শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

সেলিম ভাইয়ের কোন কর্মচারী কি করলো না করলো সেটি দেখার বিষয়না :দিপু

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : আইনজীবী সমিতির সাবেক চারবারের সভাপতি এড.আনিসুর রহমান দিপু বলেছেন, সভাপতি ও এই কার্যকরী কমিটিকে ধন্যবাদ জানাতে কুন্ঠাবোধ করছিনা। আমাদের মাননীয় সংসদ দানবীর সেলিম ভাই এই বারের জন্য ২ কোটি টাকা দান করেছেন। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বারটি আজ দৃশ্যমান এবং আমরা এখানে সাধারণ সভা করছি। সেলিম ভাইয়ের কোন কর্মচারী কি করলো না করলো এই বিষয়গুলো বার্ষিক সাধারণ সভার প্রতিবেদনে আনার বিষয়না। আমাদের ডিগনিটি, আমাদের ইজ্জত, আমাদের মানমর্যাদা আমাদের অক্ষত রাখতে হবে। 

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতপাড়ায় নির্মাণাধীন বার ভবনে এজিএমে সাধারণ সম্পাদক মোহসীন মিয়া কার্যবর্ষের প্রতিবেদন পাঠের পর দেয়া বক্তব্যে দিপু এসব কথা বলেন। 

 

আনিসুর রহমান দিপু আরো বলেন, কাউকে ছোট করে দেখানোর অবকাশ নাই। আমাদের প্রিয় নেতা সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ বারের জন্য ২ কোটি টাকা দিয়েছেন। বর্তমান কমিটির সভাপতিসহ সবাই জানে দুই কোর্ট একত্রিত করার ব্যাপারে মহান জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জের প্রিয় মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) প্রশ্নোত্তর পর্বে আইনমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন এবং মাননীয় আইনমন্ত্রী স্বীকার করে বলেছেন- ‘আমি যে ওয়াদা করে এসেছি দুই কোর্ট একসাথে থাকবে।’ এগুলো জাতীয় সংসদের ধারা বিবরণীতে আছে, যতদিন সংসদ থাকবে ততদিন এটা অক্ষত থাকবে। এগুলো অস্বীকার করা যায়না। এজিএমের আলোচ্যসূচিতে একথাগুলো আসা উচিৎ ছিলো। 
আনিসুর রহমান দিপু বলেন, আমি বারের সভাপতি থাকাকালীন আজকের সভাপতি তখন সাধারণ সম্পাদক। তখন মাননীয় আইনমন্ত্রী, আইন সচিব, মাননীয় সাংসদ সেলিম ওসমান, একেএম শামীম ওসমান, গোলাম দস্তগীর গাজী, নজরুল ইসলাম বাবু, লিয়াকত হোসেন খোকার উপস্থিতিতে মাননীয় সাংসদ এই ডিজিটাল বার ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেন। এই কথা ভুললে চলবেনা। পরবর্তীতে সাধারণ সভায় আমি কমিটি করে দিলাম সভাপতি সংরক্ষিত আসনের সাংসদ হোসনে আরা বাবলী, সদস্য সচিব তৎকালীন সেক্রেটারি বর্তমান সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, প্রধান সমন্বয়কারী এড.খোকন সাহা। এই কথাগুলো এজিএমের প্রতিবেদনে আসে নাই। বর্তমান পর্ষদ অনেক কষ্ট করে এই বার নির্মাণ করেছেন আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কিন্তু শুরুটা তো আমরা করেছিলাম ভাই। আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলিনা, কিন্তু আপনাদের এতো কুন্ঠাবোধ কেন। 

আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘নতুন বার ভবন নির্মাণে সময় ক্ষেপণ করে আইনজীবীদের কষ্ট দেয়া হয়েছে। একবছরে ডিজিটাল বারভবনের নুন্যতম তিন-চারতলা করা উচিত ছিলো। আইনজীবীদের কষ্ট দিয়ে বর্তমান পর্ষদ নিজেদের ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছেন। নতুন বারভবন নির্মাণের প্রস্তাবনার সময় বিএনপির ১১ জন আইনজীবী কমিটিতে ছিলো অথচ তাদের নাম এজিএমে উল্লেখ না করে সংকীর্ণমনের পরিচয় দিয়েছে। দুই কোর্ট একসাথে রাখার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে কোন কাগজ আনতে পারেনি এই কমিটি। আইনজীবীদের ভোট নেয়ার জন্য মূলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এসব আইনজীবীদের অনুকূলে যায়নি।’ 

