মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সভাপতি রনির ঔজ্জল্যের কাছে মলিন সেক্রেটারি সজিব

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল যতখানি ভূমিকা রাখতে পারছে তা শুধুমাত্র সভাপতি মশিউর রহমান রনির বদন্যতায় মনে করেন অধিকাংশ ছাত্রদল নেতা। তবে  আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারতো যদি সেখানে দলের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজিব সহযোগিতার হাত বাড়াতো। 


সহযোগিতা দূরে থাক, নিজের মুন্সিয়ানা দেখাতে গিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত কোন কর্মসূচিই সে সফল করতে পারেনি। সজিবের এই ব্যর্থতা বরং সাপেবর হয়ে ধরা দিয়েছে সভাপতি রনির হাতে। কেন্দ্র, তৃণমূল সবমহলেই রনির নেতৃত্বের জয়জয়গান। অপরদিকে ঘরকুনো বলে খেতাপ জুটেছে সজিবের ঘাড়ে।


জেলা ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ১২ অক্টোবর  নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করায় সভাপতি মশিউর রহমান রনি। 


এদিন অবশ্য আলাদা কুটি কয়েক ছাত্রদল নেতাকে নিয়ে গিয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদক সজিব। তবে সেখানে বেশিক্ষণ থাকেননি। ধৈর্য্যরে পরীক্ষায় ফেল মেরে তিনি সেখান থেকে চলে গেছেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়েছে রনিরই। 


কেননা পরবর্তীতে কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করায় সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে ধন্যবাদ জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন-নবী সোহেল, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক হাবীবুল ইসলাম হাবীব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। এসবের কোনটিই পক্ষে যায়নি সজিবের।


এরআগেও আবার নিজের বাহাদুরি দেখাতে গিয়ে ব্যর্থ হন খায়রুল ইসলাম সজিব। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ৯ অক্টোবর দুপুুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের পেছনে  জেলা ও মহানগর ছাত্রদল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 


এতে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক ছাত্রদল নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছে। মহানগর ও জেলা ছাত্রদল একত্রিত হয়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন করে। সেখানে জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজিব তো নিজে উপস্থিত থাকেননি আরো বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকেও আসতে নিষেধ করেছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। সূত্র জানায়, এরপরদিন সজিব সোনারগাঁয়ে আলাদা আরেকটি সমাবেশ করার চেষ্টায় ছিলেন।


কিন্তু পুলিশের বাধায় সমাবেশ তো দূরের কথা রাস্তায়ও দাঁড়াতে পারেনি সজিব। অথচ যৌথভাবে সমাবেশ আয়োজনের আগ থেকেই সজিবের সাথে যোগাযোগ করছিলো জেলা ও মহানগরের ছাত্রদল নেতারা। সজিবও আসি আসি, আসবো-আসবো করে শেষ সময়ে এসে চুপ হয়ে যান। তিনি ভেবেছিলেন সবাইকে বাদ দিয়ে আলাদা প্রোগ্রাম করে নিজের মুন্সিয়ানা জাহির করবেন। কিন্তু আদতে আর সেটি তিনি করে দেখাতে পারেননি।


ছাত্রদলের একটি সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা নিয়ে নানা জায়গায় বিরোধ তৈরি করে আসছে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজিব। তিনি বলে বেড়াচ্ছেন, জেলা সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন ইচ্ছে করে কমিটির অনুমোদন দিচ্ছেনা।

 

আদতে এভাবে কমিটি দেয়ার ক্ষমতা রাখেনা সভাপতি কিংবা সেক্রেটারি কেউই। কমিটি দিতে অনুমতি লাগবে কেন্দ্রের। সেক্রেটারি বলে বেড়াচ্ছেন সভাপতি রনি এসব আটকে রাখছে। সভাপতির সাফ উত্তর কমিটি আটকে রাখার ক্ষমতা তার নেই। এই মুহুর্ত্বে কমিটি দিতে চায়না কেন্দ্র। 


এরপরও কেন্দ্রের কাছ থেকে যদি কেউ কমিটি নিয়ে আসতে পারে তবে তাতে আপত্তি নেই তার। কিন্তু এরপরও সজিব ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতো সভাপতির বিরুদ্ধে ভুল বুঝিয়ে কিছু ছাত্রদল নেতাকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। 


কিন্তু এসবে ফল হয়েছে উল্টো। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যেখানে উজ্জল সেখানে ঘরকুনো হয়ে বসে থাকতে হচ্ছে সজিবকে। ছাত্রদল নেতাদের ভাষায়, সভাপতি রনির ঔজ্জল্যের কাছে মলিন সেক্রেটারি সজিব।
 

এই বিভাগের আরো খবর