বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৬ ১৪২৬   ১৫ শা'বান ১৪৪১

শুভ জন্মদিন শামীম ওসমান

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যুগের চিন্তা ২৪ : বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐতিহ্যবাহী ‘ওসমান পরিবার’ এর সন্তান নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ৫৯ তম জন্মদিন আজ। শুভ জন্মদিন শামীম ওসমান।


নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনের গণ্ডি পেরিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করা সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। ছাত্র সংগঠন দিয়ে রাজনীতির হাতেখড়ি তাঁর। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে রক্তে রাজনীতির নেশা ছিল শৈশবকাল থেকেই। তিনি বর্ণাঢ্য ৫৮ টি বসন্ত পেরিয়ে আজ ৫৯‘তে পা রাখলেন। 

 

ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনক, বাংলাদেশের প্রথম সংসদের সদস্য এ কে এম সামসুজ্জোহা ও ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা দম্পতির কোল আলো করে ১৯৬১ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন শামীম ওসমান। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ শামীম ওসমান জাতীয় সংসদে তৃতীয় বারের মতো প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪। ব্যক্তিগত জীবনে শামীম ওসমান এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। একমাত্র ছেলে অয়ন ওসমান গেলো বছর বাবা হওয়ার মধ্য দিয়ে দাদাও হয়েছেন শামীম ওসমান।

 

ওসমান পরিবারের কর্ণধার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খান সাহেব ওসমান আলীর ছোট নাতি শামীম ওসমান। দাদা থেকে শুরু করে তিন ভাই একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শামীম ওসমানে বড় ভাই এ কে এম নাসিম ওসমান চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, মেঝ ভাই বিকেএমইএ’র বর্তমানসহ বেশ কয়েকবার নির্বাচিত সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান দুইবার ও নিজে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

 

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অবস্থায় শামীম ওসমান ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে পোস্টার লাগাতে গিয়ে পুলিশের বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছিলেন। ৮০’র দশকের প্রথমভাগে সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ৮১ সালে তিনি তোলারাম কলেজে ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও কাঁপিয়েছেন প্রভাবশালী এই নেতা। সেসময় স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন তিনি।

 

নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন শামীম ওসমান। ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে, গোলাম আযমসহ স্বাধীনতা বিরোধীদের নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে, নারায়ণগঞ্জের কয়েকশ' বছরের কলঙ্ক টানবাজার পতিতাপল্লী উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন করে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। 

 

পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর বেগম খালেদা জিয়ার লং মার্চ আটকে দিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত হন শামীম ওসমান। ১৯৭৮ সালে সরকারি তোলারাম কলেজের ভিপি থাকাকালীন সময়ে একইভাবে চাষাড়ায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গাড়িবহর আটকে দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর থেকেই জাতীয় রাজনীতির মাঠে বলিষ্ঠ নেতা হয়ে উঠেন শামীম ওসমান।

 

নিজ সংসদীয় আসনে উন্নয়নের ক্ষেত্রেও রয়েছে তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়ে নারায়ণগঞ্জের ডিজিটাল টেলিফোন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড নির্মাণ, ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও গ্যাস সমস্যার সমাধান, বক্তাবলীতে বিদ্যুৎ সংযোগ, তোলারাম কলেজে অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু, রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন, নতুন আদালত ভবন, জেলা কারাগার নির্মাণ, শামীম ওসমান এমপি থাকা সময়ে বড় কাজগুলোর অন্যতম। সে সময় তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন নিজ সংসদীয় আসনে।

 

দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালে এমপি র্নিবাচিত হওয়ার পর উন্নয়নের মাত্রা দ্বিগুন ছাড়িয়ে যায়। টানা দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন । শামীম ওসমানের নিজ ভাষ্য মতে, দ্বিতীয়বার এমপি হয়ে তিনি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। যার মধ্যে ৫৫৮ কোটি টাকার (চলমান) ডিএনডি প্রকল্প অন্যতম। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে পর পর দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন দাপুটে রাজনীতিক আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান।

এই বিভাগের আরো খবর