বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ২ ১৪২৬   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

১০ মাসেই শীতলক্ষ্যায় ডুবলো বন্দরবাসীর ফেরির স্বপ্ন

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০১৯  

নুসরাত জাহান সুপ্তি (যুগের চিন্তা ২৪) : শীতলক্ষ্যা নদীর দুইপাড়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিদ্বার্থে ৫নং ঘাটে ফেরি সার্ভিসের চালু করা হয় গত বছর। কিন্তু এক বছর না পেরুতেই সেই স্বপ্ন ডুবছে শীতলক্ষ্যার জলে। 


গত বছর ২১ আগষ্ট বন্দরবাসীর যাতায়াতের সুবিধার জন্য ৫নং ঘাট - বন্দর ঘাট পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একে এম সেলিম ওসমান। 


দুটি ফেরি নিয়ে এই রুটে ফেরির সার্ভিস শুরু হলেও একটি ফেরি দিয়েই চলছিল  যাতায়াতের কার্যক্রম। পরবর্তীতে একটি ফেরি নবীগঞ্জ ঘাটে চলাচলের সুবিদ্বার্থে স্থানান্তর করা হয়। 


গত ঈদুল আযহায় অবশিষ্ট ফেরিটিও নবীগঞ্জ ঘাটে স্থানান্তর করা হয়। তারপর থেকেই ফেরি শূন্য হয়ে থাকে ৫নং ঘাট। বন্দরঘাটের মানুষ আশায় ছিল ঈদের পরে ফেরি আবার ৫নং ঘাটে নিয়ে আশা হবে। কিন্তু  তেমন কোন ব্যবস্থাই হয়নি। বরং  ফেরির পল্টুন সংরক্ষণের অভাবে নদীর পানিতে ডুবে গেছে।  


রোববার (২৩ জুন) সরজমিনে দেখা যায়, ৫ নং ঘাটে ফেরি সার্ভিস এখন পুরোপুরি বন্ধ। একটি ফেরিও নেই। এদিকে সংরক্ষনের অভাবে ফেরির পল্টুন ফুটো হয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। 


ফেরিতে উঠা-নামা করার রাস্তাটিও পানিতে তলিয়ে  গেছে। রাস্তাটির আংশিক অংশ পানির উপরে উঠে আছে। আর সেই অংশটি সেখানের মানুষের গোসল করার ঘাট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।


 ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এখন নৌকায়ই ভরসা বন্দরবাসীর। প্রতিদিনই কষ্ট করে পারাপার হতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে। হঠাৎ ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবার  ফেরির আশা ছেড়েই দিয়েছেন বন্দরবাসী। 


বন্দরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, আমাদের পারাপারের জন্য ফেরিটা অনেক প্রয়োজন ছিল। অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট হয়। দুইটা  ফেরি ছিল সেখানে এখন একটাও নেই। তাছাড়া পল্টুনটাও ডুবে গেছে। আর মনে হয় না এই জায়গায় ফেরি চলব।


একই এলাকার ভ্যান চালক হলুদ মিয়া বলেন, ফেরি হওয়াতে আমার অনেক সুবিধা হইছিল। এখন ভ্যান নিয়া অনেক ঘুইরা নবীগঞ্জ দিয়ে যাইতে হয়। 


ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, আমাদের ফেরি সার্ভিসের রুটে যেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল এর পরিকল্পনাটি সঠিক ছিল না। অনেকটা ঘুরে ফেরি চলাচল করত। এই কারণে অনেক সময় লাগত।


ফেরির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের সাথে কথা হলে তারা জানায়, সময় বেশি লাগে তাই যাত্রী কম হতো এখানে। পরবর্তীতে ফেরিতে লাভ হয় না হওয়ায় নবীগঞ্জ ঘাটের ফেরি নষ্ট হলে এখান থেকে ফেরি নিয়ে গেছে।


৫নং ঘাটের ফেরির সার্ভিস সম্পর্কে কথা বলার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ রোড ডিভিশন-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের সাথে মুঠোফেনে যোগাযোগ করা হয়।


কিন্তু তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি ফোন কেটে দেয়। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেন নাই।
 

এই বিভাগের আরো খবর