শনিবার   ২৫ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬   ২০ রমজান ১৪৪০

সুশৃঙ্খল জেলা আওয়ামী লীগ, সমন্বয় নেই মহানগরে

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। টুকিটাকি সমস্যা ব্যাতিত জেলা আওয়ামী লীগ কমিটির বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দই ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। তবে কয়েককারণে সমন্বয় নেই মহানগর আওয়ামী লীগে। বলয় রাজনীতির সবচেয়ে প্রত্যক্ষ হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটিতে। যা নির্বাচনের আগে থেকে এখনো চলমান রয়েছে।   

 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি ও নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, মিজানুর রহমান বাচ্চু, আব্দুল কাদির, আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূইয়া, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ইকবাল পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ানসহ জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।

 

জেলার পাঁচটি আসনে নৌকার প্রার্থীর দাবিতেও সেধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছিলেন তারা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসূচিগুলোতেও যুগপৎভাবেই তারা যেকোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছিলেন তারা। যেটি পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
 

তবে জেলা আওয়ামী লীগের ব্যতিক্রম মহানগর আওয়ামী লীগ। ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে ঠাসা মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটি হলেও কয়েকটি বলয় থাকায় সমন্বয় নেই কার্যক্রমে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

 

আনোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব অনুসরন করে বেশ কয়েকজন জাদরেল আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছে কমিটিতে। সহসভাপতি রোকনউদ্দিন আহমেদ,  শেখ হায়দার আলী পুতুল, যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা আনোয়ার হোসেনের সাথে সমন্বয় করে শুরু থেকেই কমিটিতে কাজ করছেন। তারা বেশ সফলও হয়েছেন। 
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.খোকন সাহাকে ঘিরে কমিটিতে আরেকটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়েছিলো। খোকনসাহার নেতৃত্বেও মহানগরে বেশ কিছু কাজের অগ্রগতি হয়েছে। নির্বাচনের আগে পুরোদমে আনোয়ার হোসেন বলয়ের সকলের সাথে একচ্ছত্রভাবে কাজ করতে দেখা গেছে খোকনসাহা এবং তার অনুসারী নেতাকর্মীদের।  

 

তবে আনোয়ার হোসেন, খোকনসাহা বলয় ব্যাতিতও আরেকটি ভাগে বিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগ। এক বলয়ের প্রভাবের কারণে অন্য বলয়ের সাথে সমন্বয় বেশ দুরুহ হয়ে পড়ে মহানগর আওয়ামী লীগে। তাই কমিটি দেয়ার পর থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগকে। 

 

সিনিয়র সহসভাপতি বাবু চন্দনশীল, কমান্ডার গোপীনাথ, যুগ্ম সম্পদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালসহ মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটির একাংশ নিয়ে আরেকটি বলয় তৈরি হয়েছে। এই বলয়ের কার্যক্রমও ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়।

 

তবে এ বলয়েও  আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে আরো কিছু ছোট ছোট বলয় তৈরি হয়ে রয়েছে। ফলে এই বলয়ের নেতাদের কার্যক্রমেও সমন্বয় নেই।  কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী মূলত জেলা আওয়ামী লীগের তুলনায় মহানগর আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বেশি। আর সেই কারণে কারও অধিনস্ত হয়ে কাজ করতে পছন্দ করেননা মহানগর কমিটির নেতারা। তারফলে কমিটির সকল নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজ করাটা খুবই দূরুহ বলে জানান তারা। 
 

এই বিভাগের আরো খবর