বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডিসি এসপির জিরো টলারেন্স’

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি করে দুটি আলাদা অনুষ্ঠানে সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। সবভালো কাজেই নিজেদের অবস্থান থেকে যা যা করণীয় তার সবই করবে বলে জানান তারা।

 

দেশজুড়ে যখন শুদ্ধি অভিযান চলছে এর মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের এমন দৃঢ় প্রত্যয় শুদ্ধি অভিযানে নারায়ণগঞ্জেও কেউ ছাড় পাবেনা বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের ব্যক্তিবর্গ।

 

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) নিতাইগঞ্জ আরকে দাস রোড এলাকায় শারদ উৎসব উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসপি হারুন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সকলকে নিয়ে সুন্দর একটি শহর গড়তে চেষ্টা করছি।  যে শহরে মাদক থাকবে না, সন্ত্রাস থাকবে না, চাঁদাবাজ থাকবে না। কোন লোকের হুমকি-ধমকিতে ভয়ে কাউকে পিছপা হতে হবেনা।

 

যে যার ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবে। কারো হুমকি-ধমকিতে ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে, বন্ধ হয়ে যাবে এমন কার্যক্রম চালাতে দেয়া যাবে না। অনেকে আছেন সন্ত্রাসের আড়ালে ব্যবসায়ী নামধারণ করেছেন। আবার কেউবা সন্ত্রাসের আড়ালে মানুষের প্রতিনিধি হয়েছেন। তার অর্থ এই  নয় যে ওই এলাকার মানুষ আপনাকে জিম্মাদার দেয়া হয়েছে। ওই এলাকার মানুষের সব ভালো কাজটি করার জন্য যা যা করা দরকার পুলিশ প্রশাসন সেই সহযোগিতা তা করবে।’

 

এর আগে  ঠিক একই রকম সুর ছিলো জেলা প্রশাসকের বক্তব্যেও। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ফতুল্লার নমপার্কে বিকেএমইএ’র নতুন কমিটির নির্বাচিতদের সংবধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমি কারো ব্যক্তিগত লোক নই। আমার কাজ দিয়ে আমি তা প্রমাণ করবো। জেলা প্রশাসকের কাছে ধনী-গরীব বলে কিছু নেই, জেলা প্রশাসক সবার।

 

আমার দরজা সবার জন্য খোলা। আমরা সকলে মিলে এই নারায়ণগঞ্জ গড়বো। মানুষ যাতে দেখলেই বলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হয়েছে। আমাকে যে যেখানে ডাকবেন আমি সেখানেই যাবো। একই অনুষ্ঠানে বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বিকেএমইএ প্রসঙ্গে বলেন, এই সংগঠনটি কোন রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তি সংগঠন নয়। সংগঠনের মধ্যে গণতন্ত্র ধরে রাখা আপনাদের সবার দায়িত্ব।’

 

এদিকে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করায় নাগরিক সমাজ মনে করছেন, সম্প্রতি সরকার যে শুদ্ধি অভিযান ঢাকায় চালু করছে। তার ব্যাপ্তি খুব শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে। পেশী শক্তির ব্যবহার করে যারা এতোদিন নানাসেক্টরে অপকর্ম করেও রেহাই পেয়ে গিয়েছিলো তাদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য একটি সতর্কবানীর মতো।

 

অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে নারায়ণঞ্জের অবস্থা গত কয়েক মাসে স্থিতিশীল। শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করলে সুন্দর নারায়ণগঞ্জ তৈরির পথে এই জেলা আরেকধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।  

এই বিভাগের আরো খবর