রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

সোনারগাঁয়ে পাঁচ মামলার ওয়ারেন্টের আসামীরা প্রকাশ্যে, জনমনে আতঙ্ক

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৯  

সোনারগাঁ (যুগের চিন্তা ২৪) : সোনারগাঁ উপজেলার টেমদী গ্রামে হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীরা এলাকায় পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। 


এতে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এলাকাবাসির মধ্যে। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগিরা।


উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়ণের টেমদী গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহবুব মিয়াকে গত বছরে ৩১ শে ডিসেম্বর পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে একই এলাকার এসহাক মিয়া ও তার সহযোগিরা। পরে হত্যা মামলার আসামিরা বাদি পক্ষের আত্মীয় মামুন মিয়, ডাঃ হালিম মিয়া ও সফিউল্লার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। 


পরে সন্ত্রাসীরা হাদু মিয়া, আলম মিয়া, মামুন হোসেন, মনির হোসেন, আলআমিনকে পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করেন। পৃথক ঘটনায় থানায় চারটি মামলা দায়ের করার পর আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। 


এর পর আসামী ইসহাক মিয়া, হারুন মিয়া, জাকির হোসেন, কবির হোসেন, আল আমিন, আলমগীর হোসেন, রবিন হোসেন, আবু হানিফ, মোমেন মিয়া, মাছুম মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আমিন উদ্দিন সহ বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামীরা গত ১৫ দিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোড়াফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।


এদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মামলার বাদিদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে আসামীরা। এতে বাদী পক্ষের লোকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। 


মামলার বাদী তাহসীন মিয়া বলেন, এসহাক মিয়ার ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট ও মারামারি সহ ৫টি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। তিনি জানান উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আসলেও পরবর্তীতে নি¤œ আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে আদালত। 


তিনি ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলেন, মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকার পরেও তারা পুলিশের নাকের ডগায় কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে। আসামিরা  মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদেরকে হুমকি প্রদান করছে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতংকে দিন কাটাচ্ছি। 


এবিষয়ে জানতে চাইলে এছাহাক মিয়ার, হারুন মিয়া ও বজলু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান আসামী ইসহাক মিয়াসহ বাকী আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টের কথা স্বীকার করে বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের জন্য আমরা অভিযান চালাচ্ছি। 


পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। খুব শীঘ্রই আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
 

এই বিভাগের আরো খবর