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড.ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, দল, মত, নির্বিশেষে দেখতে হবে আইনজীবী সমিতির উন্নতি হয়েছে কিনা! আইনজীবী সমিতির বর্তমান পর্ষদ কয়েকটি ভালো কাজ করেছেন এটি সকলে স্বীকার করেন। আমিও স্বীকার করি। তাদের অসম্পূর্ণ কাজগুলো আগামী কমিটি এসে সম্পন্ন করবেন। সাতমাসে একতলা ভবন হয়েছে, চল্লিশ ভাগ কাজ করেছে।একটা বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বহু সময় প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বারভবনের কাজ শেষ করবেন এটাই প্রত্যাশা করি।

পিপি আরো বলেন, আইনজীবী সমিতির সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে কিন্তু উন্নয়নের জন্য মাননীয় সাংসদ সেলিম ওসমান অর্থ দেননি। এড.হোসনে আরা বাবলীকে দিয়ে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এড.খোকন সাহাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রেখেছেন। আমরা সবাই মিলে কাজটি করছি। এখানে বারের কোন লোক কায়িক পরিশ্রম ছাড়া অর্থের বিষয়ে আমরা নেই। এখানে মাননীয় সাংসদ সেলিম ওসমান, মাননীয় মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, আইনমন্ত্রী মহোদয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখানে শুধুমাত্র সেলিম ওসমানের অর্থ পাওয়ায় আমরা কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যারা অর্থ দিয়েছেন তাদের নাম অবশ্যই আসবে, যখন এই ভবনটি পূর্ণাঙ্গ হবে। কার্যকরী পরিষদকে সহযোগিতা না করলে এই বার ভবন নির্মাণ কাজ থেমে যাবে।  

  
সাবেক পিপি ও সাধারণ সম্পাদক এড.আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, রুটিন ওয়ার্কটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য বর্তমান পর্ষদকে ধন্যবাদ জানাই। যেজায়গায় ভবনটি হয়েছে সেখানে আইনজীবীদের বসার কোন জায়গা ছিলোনা। মাননীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের সহায়তায় আমরা এই জায়গাটি দখল করি। এই জায়গায় আনিসুর রহমান দিপু সভাপতি থাকাকালীন মাননীয় সাংসদ সেলিম ওসমান এসে এখানে বহুতল বারভবনের নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন হোসনে আরা বাবলীকে দিয়ে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছিলো। হোসনে আরা বাবলী তার উপর দেয়া দায়িত্ব যথার্থভাবে পালন করেছেন। মাননীয় সাংসদ শামীম ওসমান জায়গার ব্যবস্থা করেছেন, মাননীয় সাংসদ সেলিম ওসমান অর্থ দিয়েছেন, মাননীয় মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী দুই বারভবন একসাথে রাখার জন্য জাতীয় সংসদের প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, নজরুল ইসলাম বাবু ও লিয়াকত হোসেন খোকাও প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে দুঃখের বিষয় মাননীয় আইনমন্ত্রী আদালতপাড়ায় আরেকটি জুডিশিয়াল ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা দেখে, মাপজোকও করিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওই জায়গায় দেয়াল দিয়ে দেয়া হলো কিন্তু আইনজীবী সমিতি থেকে কোন প্রতিবাদ করা হলেনা। এটা দুঃখজনক, এই ব্যর্থতার দায়ভার কার এই প্রশ্নটা রইলো।

বর্তমান সভাপতি এড.হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, পুরোনো সবকথা রিপোর্টে আনা সম্ভবনা। দুই কোর্ট একসাথে না রাখতে না পারার দায়ভার আমিই নিবো। পুরান কোর্টে আইনজীবী সমিতির ৩২ শতাংশ জায়গায় মসজিদ করা হলো। মুরগী পট্টিতে জায়গা দেয়া হলো। আমরা নেইনি। জায়গা জায়গার জায়গাতেই আছে। তিনমাসে একটা বিল্ডি করার যাদুর কাঠি আমার হাতে নাই। বিল্ডি করতে সময় দিতেই হবে। মাননীয় মন্ত্রী যখন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে এসেছিলেন কারা উড়ো চিঠি পাঠিয়েছিলেন না আসার জন্য।  
এসময় আইনজীবীরা দাঁড়িয়ে নাম বলতে বলেন। কিন্তু হাসান ফেরদৌস জুয়েল সবাইকে বসতে বলেন। এসময় আইনজীবীরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে জুয়েল বলেন, তাঁর বাবা-মা আকীকা করে নাম লেখানোর পরও বেনামীভাবেই উনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর মন্ত্রী মহোদয় এসেছিলেন। ভবনটি শেষ পর্যন্ত দাঁড় করিয়েছি এটাই আমার সফলতা।        

