শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সেলিম ওসমানের কারণে নাক কাটা যাচ্ছে : এড. দিপু

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু বলেছেন, জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের কারণে আমাদের সকলের নাক কাটা যাচ্ছে।

যুগের চিন্তা ২৪’র সাথে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক চারবারের নির্বাচিত সভাপতি ও তিনবারের সাধারণ সম্পাদক এর কারণগুলো তুলে ধরেন।

আনিসুর রহমান দিপু বলেন, মহাজোটে থাকার সুবাদে আওয়ামীলীগ এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছিলো। কিন্তু জাতীয় পার্টির এমপি’র বিভিন্ন সমালোচনায় এবং আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বঞ্চিত থাকার কারণে মানুষ আজ লাঙলের জোয়াল আর বইতে চাইছে না।

সম্প্রতি তিনি তাঁর আপন ভাবী পারভীন ওসমান সম্পর্কে যেসব অশালীন কথা বলেছেন তা অগ্রহণযোগ্য। একই দলের কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করতে পারে এটিই স্বাভাবিক।

তার মানে এই নয় যে একজন আরেকজনের নামে বিষেদাগার করতে হবে। জনসম্মুখে শুধু একজন মহিলার প্রতি এমন মন্তব্য নয়, যে কোন মানুষের প্রতি সাংসদের এরকম অশালীন সমালোচনা সমর্থন অযোগ্য। কাউকে খাটো করে কথা বলা অন্যায়।

আনিসুর রহমান দিপু আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের উদাহরণ টেনে বলেন, এ আসনে আমাদের ৫/৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। কিন্তু এরা কেউই একজন আরেকজনকে ব্যক্তিগত আক্রমন করছেন না।

ঘারমোড়ায় আজ আমি আওয়ামীলীগ কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করলে বিকেলেই হয়তো দেখা যায় ঐ নেতাকর্মীদের নিয়ে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে নামছেন। এটি দোষের কিছু নয়। এতে দল সংগঠিত হয়।

আমাদের সভানেত্রী সবার কার্যক্রম বিবেচনা করে নিজস্ব জরীপ অনুসারে যে কাউকে হয়তো মনোনয়ন দিবেন। আমাদের প্রত্যেক প্রার্থীই ঘোষণা দিয়েছেন যাকেই মনোনয়ন দেবেন তাঁর পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।

আনিসুর রহমান দিপু বতর্মান এমপি দলের আদর্শ থেকে সরে গেছেন উল্লেখ করে বলেন, স্থানীয় সাংসদ এখন কি করছেন? জাতীয় পার্টি, বিএনপি, আওয়ামীলীগ সব দলের লোকদের নিয়ে সংবর্ধনা নিচ্ছেন। একেক সময় একেক কথা বলছেন। বিএনপি আমাদের মহাজোটে নেই।

আমরা আওয়ামীলীগ কর্মীরা বিএনপির মতাদর্শে কখনোই বিশ্বাস করতে পারি না। তাহলে তাদের মার্কা আলাদা আর আমাদেরটি আলাদা। এগুলো কখনোই সহাবস্থানে চলতে পারে না। বিএনপি সাধারণ মানুষের উপর যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাতে তাদেরকে সাধারণ মানুষ বয়কট করেছে। সেলিম ওসমান যেসব কর্মকান্ড গ্রহণযোগ্য বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন এটি তাঁর ব্যক্তিগত।

ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতা হিসেবে হয়তো তাঁর বিএনপির সাথে সখ্যতা থাকতে পারে। রাজনৈতিকভাবে সাধারণ মানুষ কখনোই বিএনপিকে গ্রহণ করবে না। আমরা কখনোই ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবো না।

আর এমপি সেলিম ওসমানের সাথে আওয়ামীলীগের কর্মীরা ছিলোও না। সেলিম ওসমান আওয়ামীলীগ তো পরের কথা তার নিজ দল জাতীয় পার্টির আদর্শ থেকেও বিচ্যুত হয়ে পড়েছেন।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের রূপকার একমাত্র শেখ হাসিনা উল্লেখ করে আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ফেরী দিলো বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কিন্তু এটিকে সাংসদসহ জাতীয় পার্টির নেতারা তাদের একক অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। শুধু তাই নয় এসএম আকরাম আওয়ামীলীগের এমপি থাকার সময় থেকেই শীতলক্ষ্যা সেতু করার দাবি তোলা হয়, এটি সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির এমপি হওয়ায় শুরু হয়েছে এমন কথাও বাজারে প্রচলন করা হয়েছে।

এগুলো সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। আমরা আওয়ামীলীগ কর্মীরা সবসময় এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার ছিলাম। জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশের মানুষের কথা সবসময় চিন্তা করেন।

গোপালগঞ্জের মানুষের উন্নয়নের কথা যেমনি ভাবেন তিনি, ঠিক তেমনি সমভাবেই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেন তিনি।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামীলীগ কর্মীরা নৌকায় ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত।

এখানকার নেতাকর্মীরা নিপীড়িত, নিগৃহিত, নির্যাতিত এবং বঞ্চিত। এই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের জন্ম। জেলার হেডকোয়ার্টার হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আওয়ামীলীগের প্রার্থী থাকবে না এবার এমনটি হবে না। নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য আওয়ামীলীগের তৃণমূল উন্মুখ হয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

আনিসুর রহমান দিপু বলেন, আমি প্রতিদিনই সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে কোন না কোন এলাকায় যাচ্ছি। সাধারণ মানুষের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। উঠান বৈঠক, পথসভা, গণসংযোগ সবগুলোই করছি নিয়মিতভাবে।

এবার জাতীয় পার্টিকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। আমি দলীয় শৃঙ্খলা মেনে আমার নিজস্ব গতিতে কাজ করে যাচ্ছি। নমিনেশন দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র জননেত্রীর শেখ হাসিনার।  

কেন তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে আনিসুর রহমান দিপু বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেশি  তাদেরকে সুযোগ নাও দেয়া হতে পারে।

এছাড়া যারা দলের পরীক্ষিত কর্মী তারাই সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দিপু বলেন, আমি আইনজীবী হওয়ায় নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক আমার সবসময়ই থাকে। বিএনপি-জামাতের আমল থেকেই আমি আমার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ছিলাম। তারা আমাকে সবসময় পাশে পেয়েছে।

বর্তমান মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা যখন বিএনপির আমলে দেশে ফিরতে পারছিলেন না। আমি তখন তাঁর আইনী যুদ্ধ চালিয়েছিলাম। এমনও হয়েছে ১ দিনে ৫টি মামলায় জামিন করিয়েছি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এবং লিয়াকত শিকদারের নামে যখন মামলা হলো।

এর জামিনের তত্ত্বাবধানে আমি ছিলাম। তাঁদের মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিননামা নিয়ে কারাগারের গেটে যাওয়ার যখন কেউ সাহস দেখাচ্ছিলো না আমি তখন নিজেই বেইল বন্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদের মুক্ত করে নিজ গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে আসি।

শুধু এগুলোই নয় সবসময়ই আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মী এবং জনসাধারণের সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। দল আমাকে মূল্যায়ণ করতে এমনটি আমি অবশ্যই আশা করতেই পারি। সাধারণ মানুষও আমার পক্ষে রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর