বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে আগুন : অসাবধানতাই অগ্নিকান্ডের কারণ

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ইউসুফ আলী এটম (যুগের চিন্তা ২৪) : ২০১৩ সালে ইসদাইর ওসমানী স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন  অনুমোদিত স্থানে  গড়ে ওঠেছে  শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির। এই মন্দিরে ২৪ প্রহরব্যাপী ৩ দিনের তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্ত্তনের দ্বিতীয় দিন গত শুক্রবার রাত ৯টায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। 


এসময় টিন দিয়ে ঘেরা মন্দিরের ভেতর প্রায় সহ¯্রাধিক ভক্ত কীর্ত্তন শোনায় মগ্ন ছিলেন। চার ভাগের তিন ভাগ ভক্তই ছিলেন বয়স্ক মহিলা। 
মন্দিরের ভেতরেই উত্তর-পশ্চিম কোণায় গড়ে তোলা রান্নাঘরে সিলিন্ডার গ্যাসে লুচি ভাজছিলেন এক মহিলাভক্ত। মনের ভুলে জ্বলন্ত চুলায় তেলভর্তি কড়াই রেখেই ওই মহিলা কীর্ত্তন শোনায় মগ্ন হয়ে যান। 


তেল পুড়তে পুড়তে গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তিনি তেলভর্তি উত্তপ্ত কড়াইয়ে পানি ছিটা দিলে ফিনকি দিয়ে অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হয়। নিমিষেই রান্নাঘরের তাকে রাখা কাপড় এবং ঠোঙ্গায় আগুন ধরে যায়। 


‘আগুন আগুন’বলে  চিৎকার দিতে দিতে ভক্তরা সবাই একসাথে দরজা দিয়ে বের হতে গিয়ে পদদলিত হতে থাকেন। অনেকে  টিনের বেড়া ভেঙ্গে বেরুতে গিয়ে আহত হন। প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের মতো গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় ফার্মেসী, ক্লিনিক এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। 


আশংকাজনক অবস্থায় ২ মহিলাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পদদলিত হয়ে বুকে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা পূর্ব ইসদাইরের বাসিন্দা শিলা রাণী দাস ঢাকার সোহ্ রাওয়ার্দি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। 


টিনের বেড়া ভেঙ্গে বেরুতে গিয়ে বাঁ পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত হন ৭২ নং ইসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  অবসরপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষিকা অনুকা রাণী ঘোষ। 


তাকে রাতেই ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পায়ে অপারেশন করা হয়। এখন তিনি তার পূর্ব ইসদাইরস্থ বাসায় শয্যাশায়ী।
তিনি বলেন, কোথা দিয়ে যে কি হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না। আগুন লাগার চিৎকার শুনে দরজা দিয়ে বেরুতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম। হঠাৎ দেখলাম,টিনের বেড়া কাটা হচ্ছে। ওই রাস্তা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসলাম। কিন্তু বাঁ পায়ে ব্যথা অনুভব করলাম। চেয়ে দেখি, পায়ের গোড়ালি দিয়ে রক্ত ঝরছে। 


এক টুকরা কাপড় দিয়ে পা বেঁধে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ইসদাইর বাজারে গিয়ে একটা ফার্মেসীতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। খবর পেয়ে ছেলেরা এসে ঢাকায় নিয়ে যায়। ভগবান জানেন সুস্থ হতে কতোদিন লাগে।


মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়,রান্নাঘরে অগ্নিদগ্ধ জিনিসপত্র ইতিউতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কয়েকশ’ জুতা, স্যান্ডেল বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে। সুনিল নামের একজন সেবায়েত জানান,দিলীপ নামের একজন পুলিশ সদস্য এই মন্দিরের দেখভাল করেন। 
 
 

এই বিভাগের আরো খবর