সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯   বৈশাখ ৮ ১৪২৬   ১৬ শা'বান ১৪৪০

স্বামীর খুনীদের সামনে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন সেলিমের স্ত্রী(ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : টাকা ফেরত চাওয়াতে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হন ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার বাসিন্দা ঝুট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী (৫২)।  এহত্যা মামলার মূল হোতা আসামী মোহাম্মদ আলী ও মো. সোলায়মান মিয়াকে সোমবার দুপুরে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতে আসামীদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 


এদিকে আদালত থেকে আসামীদের নিয়ে যাওয়ার সময় স্বামীর খুনিদের সামনে পেয়ে মনের চাপা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নিহতের সেলিমের স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মাত্র ২ লাখ টাকার জন্য আমার স্বামীকে হত্যা করেছে তারা। এই হত্যার ঘটনা স্বীকারও করেছে আসামীরা ।

 

মামলার প্রধান আসামী মোহাম্মদ আলীর কাছে আমার স্বামী টাকা পেতো সেই পাওনা টাকা আনতে গেলে তারা কয়েকজন মিলে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে । আমি এদেশের আইন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। পুলিশ আমার স্বামী হত্যাকারীদের গ্রেফতার করেছে।

 

হত্যাকারীরা যেন টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে না যায় । আসামীরা স্বীকার করার পরেও যদি আমার স্বামীর বিচার আমি না পাই তাহলে আমি আমার সন্তানকে নিয়ে চাষাড়া শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করে দেখিয়ে দিব এইদেশে আইন নাই। আর এই আত্মহত্যার জন্য দায়ী থাকবে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।


প্রসঙ্গত, ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক ফয়সাল। ফয়সাল জবানবন্দিতে বলেন, ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে এবং তাঁর উপস্থিতিতে সেলিমকে হত্যা করে সে। 
নিহত সেলিম চৌধুরী বক্তাবলীর কানাইনগর এলাকার মৃত শামসুল হক চৌধুরীর ছেলে। সেলিম চৌধুরী শিবু মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে বসবাস করতো। গত ৩১ মার্চ সকালে বাসা হতে ব্যবসার কাজের উদ্দেশ্যে বাহির হন সেলিম।


ব্যবসায়ের সুবাদে আরেক ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীকে ২ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন সেলিম। আর ওই টাকা  ফেরত নিতে গিয়েই  নির্মমহত্যাকান্ডের স্বীকার হয় ব্যবসায়ী সেলিম। মোহাম্মদ আলী সদর থানা ডিগ্রীরচর এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে ও সোলায়মান মিয়া ফতুল্লা থানা পশ্চিম গোপালনগর এলাকার মৃত আব্দুল সামাদ মিয়ার ছেলে।  


সোলায়মান জানায়, ব্যবসায়ের সুবাদে সেলিম চৌধুরী প্রায়ই মোহাম্মদ আলী আর্থিকভাবে সহায়তা করতো। গত ৩১ মার্চ  দুপুরে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী সেলিমকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে গোডাউনে ডাকে। সেলিমকে  মোহাম্মদ আলী তার কথা মত ২ লাখ ৬ হাজার টাকা দেয়।


টাকা দেয়ার সময় কর্মচারী সে, লেবার আলী ও আরো একজন সামনেই উপস্থিত ছিলো। সেলিম টাকা নিয়ে বের হওয়ার সময় আলী তার ঘাড়ে রড দিয়ে সজোরে আঘাত করে। আঘাতের পরপরই সেলিম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার মুখ, হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। পরে আহত অবস্থায় ৩১ মার্চ রাতেই মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে গোডাউনের একপাশে সেলিমকে বস্তাবন্দি করে মাটি চাপা দিয়ে পুঁতে রাখা হয়।
 

এই বিভাগের আরো খবর