বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

সেই পুলিশ কর্মকর্তার পুনঃ জামিন, কথিত স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জাসমিন আহমেদের দায়ের করা একটি মামলায় ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবু নকীবের কথিত দাবি করা ৪ নম্বর স্ত্রী রাফিয়া ফেরদৌস তুলির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত ।


বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট  কায়সার আলমের আদালত শুনানি শেষে আসামির উপস্থিতিতে চার্জ গঠন করেন ।


এছাড়াও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়ে করায় স্বামী আবু নকীবের বিরুদ্ধে ধার্য্য তারিখের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সি আর মামলা নং ১০৮৭/১৮ ও সি আর মামলা ১৮৩/১৯।


মামলায় স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা আবু নকীবের পুনঃ জামিন মঞ্জুর করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ূন কবিরের আদালত ।


এ সময় এড. জাসমিন আহমেদের পক্ষের আইনজীবীরা ছিলেন, সাবেক আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. এম এ রশিদ ভূঁইয়া, এড. আঃ বারী ভূঁইয়া, এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. আলী আহম্মদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক এড. মোহসীন মিয়া, এড. সেলিনা ইয়াসমিন, এড. ময়না প্রমুখ।


এড. জাসমিন আহমেদ বলেন, আবু নকীব একজন পুলিশ কর্মকর্তা কিন্তু সে আসামি এবং তার কথিত ৪ নম্বর স্ত্রী তুলির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। 


তিনি আরো জানান, তারা দু'জনেই আসামি তাদেরকে কিভাবে পুলিশ প্রহরায় আদালত আনা নেওয়া হয় সেটি সত্যি দুঃখজনক ।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোঃ আব্দুল হাই’র কাছে এবিষয়েয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। কাউকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নাই। 


সে পুলিশ কিনা অন্য কেউ তা দেখার বিষয় না । যদি কোনো ব্যক্তি নিরাপত্তায় ভুকছে আর আমাদের কাছে তার নিরাপত্তার জন্য শরণাপন্ন হয় তাহলে তার নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। সে ক্ষেত্রে পুলিশ ও ডিএসবি কাজ করে ।


জানাগেছে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন এড. জাসমিন আহমেদ। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় তার স্বামী আবু নকীবের ৪ নম্বর স্ত্রী দাবি করা রাফিয়া ফেরদৌস তুলিকে।

 

মামলায় দাবি করা হয়- গত ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোনে বিবাদী তুলি বাদীর কাছে দাবি করেন আবু নকীব তার স্বামী।

 
এই আবু নকীব হলেন অ্যাডভোকেট জামসিন আহমেদের স্বামী। আবু নকীবকে নিজের স্বামী দাবি করে জাসমিন আহমেদকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। 

 

পরবর্তীতে স্বামী আবু নকীবের তৎকালীন কর্মস্থল র‌্যাব-৪ এর ক্যাম্পের কমান্ডার, ঢাকার মালিবাগ এসবি পলিটিকেল জিআইজি ও পুলিশ পরিদর্শকের কাছে আবু নকীব ওই তুলি তার স্ত্রী নয় বলে দাবি করেন।

 

এ ছাড়াও ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশকে তদন্ত করতে দায়িত্ব দেন। 

 

ডিবি পুলিশ মোবাইল ফোনের ওই নারী তুলির পরিচয় সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে আবারো বাদীকে ওই কথিত স্ত্রী প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

 

এ বিষয়ে আদালতে এড. জাসমিন আহমেদ বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

এই বিভাগের আরো খবর