শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

শীতলক্ষ্যা দখলকারী ৩০টি ইটভাটার অবৈধ স্থাপনা, ৩০ একর জমি উদ্ধার

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৯  

রূপগঞ্জ (যুগের চিন্তা ২৪) : রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে ৪র্থ ও ৫ম দফায় ৬ দিনের অভিযানে ৩০ টি ইটভাটার দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ'র ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৬ দিনের অভিযানকালে জব্দকৃত ইট বালু ও কয়লা প্রায় ৪৫ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। ৬ দিনে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরের প্রায় ৩০ একর জমি উদ্ধার করা হয়।


বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ৫ম দফায় তৃতীয় দিনে সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত রূপগঞ্জে উপজেলার খৈসাইর ও লক্ষ্যা শিমুলিয়া এলাকায় নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোতে অভিযান চলে। 

এসময় এনএসটি ব্রিকফিল্ড, বিএবি ব্রিকফিল্ড ও এসএসবি ব্রিকফিল্ডসহ কয়েকটি ইটভাটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভরাটকৃত অংশ অবমুক্ত করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এসময় জব্দকৃত ইট বালু ও কয়লা ১০ লাখ ৫২ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। 

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাবিবুর রহমান হাকিমের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল, উপ-পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক এহতেশামুল পারভেজসহ বিআইডব্লিউটিএ'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া একটি ভেকু, জাহাজ অগ্রপথিক, একটি টাগবোট, একটি স্পীডবোট, বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য, উচ্ছেদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাবিবুর রহমান হাকিম জানান, গত ৬ দিনের অভিযানে ৩০টি ইটভাটার অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইটভাটাগুলো প্রতি বছরই তাদের অব্যবহৃত ইট, খোয়া, ডাস্ট ফেলে ৮-১০ ফুট দখল করে আসছে। এতে ১০ বছরে প্রতিটি ইটভাটা নদীর বিপুল পরিমাণ জমি দখল করেছে। এছাড়া কালো ধোয়া নির্গত করে ইটভাটাগুলো পরিবেশ দূষণ করছে। 

অপরদিকে বড় বড় কোম্পানীগুলো যারা দেশের নেতৃত্ব দেয় তারাও নদী দখলে মেতে উঠেছে। তাদের দখলদারিত্বে নদীর স্বাভাবিক গতি নষ্ট হচ্ছে। তাদের বর্জ্যের কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। সীমানা পিলার সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু সীমানা পিলার দখলদাররা রাতের আধারে নদীর মধ্যে ফেলে গেছে। কিছু আরএস রেকর্ড অনুযায়ী স্থাপন করা হয়েছিল। তবে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সিএস জরিপ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি। নদী দখলদাররা যত প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের কোন ছাড় নেই।দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর এবং ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলা ৬ দিনের অভিযানে লক্ষ্যা শিমুলিয়া, বেলদী ও খৈসাইর এলাকায় প্রায় ৩০ টি ইটভাটা ছাড়াও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড, হ্যামকো ব্যাটারি, হানজালা টেক্সটাইল, রেডিয়েন্ট শিপইয়ার্ড, এস এস ফুডের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। 

এই বিভাগের আরো খবর