সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯   বৈশাখ ৮ ১৪২৬   ১৬ শা'বান ১৪৪০

শুভ নববর্ষ ১৪২৬,  নতুন প্রত্যাশায় বাংলা বর্ষবরণ

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা। পুরনো বছরের অর্জনগুলো সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নতুন বছরকে আমরা স্বাগত জানাই।


আমরা জানি, অসাম্প্রদায়িকতা বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। সাম্য-সমতার পক্ষে, বৈষম্য-ধর্মান্ধতার বিপক্ষে এবং নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালির চিরায়ত অবস্থান আমাদের জাতিগত অহংকার। 


নিজেদের আত্মপরিচয়ের এদিকটি আমরা যেন অটুট রাখতে পারি, নতুন বছরের শুরুতে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। একটি জাতি যখন সামাজিক শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতির ধারা থেকে বিচ্যুত হয়, তখন তার মেধা-মননের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। 


ভবিষ্যতে যার চড়া মূল্য গুনতে হয়। তাই নতুন বছর উদযাপনের প্রাক্কালে সমাজের মলিনতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করার প্রত্যয়গুলো মনে রাখা চাই। আমরা আরো জানি, বাংলাদেশ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের মানুষের আবাসভূমি। 


বাংলা নববর্ষ এমন এক উৎসব, যেখানে এসে সব পরিচয় একাকার হয়ে যায়। আমরা হাজার বছরের যে সাংস্কৃতিক চেতনা ধারণ করে আসছি, পহেলা বৈশাখে তারই পুনর্জন্ম ঘটুক। 

 

কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন।


১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।


পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে।


দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।


বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে সার্বজনীন উৎসবে। পহেলা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে সারাদেশ। 


বর্ষবরণের এ উৎসব আমেজে মুখরিত বাংলার চারদিক। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করে বাঙালি মিলিত হবে তার সর্বজনীন এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে থাকবে কোটি মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহ্বলতা।


নববর্ষ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিক তুলে ধরে ক্রোড়পত্র বের করেছে। সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে নববর্ষকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে।
 

এই বিভাগের আরো খবর