সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

শুক্রবার অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নাগরিক স্মরণ সভা

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (যুগের চিন্তা ২৪) : অধ্যাপক মোজাফফ আহমদ স্মরণে নাগরিক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নাগরিক স্মরণ পরিষদের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ নাগরিক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

 

পরিষদের আহ্বায়ক এড.এবি সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত থাকবেন-ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সিপিবি উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান, ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য এড.এনামুর হক, এড.আবদুর রহমান, এড.পরিতোষ দেবনাথ ও স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

 

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নাগরিক স্মরণ পরিষদের সদস্য সচিব এড. আওলাদ হোসেন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে আলো ছড়ানো অনন্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। শিক্ষা জীবনের কৃতি শিক্ষার্থী কর্মজীবনে অধ্যাপনার পেশায় যোগ দিয়েছিলেন। ঢাকা কলেজ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির শিক্ষক ছিলেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

 
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যান। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিজ জেলা কুমিল্লার দেবিদ্বার আসনে মুসলিম লীগের শিক্ষামন্ত্রীকে পরাজিত করে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।

 

মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা স্কুল শিক্ষক আলহাজ্ব কেয়াাম উদ্দিন ভূইয়া, মাতা আফজারুন্নেছা। 

 

আওয়ামী লীগের বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৯৫৭ সালের ৩রা এপ্রিল পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদে ন্যাপ এর প্রতিনিধি হিসেবে অধ্যাপক মোজাফফর আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব সরকার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারি করেও তাঁকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা পর্যন্ত ঘোষণা করেন। 

 

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ অবিভক্ত পাকিস্তান ন্যাপের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।১৯৬৯ সালে আইয়ুব সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি কারাবরণ করেছেন।

 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন। তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করেন। সে সময় তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ন্যাপ, সিপিবি ও ছাত্র ইউনিয়ন থেকে নিজস্ব উনিশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনে অধ্যাপক আহমদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। 

 

স্বৈরাচারী এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের শুরুতে অধ্যাপক আহমদ কারারুদ্ধ হন। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ঢাকার একটি হাসপাতালে ৯৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

এই বিভাগের আরো খবর