শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

হতাশা ছিলো, ফতুল্লার সম্মেলনে এসে কেটে গেলো : খোকন সাহা

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪): মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.খোকন সাহা বলেছেন, একটা হতাশার মধ্যে থেকেও এই সম্মেলনটি দেখে, আজকে আমার হতশা ভাবটা কেটে গেলো। আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন কি হতাশা আমার? গত দুদিন আগে পত্রিকাতে দেখলাম ২২ মাস ১৭ দিন পরে আমাদের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র (আইভী)— নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, চঞ্চল ও সাজনুসহ অনেক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমার প্রশ্ন এতোদিন পরে কেন মামলা? উনি কার ‘পারপাস সার্ভ’ (উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রাণান্তর চেষ্টা) করতে চান? উনি কি প্রিয়া সাহা এবং খালেদা জিয়ার মতো বিশ্বকে দেখাতে চান যে, বাংলাদেশের একজন মেয়র মামলা করতে পারেনি হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে মামলা করতে হয়েছে। এটা একটা সংকেত।

 

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার লামাপাড়ায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল এমিউজম্যান্ট (নম) পার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।     

 

তিনি বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়ার ভাষায় দেশের আইন তার পক্ষে না। আর আমাদের মেয়র (আইভী) যেভাবে মামলা করলেন সেভাবে উনি প্রমাণ করতে চাইলেন যে, উনি আওয়মী লীগের হয়েও মামলা করতে পারছেন না। উনি বিবাদী করেছেন সরকারকে। আমি সরকারি দলের লোক তাই আমিতো সরকারি দলের লোক হয়ে সরকারকে বিবাদী করে মামলা করতে পারিনা কিন্তু উনি তাই করেছেন। নিয়াজুলকে আঘাত করে রাস্তায় ফেলে রাখা হলো এবং তার লাইসেন্স করা অস্ত্রটিও ছিনিয়ে নেয়া হলো। নিয়াজুল মামলা করলেন থানাতে সেই মামলা গ্রহণ করলেনা না। আজকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখলাম মেয়রের মামলা পেয়ে কোন হকার বন্ধুরা নেই, কোন বাম-দামের নেতারাও নেই। সেটাতো হকার উচ্ছেদের আন্দোলন ছিলো সেখানে আমাদের দলীয় নেতাদের কোন ভূমিকা ছিলোনা। কিন্তু মামলায় তাঁদেরকেই আসামী করা হয়েছে। উনি কাদের পার্পাস সার্ভ করলেন? উনি ম্যাডাম খালেদা জিয়ার পারপাস সার্ভ করলেন। উনি জামাতে ইসলামের পার্পাস সার্ভ করে প্রমাণ করলেন যে, উনি আওয়ামী লীগের মেয়র হয়েও ২২ মাস ১৭ দিন পরে আদালতের নির্দেশক্রমে মাললা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা জানি কার ইঙ্গিতে এসব হচ্ছে। কার ইঙ্গিতে কার নির্দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর মামলা করা হলো সেটা আমরা জানি। এটার পিছরে সুদূর প্রসারীত কল্পনা রয়েছে। উনি জামাত কিংবা বিএনপিকে খুশি করতে চান। উনি জামাত বিএনপিকে খুশি করার জন্য ২২ মাস ১৭ দিন পরে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করলেন। উনি বিশ্বকে দেখালেন উনি আওয়ামী লীগ করেন কিন্তু উনি নিজেও আইনের শাসন পাচ্ছেনা। আইন তাকে সমর্থন দিচ্ছেনা এটাই উনি প্রমান করতে চেষ্টা করছেন। করবেন আওয়ামী লীগ পারপাস সার্ভ করবেন বিএনপি জামাতের এসব হবেনা। আমরা পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই কাদের পারপাস সার্ভ করলেন? তাদের দলে ঢুকে যান। আমাদের ছেলেরা অনেক জেল খেটে অভ্যাস আছে। এই সমস্ত মামলায় আমাদের শাহ নিজাম আমাদের হেলাল, বিপ্লব, সাজনু এরা কখনো ভয় পায়না। মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের ছেলেদের অগ্রযাত্রাকে বন্ধ করতে পারবেন না।

 

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নারায়গঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল, সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল, মহানগর আওয়ামী লীগের  সহসভাপতি বাবু চন্দন শীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে পূর্বের কমিটির সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল ও সেক্রেটারি এম শওকত আলীর নামই সভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।  

এই বিভাগের আরো খবর