শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

সঠিক পথেই হাঁটছেন ‘পুলিশ সুপার’

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৯  

বিশেষ প্রতিনিধি (যুগের চিন্তা ২৪) : এসপি  নেই। তবুও ভাল আছে নারাযণগঞ্জবাসী। গত ১০ দিনে জেলায় বড় ধরনের  কোন অপরাধ কর্মকান্ডেরও খবর নেই। নিয়ন্ত্রনে আছে আন্ডারওয়ার্ল্ড। ফুটপাত রয়েছে হকারমুক্ত। নিরবে একটা নিয়ন্ত্রণ বজায় আছে সর্বত্র। এর নেপথ্য কুশীলব এএসপি (এডমিন) মনিরুল ইসলাম।

 

তিনিই বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন। বিতর্কিত পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ যখন নারায়ণগঞ্জে ছিলেন তখন প্রতিদিনই জেলার কোথাও না কোথাও বড় ধরনের ঘটনার খবর মিলতো। সংবাদকর্মীরা ছুটে যেতেন ঘটনাস্থলে। এসপি হারুন লামছাম বলে একটা প্রেসব্রিফিং দিতেন। তার কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা-তা নিয়ে সংশয় থেকে যেত বলেই প্রতীয়মান হয়েছে  বোদ্ধামহলের কাছে। 

 

তাদের মতে, এসপি’র দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলাম দশদিনে বুঝিয়ে দিলেন পুলিশিং কি জিনিসি। চাইলে একজন ভাল অফিসার কিভাবে  জেলার আইনশৃংখলাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখেন। কি চমৎকারভাবে সবকিছু চলছে। থানা পুলিশ নিয়মিত কাজগুলো করে যাচ্ছেন। কোথাও কোন শব্দ নেই। ভেতরের তাগিদ থেকেই পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। কারো মধ্যে এগ্রেসিভ ভাব নেই।

 

শহরের কয়েকজন সিনিয়র নাগরিক ও আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, পুলিশ চাইলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। কিভাবে সেটা সম্ভবপর হয় তা শিখিয়ে দিয়ে গেছে আগের এসপি। তিনি ছিলেন অশান্তির কারিগর। অথচ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে সর্বত্র একটা শান্তির ভাব বিরাজ করছে। বর্তমানে এসপি’র দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলাম নিখুঁতভাবে কাজ করছেন। এ জন্য তিনি ঢাকঢোল পিটিয়ে কারো সহযোগীতা কামনা করেননি। করেননি তথাকথিত  প্রেসব্রিফিং।

 

কেননা সহযোগীতার নামে আগে যা হয়েছে-তা এক কথায় ন্যাক্কারজনক ছিল। আগে  জেলার প্রতিটি থানা ও ডিবি কার্যালয় বিচার-শালিসের অফিসে পরিণত হয়েছিল। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় বসতো বিচার সালিশ।  কোন একজন অফিসার তদন্তের নামে বিবাদমান পক্ষদের ঢেকে থানায় এনে শুরু করতো দেন দরবার।

 

পুলিশের ওই অফিসারটি যার পক্ষে থাকতেন তার বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতে চাইতেন না। তর্ক-বিতর্ক করে ও আইনকানুনের প্যাঁচ কষে একটি পক্ষের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য পুলিশ দুর্ব্যবহার করতেন। এমনকি মামলার ভয় দেখিয়ে একপক্ষে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন। সিদ্ধান্ত না মানলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার ঘটনা ঘটতো বেশি।

 

একাধিক সূত্র জানায়,  জেলা ডিবি পুলিশ একটা সময়ে গিয়ে এসপি হারুনের নিজস্ব টিম হিসেবে কাজ করতো। ডিবি মানেই যাকেতাকে ধরে আনা। মারধর করে মোটা অংকের টাকা আদায়। ডিবি’র কথার নড়চড় হলে যে কোন ব্যক্তিকে  জোরকরে উঠিয়ে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে ৩/৪ দিন এমনকি এক সপ্তাহ পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন চলতো। এ নিয়ে এসপি’র কাছে নালিশ গেলেও তিনি তা আমলে নিতেন বলে মনে হয়না। 

 

কেননা, ডিবি পুলিশ নালিশকারী ব্যক্তিকে পরদিন ফোনে মামলার ভয়ভীতি দেখাতেন। ডিবি কার্যালয় মানেই একটা টর্চার সেল। ডিবি’র বিতর্কিত কর্মকান্ডে ডিবি অফিস নিয়ে একটা ভয় কাজ করতো সাধারণ মানুষের মনে। ডিবি অফিস পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভবনে ট্রান্সফার করার পরও ডিবি’র কার্যক্রম বিতর্কমুক্ত ছিলনা। এ বছরের শুরুতে ডিবি’র ইনচার্জে ছিলেন এনামুল হক। তিনি কিছু ভাল করেছিলেন। 

 

এরপর হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন। সালিশের নামে চলে পরোক্ষ চাঁদাবাজি। তিনি নিজে একটা পক্ষ হয়ে সালিশ বাণিজ্য শুরু করেন প্রকাশ্যে। কথায় কথায় এসপি’র নাম ভাঙ্গাতেন। মিডিয়া সরব থাকায় এনামূল হক এসপি’র আগেই বিদায় হন। সাগরেদ এর পরপরই ওস্তাদজীও বিদায় হলেন কেঁদে। আগে মানুষকে কাঁদিয়েছেন। পরে নিজেও কাঁদলেন।

 

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জবাসী আর কোন সিংহাম বা চুইংগাম মার্কা কোন পুলিশ অফিসার দেখতে চায়না। নারায়ণগঞ্জবাসী চায় সৎ যোগ্য পরিশ্রমী ও জনবান্ধব পুলিশসুপার। যিনি সত্যিকার অর্থেই ভাল। রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের কাছে নেতা সাজার চেষ্টা কখনো কোন ভাল অফিসারের কাজ হতে পারেনা। ভাল অফিসারের কাজই বলে দিবে তিনি কেমন। 

 

গত দশ দিনের চিত্রটা নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে বিশ্লেষন করলে যা দাঁড়ায় তাহলো, একজন চৌকস অফিসার পুলিশ সুপারের দায়িত্বে আছেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষও শান্তিতে আছে।

এই বিভাগের আরো খবর