সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   ভাদ্র ৩১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

সিমেন্ট ব্যবসার আড়ালে হেলালের মাদক ব্যবসা ! তিন সহযোগী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সমাজে তিনি পরিচিত একজন সিমেন্ট ও বালু ব্যবসায়ী হিসেবে। ফতুল্লার লাল খা, শিয়াচর ও রামারবাগ এলাকার মূর্তিমান ত্রাস গিয়াস ও আজমতের শেল্টারে নানা অপকর্ম করে আসছে ফয়েজ উদ্দিন হেলাল। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অনেক আগে থেকেই মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। 

 

তবে মুখোশে ঢাকা ছিল হেলাল ও তার লোকজন।  হেলাল মূলত মাদকের ডন। এলাকার যুবকদের কাঁচা টাকার লোভ দেখিয়ে মাদক বিক্রিতে উদ্বুদ্ধ করতো তিনি। কেউ এর প্রতিবাদ করলে থানা পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানী করতো বলেও অভিযোগ। 

 

এবার সেই হেলাল বাহিনীর সদস্য মাদক বিক্রেতা শামীম ও তার অপর দুই সহোযাগীকে ৫৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার (১৬ মে) রাতে লাল খা এলাকা থেকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছে মাদকের মূল ডন হেলাল। পুলিশ এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং-৭০)।


লাল খা ও দক্ষিণ সেহাচরে সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন গার্মেন্টস সেক্টরের ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে আসছে আজমত ও গিয়াস। এই দুই জনের শেল্টারে উল্লেখিত এলাকায় এমন কোন অপকর্ম নেই যা হেলাল ও তার সহযোগিরা করেনা। এমন অভিযোগ লালখা, সেহাচর ও রামারবাগ এলাকাবাসীর। উল্লেখিত এলাকায় রড, সিমেন্ট ও বালুর ব্যবসা করে হেলাল। 


কিন্তু এ সমস্ত ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ সে ও তার বাহিনীর সদস্যরা মাদক বিক্রি করে আসছে। হেলাল উল্লেখিত এলাকায় মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত। সিমেন্ট ব্যবসার আড়ালেই সে এই মাদক ব্যবসা করতো বলেও থানা পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। কিন্তু প্রমাণের অপেক্ষায় ছিল পুলিশ। 

 

বুধবার দিবাগত রাতে লালখা এলাকা থেকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ  একই এলাকার মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে শামীম, বাবু ও হৃদয়কে ৫৭০পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। মাদক বিক্রির সময় ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি জানতে পেরে হেলাল ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করে। হেলালকে পলাতক হিসেবে একই মামলায় ৪ নং আসামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৩ জনকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে বৃহস্পতিবার  আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

থানাসূত্র জানায়, আটককৃত মাদক বিক্রেতা শামীম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মাদক বিক্রির সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। এলাকায় হেলালের রয়েছে প্রায় ১৫-২০ জন খুচরা মাদক বিক্রেতা। তারাই এলাকায় মাদক বিক্রি করে থাকে।


লালখা এলাকাবাসী জানায়, ৫-৬ বছর আগেও হেলাল লালখা এলাকায় মাত্র আঠারশত টাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতো। দিনমজুরীও করতো সে একসময়। এখন সে বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক। এলাকায় আজমত ও গিয়াস উদ্দিনের শেল্টারে নিজেই একটি বলয় তৈরী করে। আর ঐ বলয়ের মাধ্যমেই সিমেন্ট ব্যবসাকে সামনে রেখে সে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। অত্যান্ত কৌশলে সে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।


এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আসলাম বলেন, মাদক বিক্রির সাথে যে জড়িত থাকবে তাদের কোন ছাড় নেই। এই সমাজে মাদক বিক্রেতার একটাই পরিচয় সে অপরাধী। হেলালকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  গ্রেফতারকৃত ৩জনকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।    

এই বিভাগের আরো খবর