শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১০ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

সাধারণ মানুষের কল্যাণ করাই হচ্ছে রাজনীতি

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯  

গাণিতিক একটি সূত্র মাইনাসে-মাইনাসে প্লাস। ছাত্রজীবনে অঙ্কে তেমন ভাল ছাত্র ছিলাম না। তবে এসএসসি পরীক্ষায় অঙ্কে লেটার মার্ক পেয়েছিলাম। ছাত্রজীবন সুখেই কেটেছে। কর্মজীবনে বাস্তবতার সাথে তাল মেলাতে বার বার দুঃখকে বরণ করতে হয়েছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে আমার মতো অনেকেই দুঃখ ভোগ করেছেন। সেসব দুঃখগুলো কেউ প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ বুকের ভেতর লুকিয়ে সুখের প্রত্যাশায় প্রহর গুনেছেন। 


কল্পনা আর বাস্তবতা যে কত কঠিন তা কবি সমাজ বা কবিবৃন্দ কল্পনার ফানুস উড়িয়ে রংধনু থেকে লাল রঙ এনে তার প্রিয়ার পায়ে আলতা পড়াতে পারেন। আমি বাস্তবতায় বিশ্বাসী। গাণিতিক সূত্রের হিসাব ধরে দুঃখ প্লাস দুঃখ ইকুয়্যাল সুখ খুঁজছি। কিন্তু বিমল মিত্রের ‘যে অংক মিলেনি’। মানুষের চাওয়া পাওয়ার হিসাব মেলাতে পারছেনা কেউই? জীবনের সাড়ে তিন হাত জায়গার জন্য কতটুকু অর্থ সম্পদ প্রয়োজন? 

 

অর্থনীতিবিদরা বলেন মানুষের চাহিদার শেষ নাই। সম্পদ সসীম, চাহিদা অসীম। এক সময় সসীম সম্পদ নিয়ে মানুষ তার সুখের ঘর সাজাতো। প্রেম-প্রীতির অভাব ছিল না। আজ প্রেমের নামে চলছে প্রতারণা। ভালবাসার নামে চলছে স্বার্থ সিদ্ধি। ধর্মের নামে চলছে ধর্ম ব্যবসা। রাজনীতির নামে চলছে প্রবঞ্চনা। ধার্মিকদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধের কমতি নেই। সেই শ্রদ্ধাবোধকে পুঁজি করে এক শ্রেণির ধার্মিকরা ধর্ম ব্যবসা করে যাচ্ছে। 


রাজনীতি হচ্ছে রাজার নীতি। সাধারণ মানুষের কল্যাণ করাই হচ্ছে রাজনীতি ব্যক্তিবর্গের কাজ। আজ আমরা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ছাত্র রাজনীতির নামে কী দেখছি। মারামারি হানাহানি এ কেমন রাজনীতি। শুনেছি বিদ্যা বিনয় দান করে। এ কীসের বিনয়। ছাত্ররা শিক্ষককে পানিতে ডুবিয়েছে। এই ছাত্ররা কারা। এ সব ছাত্ররা সমস্ত ছাত্র সমাজের মুখে কলঙ্ক লেপন করেছে। ছাত্ররা সমগ্র জাতির গর্বের ধন। আগামী দিনের কর্ণধার। ছাত্রদের মধ্যে নোংরা রাজনীতির বীজ কারা রোপন করেছে।

 

বিশাল নৌ-বহরে মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে মগজ ধোলাই কে করলো? তা অনেকেরই জানা আছে? ভাসুরের নাম আমি বলতে চাই না। শ্রদ্ধা রাখি সেই ভাসুরের পায়ে। ছোট বউয়ের এমনিতে নানান দোষ। লবণ আর চিনি এক রঙের হলেও তার গুণ ভিন্ন। সব মানুষ দেখতে এক হলেও গুণে-মানে এক নয়। 

 

১৭৫৭ সাল ২৩ জুন পলাশীর ময়দানে বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়। আর সেই স্বাধীনতা হারানোর পিছনে আমাদের এ দেশেরই লোক জড়িত ছিলো। আর সে সব লোক জড়িত ছিলো তাদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো তা ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে।পরাধীনতার নির্মম নিষ্ঠুর নির্যাতন আমাদের পূর্ব পুরুষ ভোগ করছে না। ইংরেজ জাতির কপালে দাসখত অংকিত করা হয়। 

 

পাকিস্তানি স্বৈর শাসক ও তার দোষরদের নির্যাতন ত্রিস্পেশনে বাঙালী যখন দেয়াল ঘেঁষা হয়ে পরে তখন জাতির বোধ উদয় হয় রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। মাতৃভাষার দাবি করতে গিয়ে বুক পেতে নিতে হলো গুলি। প্রাণ গেল রফিক, শফিক, সালাম, বরকতের। তপ্ত রক্তের সিড়িবেড়ে ১৯৬৯ গণ আন্দোলন, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। ত্রিশ লক্ষ প্রাণ বলি হলাম মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আজকের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা অর্জনের পর মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথা স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার স্বপরিবারে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। স্রষ্টার ইচ্ছায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। 

 

নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মৃত্যুর পর এ দেশের তৎকালিন তথাকথিত বোদ্ধা সমাজ ইংরেজদের খুশি করার জন্য ইতিহাস লিখে বাহাদুর, রায় বাহাদুর, রায় রায়হান, চৌধুরী, খান বাহাদুর উপাধি ধারণ করে। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর তাদেরই বংশধর ৫২ থেকে ৭১ ইতিহাস পাল্টানোর কিচ্ছা লিখেছে। স্থানে স্থানে এক শ্রেণির মানুষ মুক্তিযুদ্ধের বছর একাত্তরকে গন্ডগোলের বছর বলে চিল্লাচিল্লি করেছে। আর যার যার আখের গুছানোর ফকিন্নী থেকে শিল্পপতি বনে নাম লিখিয়েছে। লোভের বাতাস ঝড়ের বেগে সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। স্বাধীনতার পক্ষের শুক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসুরী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বাস রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে থাকে।

 

পরিশেষে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় উপবেশন করেন। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর নিজদেরকে সেবক হিসেবে সরকারি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে যারা দূরে থেকে বিরোধীতা করেছে। আওয়ামী লীগের সুসময়ে তারা কাউয়া হিসেবে প্রবেশ করবে। দলনেতাদের সাবধান করেছিলেন শেখ হাসিনা। সাবধান করা সত্বেও কাউয়ার সঙ্গ সত্য হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে এই সব কাউয়ার খাই খাই শব্দে অনেকের কান ঝালাপালা করছে। আর এ সুযোগে অনেকেই এক শ্রেণির ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে যে যেমন করে পারছে ফায়দা লুটায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। 

 

সরকারের উন্নয়নের বহুমূখী ব্যস্ততাকে সুযোগ সন্ধানীরা দাবি আদায়ের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে মানববন্ধন থেকে শুরু করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিসহ অঘোষিত পরিবহন হরতাল পালন করে। তারা এ সময়গুলো বেছে নিয়েছে। স্বার্থসিদ্ধির সড়ক পথে পরিবহন চলাচলের আইন না মানাকে কেন্দ্র করে জাতীয় দৈনিক গুলোতে লিড নিউজতো সবাই দেখলো। প্রতিদিন সড়ক পথে তাজা প্রাণ বলি হচ্ছে। কত মায়ের বুক খালি হচ্ছে। কত সংসারের কর্মক্ষমের পথে বসছে। এমন দিন নাই যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ বলি না হচ্ছে। 

 

বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকার আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা জাতির অর্থনীতি মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় যোগাযোগ, চিকিৎসা, কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, শিল্প, আবাস স্থল পূনর্বাসনে দ্রুত কাজ চলছে। তার উপর দুর্নীতি সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা দরকার। এসব কাজগুলো করতে গিয়ে বিড়াল বেজার হচ্ছে। শস্যের মধ্যেই ভূত রয়েছে। সরকার এসব জেনেও না জানার ভান করছেন এ প্রশ্ন সরকারের বিরোধী দলীয় লোকদেরই শুধু নয়। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় অনেকেই আজ এ প্রশ্ন করছেন। গ্রাম বাংলার চায়ের দোকানগুলোতে অলস লোকদের মুখে খই হয়ে ফুটে উঠছে। আর এক শ্রেণি মোবাইল কবিতা দিয়ে কল্পিত কবি বনে যাচ্ছে। 

 

বৃদ্ধের গাধা কেনার গল্প কে না জানে। কথা বলায় কোন ট্যাক্স নেই কিন্তু কথা বলে অনেকেই খেসারত দিয়েছেন। সরকারের মন্দ কাজকে মন্দ বলা আর ভাল কাজকে ভাল বলার মন মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে অনেকেই। ১৭/১৮ কোটি জনবহুল দেশটা একটি ছোট বাড়ি ঘর নয়। বটমল্যাজ বাস্কেট বলেছেন, ‘যারা তারাই আজ পঞ্চমুখের বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে যাচ্ছেন। এমন কি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের উন্নয়নকে উন্নয়নশীল দেশে বলে স্বীকার করেছে।’

 

আগামী ৪০/৪১ সালকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার কাজ করছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বৃদ্ধি এ সময় কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের সাথে সাথে পরিবহন থেকে শুরু করে বাসা ভাড়া শিল্প পণ্য মূল্য বৃদ্ধি মরার উপর খাড়ার ঘা স্বরূপ বলে সুধী মহল মন্তব্য করছেন। আওয়ামী লীগ বহু ব্যস্ততার অতি অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় দলীয় সম্মেলন করেছেন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পেয়েছেন, আমিও সানন্দে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। 

 

তবে নারায়ণগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগ নবায়ন হয়েছিল সে নারায়ণগঞ্জ থেকে একজনও কি কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান লাভ করেছেন।অনেকেই জানতে চাইছেন।বর্তমান সরকারের বহুমুখী উন্নয়নের শরিক হতে ঢাকার পাশ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার যোগ্য নেতাদের যেকোন ২/১ জন থাকুক এমনটাই দাবি তৃণমূলের। ১৭৫৭ পর থেকে ১৯৭১ এর দুঃখ-কষ্টগুলোকে স্মরণ করে সবাইকে সুখের এ ঠিকানাকে সুন্দরভাবে আকড়ে ধরে রাখার প্রয়াস হচ্ছে দেশপ্রেম। পরাজিত শক্তি পলাশীর আম্র কাননে পিছন থেকে পরাধীনতার কালিমা লেপন করে দিয়েছিল। তাই আত্মাস্বার্থ ক্ষুদ্র সুখের দিকে না তাকিয়ে আমাদের বৃহত্তর সুখের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

 


রণজিৎ মোদক
লেখক-শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং সভাপতি, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ
মোবাইল : ০১৭১১ ৯৭৪ ৩৭২

এই বিভাগের আরো খবর