রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

সভাপতির পদ নিয়ে বিপাকে মন্ত্রী গাজী ও এমপি বাবু

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এক বক্তব্যে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রূপগঞ্জ ও আড়াইহজার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে।

 

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে (সভাপতি ও সাধার সম্পাদক) দলীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) থাকতে পারবেন না।’ 

 

তিনি আরো বলেন, ‘যারা এমপি হতে পারেননি তারা যেন নেতা হওয়ার সুযোগ পায়। তবে জেলা পর্যায়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন এমপিরা। কারণ কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের সমন্বয় করতে হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন।’ 

 

দলের সাধারণ সম্পাদকের এমন ব্যক্তব্যের পর বিপাকে পড়েছেন ইতিমধ্যেই দুটি উপজেলার সভাপতির পদে থাকা বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) এবং নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু। দলের সাধারণ সম্পাদকের কথাই যদি বাস্তবায়িত হয় তবে এই দুটি উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত হবে তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা এবং বিশ্লেষণ।     

 

চলতি বছরের ১৬ জুলাই দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া বাজার এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীকে মনোনিত করা হয় (বীর প্রতিক)। সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতও ছিলেন তিনি। এছাড়া সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল উপস্থিত ছিলেন। 

 

এর পাঁচদিন পর গত ২২ জুলাইপনেরো বছর পর আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  মুক্তিযোদ্ধা এস এম মাজহারুল হক অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্মেলনে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

 

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এছাড়া সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। 

 

এদিকে এদুটি সম্মেলনের মধ্যবর্তী সময়েই সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদনে প্রকাশ্যে আসে। তা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগসহ উপজেলা আওয়ামী লীগেও বিরূপ প্রতিবাদ আসে। 

 

অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই মনে করেন, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের দুইজন সাংসদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় এর প্রতিবাদে সাংসদ শামীম ওসমানের ইন্ধনেই সোনারগাঁয়ে আহবায়ক কমিটি দিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রভাবিত করতে পারে। গঠনতন্ত্রের বাইরে ও কাউকে জানানো ব্যতিরেকে দেয়া সেই আহবায়ক কমিটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এরজের কেন্দ্র পর্যন্ত গিয়েছে। 

 

এখন সোনারগাঁয়ে আহবায়ক না পূর্বের কমিটির বলবৎ থেকে কাজ চালাবে তারও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যেই বার্তা দিলেন তাতে সোনারগাঁয়ের সাথে সাথে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদটি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। তবে দলের সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। তাদের কথা মন্ত্রী কিংবা সাংসদকেই কেন সভাপতি হতে হবে। 

 

দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা প্রবীণরাও সভাপতির পদটি সামাল দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। কোন পদই কুক্ষীগত করে রাখা উচিত হবেনা। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পর সেটি তো আবারো সামনে আসলো। তবে কি প্রক্রিয়ায় রূপগঞ্জ এবং আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে নির্বাচিত ব্যক্তি আসবে তা নিয়ে আরেকটু বিবেচনা করতে চান তৃণমূল। এব্যাপারেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও হস্তক্ষেপ চান তারা। ওবায়দুল কাদেরের এই ব্যক্তব্যে যে মন্ত্রী গাজী এবং এমপি বাবু সভাপতির পদ নিয়ে বেকায়দায় পড়লেন এটি পরিষ্কার। 

 

তবে এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলছেন, আমাদের এখানকার দুটি উপজেলার সম্মেলন এবং সভাপতির বিষয়টি কেন্দ্র ওয়াকিবহাল। সম্প্রতি দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটির পুরোপুরি ব্যাখ্যা আমাদের জানতে হবে। আমরা এটি সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হতে পারিনি। 

 

তিনি বলেছেন, সাংসদরা উপজেলা কমিটিতে থাকতে পারবেনা তাহলে এটি কি এখন থেকেই কার্যকর হবে নাকি পরবর্তীতে সেটিও জানা নেই। এছাড়া যারা ইতিমধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আছেন তাদের ব্যাপারটিতে কি হবে তাও জানা নেই। এবিষয়ে দুই-একদিনের মধ্যেই দলের সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানতে পারবো এবং সেই আলোকে এবং নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।    
 
 

এই বিভাগের আরো খবর