 

এরপরই নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে আইনজীবীদের বিশাল অংশের তোপের মুখে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষ না করেই আইনজীবী সমিতির বর্তমান কমিটির নেতারা সভাস্থল ত্যাগ করায় আদালতপাড়ায় ব্যাপক হৈ-চৈ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে ওই নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়ে পৃথক প্রতিবাদ মিছিল বের করে। সভার শুরুতে পূর্ববর্তী সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, বাৎসরিক রিপোর্ট ও অডিট পেশ করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. মোহসিন মিয়া। 

সভায় আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২০-২১ সালের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। নির্বাচনী আপিল বোর্ড গঠনে পূর্বের নির্বাচনের মতো  সভাপতি এড.হাসান ফেরদৌস জুয়েল এড.শওকত আলী, এড.এমদাদুল হক, এড.তারাজউদ্দিন, এড.রমজান আলীর নাম প্রস্তাব করলেএগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাশও (অনুমোদন) হয়। এরপরই সম্ভাব্য নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এড.আখতার হোসেনের নাম প্রস্তাব করার সাথে সাথেই তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ হৈ চৈ শুরু করেন, এবং অন্য নাম প্রস্তাবের আহবান জানান। তুমুল প্রতিবাদ আর হট্টোগোলের মাথায় বর্তমান পর্ষদের সভাপতিসহ সব সদস্য ও পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন বিবিধ আলোচনা ছাড়াই সভাস্থল ছেড়ে চলে যেতে থাকলে আইনজীবীরা আরো ফুঁসে ওঠে। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আখতার হোসেনের নাম বললেও বাকি চার কমিশনার কে হবেন সেটিও প্রস্তাব করা হয়নি এজিএমে। সভা শেষ না করে বর্তমান পর্ষদের সকলে বেরিয়ে যাওয়ায় পরে সিনিয়র আইনজীবী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, এড. জাকির হোসেন, এড. আব্দুল হামিদ ভাষানী, এড. সরকার হুমায়ূনের নেতৃত্বে তাৎক্ষনিক বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। অন্যদিকে এই নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে বয়কট করে মিছিল করে সিনিয়র আইনজীবী এড. আনিসুর রহমান দিপুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের একটি বড় অংশ।

এরআগে এজিএমে সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন বক্তব্যের পর বর্তমান পর্ষদের নানাদিক নিয়ে সমালোচনা করেন এড.এবি সিদ্দিকী, এড.রমজান আলী, এড.আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, এড.সরকার হুমায়ূন কবির, সাবেক পিপি এড.আসাদুজ্জামান আসাদ। এসময়ও আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।   

এজিএমে বিশাল সংখ্যক আইনজীবীদের অনাস্থা ও প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শুরুর আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হলো এবং আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করা নিয়ে উত্তেজনার পারদ উস্কে দেয়া হলো এবং এজিএম শেষ না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করায় এই পর্ষদের সদস্যরা নিন্দিত হলেন।  
এরআগে এজিএমে সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন বক্তব্যের পর বর্তমান পর্ষদের নানাদিক নিয়ে সমালোচনা করেন এড.এবি সিদ্দিকী, এড.রমজান আলী, এড.আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, এড.সরকার হুমায়ূন কবির। এসময়ও আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।   

এজিএমে বিশাল সংখ্যক আইনজীবীদের অনাস্থা ও প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শুরুর আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হলো এবং আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করা নিয়ে উত্তেজনার পারদ উস্কে দেয়া হলো এবং এজিএম শেষ না করেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করায় এই পর্ষদের সদস্যরা নিন্দিত হলেন।  

এই বিভাগের আরো খবর