শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৮ সফর ১৪৪১

হকার বসানোর পায়তারায় প্রভাবশালী পক্ষ ! ছাড় দিবেনা পুলিশ

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : উচ্ছেদ হওয়া হকাররা ফুটপাথ দখল করে আবারো বসার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 


আর তাদের নেপথ্যে উস্কানী দিয়ে নারায়ণগঞ্জে অশান্ত করার পায়তারা করছে হকারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে সোয়া কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায়কারি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষটি। তবে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে হকার বিষয়ে তারা আগের অবস্থানেই থাকবে। 


এসপি হারুন দেশের বাইরে গেছেন এমন সংবাদের ভিত্তিতেই গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ মিনারে হকারদের জড়ো হতে বলেছিলেন হকার্স লীগের সভাপতি রহিম মুন্সী। এসময় শহীদ মিনার চত্ত্বরের ভেতরে ও বাইরে পুলিশের সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। 


এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিলো আতংক। ফলে ২০১৮ সালের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশংকা প্রকাশ করছেন অনেকেই। তবে হকারদের এ ধরনের পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। 


এ সময় হকার্স লীগের সভাপতি রহিম মুন্সী বলে, সেখানে জড়ো হয়ে সন্ধ্যায় রাইফেলস ক্লাবে নারায়ণগঞ্জ-৪  আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে দেখা করাই ছিলো তাদের মূল উদ্দেশ্য। 


এমপি শামীম ওসমানের সাথে কথা বলে আবারও ফুটপাতে বসার সুযোগ করে দেয়া যায় কিনা এটিই ছিলো প্রস্তাবনা। তবে এমপি শামীম ওসমান রাইফেলস ক্লাবে না আসায় হকাররা সন্ধ্যা পর্যন্ত শহীদ মিনারে কাটিয়েই যে যার মতো করে চলে গেছেন।

 
হকার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কিছু হকার নেতা যারা একই সাথে ছিলেন ফুটপাথের দোকানদার ও হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার দায়িত্বে তারা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের উস্কানীতে আবারো ফুটপাথ ইস্যুতে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। 


তারা সম্প্রতি ফুটপাথ থেকে চাঁদা আদায়কারি ঐ রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতার সাথে বৈঠক করেছে। তারা ফুটপাথে বসার দাবীতে আবারো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর পায়তারা করছে। 


২০১৮ এর জানুয়ারীর শুরুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাথ থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেন। পাল্টা সমাবেশ করে এমপি এ কে এম শামীম ওসমান ফুটপাথে হকারদের বসতে দেয়ার ‘নির্দেশ’ দেন। 


২০১৮ এর ১৬ জানুয়ারী আইভী হকার উচ্ছেদ করে প্রেসক্লাবের সামনে আসলে শামীম ওসমান সমর্থকরা মেয়রের উপর হামলা চালায়। এতে মেয়র আইভী, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজসহ শতাধিক আহত হয়। 


এরপর গণমাধ্যমে শামীম ওসমান আইভীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে যদি বসতে দিতে না চান সেজন্য আইন আছে, আর আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একনেকের বৈঠকে পরিষ্কার বলেছেন, কাউকে উচ্ছেদের আগে পুর্নবাসন করতে হবে। 


ঢাকা সিটি করপোরেশনে তাই হয়েছে। তো নারায়ণগঞ্জে আলাদা হবে কেন? যে নেত্রী দশ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেন, এবং দেওয়ার পর বলেন, ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে দশ লাখকেও খাওয়াতো পারবো, তো এরা কী মানুষ না?’


এদিকে, গত ১৫ জুন এসপি হারুন নিজেই ফোর্স নিয়ে চাষাঢ়া থেকে শুরু করে নগর ভবন পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ করেন। ওই সময় হ্যান্ড মাইক হাতে তিনি হকারদের ফুটপাথে বসা যে বেআইনি তা বোঝাতে সক্ষম হন। 


 ২৯ জুন মীরজুমলা সড়কের দুই পাশের অবৈধ দোকান পাট স্থপানা উচ্ছেদ করেন তিনি। এরপর পরদিন ৩০ জুন এ সড়ক পরিদর্শনকালে এসপি হারুন বলেন, আমরা যখন জানলাম এখানে (মীরজুমলা সড়ক) একটি রাস্তা ছিলো এবং কিছু লোক এই রাস্তার দুই পাশে দোকাল বসিয়ে চাঁদা তোলে, ঠিক তখনই আমরা এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। 


কারণ এখান দিয়ে মানুষ চলাচল করবে। বাস চলাচল করবে। বিভিন্ন গাড়ি চলাচল করবে। এদিকে তো দোকান বসিয়ে তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়াটা ঠিক হবেনা। কিন্তু যদি কেউ এই রাস্তাটিতে বাজারের পণ্য লোডিং-আনলোডিং করতে চায় সেক্ষেত্রে তাঁরা রাত ১টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এই রাস্তাটি ব্যবহার করতে পারে।


তিনি আরো বলেণ, চাষাঢ়া থেকে নগর ভবন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশই থাকবে হকারমুক্ত। এবং যারা হকারদের বসাতে চান তারা অন্যত্র তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন। 


একটি ব্যাংকে চাকরি করেন তাসলিমা আক্তার। তিনি বললেন, আমার অফিসের প্রবেশ পথের দুইপাশে হকাররা প্রায় মার্কেট বসিয়ে ফেলেছিলো। তাদের দোকানের কারনে প্রচুর লোক ফুটপাথে দাড়িয়ে থাকতো। 


ভীড় লেগে থাকতো। ফলে ইচ্ছে হলেও ফুটপাথ দিয়ে যাওয়ার উপায় ছিলোনা। কাউকে কিছু বলারও যেনো ছিলোনা। হকার উচ্ছেদ হওয়ার পরে এখন স্বাচ্ছন্দে অফিসে যেতে পারছি। 


মন্ডলপাড়ার চাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লিটন জানান, চাষাড়া থেকে নিতাইগঞ্জে আসতে প্রায় আধঘন্টা লেগে যেতো। এখন রিকশায় উঠছি আর চলে আসছি। ফুটপাথ উচ্ছেদ হওয়ার পরে যানজট বেশ কমে গেছে। 


নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, সাধারন মানুষ চায়না ফুটপাথে হকার বসুক। তারা ফুটপাথের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদকে স্বাগত জানিয়েছে। শহর একটি নিয়মের মধ্যে এসেছে। 


আমরা চাই এ পরিস্থিতি অব্যহত থাকুক। যারা ফুটপাথ থেকে কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় করে তারা ফুটপাথে আবার অবৈধ দখলদারদের বসানোর চেষ্টা করবে এটা স্বাভাবিক। এখন প্রশাসনের দায়িত্ব অবৈধদের বসানোর কেউ চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। 


এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের ইন্টিলিজেন্স অফিসার-২ (ডিআই-টু ডিএসবি) সাজ্জাদ রোমন জানান, হকার বিষয়ে পুলিশ আগের অবস্থানেই আছে। কোনো অবৈধ দখলদারকে ফুটপাথে বসতে দেয়া হবেনা। এ ব্যাপারে পুলিশ কোনো ছাড় দেবেনা। 
 

এই বিভাগের আরো খবর