বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৫ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রতীকী অনশন পালন

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : সাংবাদিক সাগর সারোয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচী পালন করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি।

 

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম,সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ রুমন রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও  দৈনিক সোজাসাপটার সম্পাদক আবু সাউদ আল মাসুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম,সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেইন স্মিথ, রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও লেখক-কলামিস্ট মীর আব্দুল আলিম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, নারায়নগঞ্জ জেলার সভাপতি মাহমুদ হাসান কচি, সাধারন সম্পাদক এনামুল হক সিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান শ্যামলসহ নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিকবৃন্দ।

 

কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আমরা সকলে, সরকার, ‘তদন্তকারী সংস্থা ভালো করে জানে কারা সাগর-রুনিকে হত্যা করেছে। কিন্তু র‌্যাব যখন কোন হত্যাকান্ডের তদন্তের দায়িত্ব নেয় তখন কোন অদৃশ্য হাতের ইশারায় এই হত্যাকান্ডের বিচার বন্ধ হয়ে যায়। বিচারহীনতার সংষ্কৃতিতে আজকে আমরা নিমজ্জিত। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সাংবাদিকরা আল্টিমেটাম দিলে সেই আল্টিমেটাম ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের থাকে না। সাংবাদিকদের মধ্যকার বিভক্তিই সরকারকে উৎসাহিত করেছে সাগর-রুনি হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য। সাগর-রুনি যখন দেশকে ভালোবেসে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করছিলো। যারা দেশকে বিক্রি করে দিতে চায়, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দিতে চায়, সাগর-রুনি সেই তথ্য সংগ্রহ করছিলো সেই তথ্য প্রকাশের আগেই তাদের লাশ হতে হয়েছে। কিন্তু এই হত্যাকান্ডের পরে খুনিদের বিচার হচ্ছে না। হাইকোর্ট বারবার যখন বলে এটা নিষ্পত্তি করার জন্য তখনও ওই প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মাসের পর মাস সময় দেওয়া হয়। গতকালকেও এরপুনরাবৃত্তি হয়েছে।’

 

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ রুমন রেজা বলেন, ‘সাগর-রুনির নৃশংস হত্যাকান্ডের ৮ বছরেও কোনো বিচার হয় না প্রকৃত হত্যাকারীরা ধরা পড়ে না প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয় না। এরকম অন্যায়ের শিকার যদি সাংবাদিকরা হয় তখন সাধারণ মানুষের মনে বিশাল একটি হতাশা, বেদনা এবং যন্ত্রণার ক্ষত তৈরী হয়। আমরা মনে করি সরকারকে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত হত্যাকারীদের বের দরকার। না হলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী যত ভালো কাজই করুক না কেন। তাদের এ ব্যর্থতা এ বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমরা যে সভ্যতার কথা বলি সেই সভ্যতার ভেতরে অচিরেই একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরী করে। সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম,অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে। কিন্তু যখন এই সাংবাদিকরা নিপীড়নের শিকার হয় অন্যায়ের শিকার হয় নানা রকমের হয়রানির শিকার হয় তখন আমরা মুখে যতই সভ্যতা-সংস্কৃতির চর্চার কথাই বলি না কেন। তখন এ চর্চার ক্ষেত্রে একটি প্রশ্নোবোধক চিহ্ন দাঁড়িয়ে যায়।’

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের (এনইউজে) সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, ‘৪৮ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীদের ধরে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও ৮ বছর পরও আমাদের বিচার চাইতে হচ্ছে। সরকার এই হত্যার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘকে এখনো তাঁর বাবা-মার কবরের পাশে গিয়ে কাঁদতে হয়, হত্যার বিচার দাবি করতে হয়। রুনির মা এখনো প্রতিদিন প্রতিনিয়ত তার সন্তান হত্যার বিচার দাবি করছে। আমরাও বিচার দাবি করছি।’

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের (এনইউজে) সেক্রেটারি আমির হোসেইন স্মিথ বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তভার যখন আপনাদের কাছে আসে তখন আপনারা বারবার সময় নেন। সময় ক্ষেপন করেন। একটা কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, হয় আপনারা তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিন, নয়তো আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করে বলুন, আপনাদের পক্ষে সেটি সম্ভব নয়।’

 

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাউদ আল মাসুদ বলেন, ‘গণেশ কিন্তু ঠিকই উল্টাবে। গণেশ উল্টালে বিচার কিন্তু ঠিকই হবে। এ গণেশ যতদিন থাকবে ততদিন আমাদের শুধু সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে প্রতিবাদ শুধু করে যেতে হবে, কথা বলতে হবে, কথা বলা থামা যাবেনা।’  

 

রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর আব্দুল আলিম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিলো যে, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিচার হবে। সেই ৪৮ ঘন্টা এখন ৮ বছর। সামনে মনে হয় ৪৮ বছর হবে। কিন্তু যদি এই ধারাবহিকতায় চলতে থাকে তাহলে বিচার কাজ কখনো সম্পূর্ণ হবে না।

 

সভাপতির বক্তব্যে সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের পর থেকে অদ্যবদি আমরা বিচার চেয়ে আসছি, আন্দোলনে আমরা অবিচল ছিলাম, আজও আছি। যতদিন বিচার না হবে ততদিন এই আন্দোলন চলমান থাকবে। তিনি সাগর-রুনি হত্যাকা-ের বিচার দাবি করে ৫ দফা দাবি জানিয়ে বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকা-ের পর এখন পর্যন্ত ঘটনা তদন্তের বিষয়ে সরকার ও তদন্ত সংস্থার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরকারী প্রেসনোট জারি করতে হবে। তদন্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিআইজি কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে ৫ সদস্যের একটি পরার্মশক ও তদারক কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদকে প্রতিমাসে অন্তত একবার জানাতে হবে। ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার করে বিচার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া সাগর-রুনি ছাড়া বিচারবর্হিভূত সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার অপরাধে জড়িতদের তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিচার করতে হবে।

 

দুপুর দেড়টার দিকে পানি পান করিয়ে সাংবাদিকদের অনশন ভাঙান নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম।

এই বিভাগের আরো খবর