ নিচে রেখে ছিলো। আমারা যেনো প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে বেতন পাই তার নিশ্চিত করুন। যেখানে জুনিয়র স্কুলে  সহকারী প্রধান শিক্ষক নাই, সেখানে প্রাথমিক স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকের পোষ্ট প্রয়োজন মনে করি না।


 মানবন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ১৯৭৩ সালে যখন বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। তখন প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকগণ বেতন পেতেন একই গ্রেডে । কিন্তু তারপর ১ জুলাই ১৯৭৭ সালে সহকারী শিক্ষকদের ১ ধাপ শিক্ষক ও সহকারী  শিক্ষকের মূল বেতনের ব্যবধান ২ হাজার ৩০০ টাকা প্রধান শিক্ষকগণ ২য় শ্রেণিভূক্ত হওয়ায় ১০ম গ্রেডে পায় তাদের অধিকার । আমরাও চাই তাদের ১০ম গ্রেডে প্রদান করা হোক।

তবে আমাদের যদি ১২তম গ্রেড প্রদান করা হয় তাহালে চাকুরীর শুরুতে বেতন ব্যবধান হবে (১৬০০০-১১৩০০) ৪৭০০ টাকা যা একেবারেই অমানবিক।
এছাড়া বক্তারা বলেন, শতভাগ পদোন্নতিসহ ৯ মার্চ ২০১৪ তারিখে থেকে ১১ তম গ্রেড বেতন পুনঃ নির্ধারণ করার দাবী জানাই, সহকারী প্রধান শিক্ষকপদ সৃষ্টি না করা।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বেতন বৈষম্য নিরসন করাসহ  দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নন-ভোকেশনাল হিসেবে ঘোষণা করা হোক। প্রাথমিক শিক্ষদের সম্মানজনক টিফিন ভাতা প্রদান করা হোক।

এই বিভাগের আরো খবর