বৃহস্পতিবার   ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

শিশু-কিশোরদের নিয়েই লিখতে ভালো লাগে : শরীফ উদ্দিন সবুজ

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৯  

যুগের চিন্তা ২৪ : শরীফ উদ্দিন সবুজকে নারায়ণগঞ্জের মানুষ তাকে সাংবাদিক হিসেবে বেশি চেনেন। তবে তিনি একাধারে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তার লেখা গল্প, উপন্যাস, কবিতা মিলে এ পর্যন্ত ১৬টি বই প্রকাশ পেয়েছে। তার লেখা আম কাঠালের গল্প থেকে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাও। চিত্রনাট্য লেখার ইচ্ছা রয়েছে তারও। এমন এক গুণী ব্যক্তিকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয় ধাবমান সাহিত্য আন্দোলনের নিয়মিত পাঠচক্রে। সেখানে নিজেকে মেলে ধরেন শরীফ উদ্দিন সবুজ।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকালে নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে এ পাঠচক্রের সূচনা বক্তব্যে ধাবমানের সম্পাদক কবি কাজল কানন বলেন, শরীফ উদ্দিন সবুজ বেশিরভাগই লিখেছেন শিশু সাহিত্য। বড় হয়ে শিশুদের জন্য লেখা, শিশু হয়ে যাওয়া কঠিন কাজ। সেই কাজটাই করেন তিনি। 

পাশাপাশি তিনি একজন সাংবাদিক। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন যাবৎ সাংবাদিকতা করে আসছেন। অনেকে ধারণা- সাংবাদিকতার এক ধরণের নেতিবাচক প্রভাব সাহিত্যে পড়ে। আর তা মোকাবেলা করেই লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

কাজল কাননের এই কথার দ্বিমত করলেন না সাহিত্যিক ও সাংবাদিক শরীফউদ্দিন সবুজ। বললেন, সাংবাদিকতা সাহিত্যকে আঘাত করে। সাংবাদিকতার ভাষা আর সাহিত্যের ভাষা ভিন্ন। সাংবাদিকতার ভাষার কারণে সাহিত্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে সেসব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করি। তবে সমালোচনা নিতে হবে। যারা সমালোচনা নিতে পারে তারাই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।

লেখালেখির শুরুর দিকের কথা বলতে গিয়ে শরীফ উদ্দিন সবুজ বলেন, আমার বাবা-মা দু’জনেই লেখালেখি করতেন। আমি ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়তাম। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি লাইব্রেরির মেম্বার আছি ছিলাম। এমনও হয়েছে একদিন ৮টা বই ইস্যু করেছি সারাদিন সারারাত বই পড়েছি, পরদিন আবার লাইব্রেরিতে বইগুলো ফেরত দিয়েছি। 

তবে আমার লেখালেখিতে আসার পেছনে আমার মায়ের অবদান বেশি। সেসময় বই বের করতে হলে প্রকাশককে টাকা দিয়ে বই বের করতে হত। বন্ধু, আত্মীয়সহ বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে ২০ হাজার টাকা দিয়ে আমি আমার প্রথম কবিতার বই পাললিক বের করি। 

আমার মা তখন হঠাৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। আমার মা তখন তার সেবার চেয়ে বইয়ে মনোনিবেশ করতে বললেন। আমার যখন প্রথম বই প্রকাশ হয় তখন আমার মা মারা যান। কিন্তু বইটি প্রকাশ হওয়ার পর মাকে যখন দেই তখন থেকে কোমায় চলে যাওয়া পর্যন্ত সেই বই তার কাছে রেখেছেন।

শরীফ উদ্দিন সবুজ বেশিরভাগই লিখেছেন সায়েন্স ফিকশন ও শিশুদের জন্য গল্প। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প নিয়ে ‘একাত্তরের একদিন’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে তার। তবে সায়েন্স ফিকশন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ছোটদের জন্য সায়েন্স ফিকশন লেখি। তবে বড়দের কাছেও যাবার চেষ্টা করি। 

ছোটরা এডভেঞ্চার চায়। আর মুক্তিযুদ্ধ একটা দুর্দান্ত এডভেঞ্চার। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একাত্তরের একদিন বই প্রকাশিত হয়েছে। নিজের জানা গল্প নিয়েই লেখি। যেমন আমার লেখা ‘বাবু মামা ভূত না’ এই গল্পের বাবু মামা আসলেই আমার মামা। তাকে ঘিরে এলাকায় আদিভৌতিক আলোচনা ছিল। 

সেসব নিয়ে লিখেছি। এখন ঐতিহাসিক উয়ারি বটেশ্বর নিয়ে লিখছি। এখানের চরিত্রগুলোও শিশু-কিশোর এবং তাদের নামচরিত্রেই রয়েছে আমার ছেলে, ভাগ্নে ও ছেলের বন্ধুরা। খোড়াখুড়ি করে তারা একটি প্রাচীন সভ্যতা পেয়েছে তা নিয়েই গল্পটি এগিয়েছে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের নিয়েই লেখার চিন্তাভাবনা রয়েছে। ওদের নিয়ে লিখতেই ভালো লাগে। প্রকাশক প্রতি বছরই গোয়েন্দা গল্পের জন্য বলেন। সেটারও চিন্তা রয়েছে। আমার লেখা গল্প থেকে সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। নিজেরও চিত্রনাট্য লেখার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

আলোচনায় আরো অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারন সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা গোলাম কিবরিয়া শিমুল, দৈনিক সংবাদের সাব এডিটর অমিত আশরাফ, শরীফ উদ্দিন সবুজের বোন নীলা আহমেদ নিশি প্রমুখ।