বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : শ্রীলঙ্কার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে গতকাল বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষের নাম ঘোষণা করেছেন। প্রায় এক দশক আগে তামিল টাইগারদের প্রতিহত করে সমর্থকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়ে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠেছে রাজাপক্ষে পরিবার।

 

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, সপ্তাহান্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দল লজ্জাজনক পরাজয়ের শিকার হওয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে পদত্যাগ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার দুইবারের প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।


শ্রীলঙ্কার কয়েক দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে তামিল টাইগারদের নির্মূল করার কৃতিত্ব রাজাপক্ষে ভাইদের। যুদ্ধাপরাধ ও একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দেশটির প্রশ্নবিদ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাঁরা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।

 

নতুন প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাহিন্দা রাজাপক্ষে (৭৪) তাঁর ছোট ভাই গোতাবায়ার (৭০) কাছে শপথ গ্রহণ করবেন। বাসিল ও চামাল নামে রাজাপক্ষের আরও দুই ভাই শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

 

মুখপাত্র বিজয়ানন্দ হেরাথ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী রাজাপক্ষে শপথ নেওয়ার পর তাঁর মন্ত্রিসভা নিয়োগ করা হবে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে মাহিন্দা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে গোতাবায়া তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন।

 

প্রবীণ রাজাপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে থাকবেন দুই ভাই। মাহিন্দা প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাদের বড় ভাই চামাল রাজাপক্ষে সংসদের স্পিকার ছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ ঘোষণা করেছেন। এতে আগামী বছরের প্রথম দিকে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে রাজাপক্ষেদের সংখ্যালঘু সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার হলো।

 

সংখ্যালঘু সরকার
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে আমরাই এগিয়ে আছি। তবুও রাজাপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া আদেশকে আমরা সম্মান করি। আমরা তাঁকে নতুন সরকার গঠনের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’


৭০ বছর বয়সী বিক্রমাসিংহে বলেছেন, পদত্যাগের বিষয়ে তিনি নতুন প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেছেন। এর ফলে নতুন করে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছে রাজাপক্ষের দল ফ্রিডম পার্টি।


বিক্রমাসিংহের মুখপাত্র সুদর্শন গুনাবর্ধনে আগের দিনই বলেছিলেন, জাতির উদ্দেশে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভা এবং জোটের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠক করবেন।


বিক্রমাসিংহে দলটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিহত সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসার ছেলে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) প্রধান সাজিথ প্রেমাদাসাকে (৫২) এগিয়ে রেখেছিলেন। তবে দ্বীপপুঞ্জের ২ কোটি ১৬ লাখ জনগণের এক বিভাজনমূলক নির্বাচনে গোতাবায়ার কাছে তিনি একচেটিয়াভাবে হেরে যান।


১৯৭২ সালে তামিল বিদ্রোহীরা পৃথক একটি দেশের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। এতে প্রায় চার দশকের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা গেছে। ২০০৯ সালে সিংহলি সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজাপক্ষে সরকার সর্বাত্মক সামরিক হামলায় তামিল টাইগারদের প্রতিহত করে। এর পর থেকে দেশটিতে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে রাজাপক্ষে পরিবার।

এই বিভাগের আরো খবর