শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

শামীম ওসমানের কাছে হেরে গেলেন সেলিম ওসমান, লিটন সাহার জয়জয়কার

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : বাংলাদেশ সুতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইয়ার্ণ মাচেন্টস এসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে শামীম ওসমান সমর্থিত লিটন সাহার নেতৃত্বাধীন প্যানেলের জয়জয়কার হয়েছে। সাধারণ গ্রুপের একটি বাদে সবগুলোতে জয় ছিনিয়ে এনেছেন তারা। লিটন সাহার প্যানেলের সামনে পাত্তাই পায়নি সেলিম ওসমান সমর্থিত এম সোলায়মান নেতৃত্বাধীন প্যানেল।

 

বিজয়ী হওয়ার পর বিজয়ী প্যানেলের লোকজন বলছেন, নির্বাচনে শামীম ওসমানের উপস্থিতি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা এবং বাংলাদেশ হোসিয়ারী সমিতির সভাপতি নাজমুল আলম সজলের কারিশমাতেই এতো বড় বিজয় আসা সম্ভবপর হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিজয়ীরা আনন্দোল্লাসে মেতে উঠে। লিটন সাহা প্যানেলের সমর্থকরা বিজয়ীদের নিয়ে মুহুর্মুহু স্লোগানে তারা ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়েশন গলি মাতিয়ে রাখে। 

 

সাধারণ গ্রুপে সাবেক সভাপতি লিটন সাহার নেতৃত্বাধীন প্যানেলে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে। লিটন সাহা ৪৭২ ভোট, সেলিম রেজা ৪৫৮ ভোট, মজিবুর রহমান ৪৫৫ ভোট, মোজাম্মেল হক ৪০২ ভোট, মাস্তফা এমরানুল হক মুন্না ৪০২ ভোট, সঞ্জীত রায় ৩৯০, জয় কুমার সাহা ৩৮৯ ভোট, আমিন উদ্দিন ৩৮৭ ভোট, তাজুল ইসলাম টুটুল ৩৮৩ ভোট, সিরাজুল হক হাওলাদার ৩৬৯ ভোট, অশোক মহেশ্বরী ৩৬৬ ভোট।

 

সাধারণ গ্রুপে এম সোলায়মান প্যানেলে একমাত্র আব্দুল মান্নান মিঞা ৩৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হতে পরেছেন। তবে এসোসিয়েট গ্রুপে এম সোলায়ামান প্যানেলে ছিলো জয়জয়কার। এতে লিটন সাহা প্যানেলের কেউ জায়গা পাননি। জয়ী হয়েছেন সোলায়মান প্যানেলের মাহফুজুর রহমান খান মাহফুজ ১১৯ ভোট, কামরুল হাসান ১০৪ ভোট, ফয়সাল আহাম্মদ দোলন ৯৬ ভোট, মকবুল হোসেন ৯৫ ভোট, খায়রুল কবীর ৮৮ ভোট এবং অসীম কুমার সাহা ৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। 

 

শনিবার (২২ জুন) রাতে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন বিকেএমইএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মঞ্জুরুল হক, সদস্য রাশেদ সারোয়ার ও ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পুর উপস্থিতিতে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। 

 

সাবেক সভাপতি এম সোলায়মানের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে বিজয়ী হতে পারেননি এম সোলায়মান, আব্দুল্লাহ আল হোসেন বাপ্পি, হুমায়ুন কবীর, সাইদুর রহমান মোল্লা, দেবদাস সাহা, আজহার হোসেন, হাবিব ইব্রাহীম, মিন্টু চন্দ্র সাহা, সাইদুর রহমান, মহিউদ্দিন তুরান এবং আব্দুল কাদির। 
লিটনসাহা প্যানেলের বিজয়ী হতে পারেননি আকবর হোসেন মোহাম্মদ মুসা, মুকুল হোসেন মল্লিক, মজিবর রহমান, মাওলানা নাজমুল হুদা বিন মাহিদ, মেহেদী হাসান এবং আফসার আহমেদ।

 

এরআগে শনিবার (২২ জুন) সকাল ৯ থেকে বিকেল  ৪টা পর্যন্ত ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়শন কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান এবং পুলিশ সুপারের উপস্থিতি নির্বাচনে আলাদামাত্রা তৈরি করে। নির্বাচনে ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়শনের এলিট ফোর্স ছাড়াও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

 

দীর্ঘ সাতবছর পর ৯৩৬ জন ভোটারের অংশগ্রহণে দুই বছর মেয়াদী নির্বাচনে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সভাপতিসহ ১৮ জন সদস্য নির্বাচিত করার লক্ষ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল অংশগ্রহণ করে। সাবেক সভাপতি এম সোলায়মানের নেতৃত্বাধীন প্যানেলটিকে এমপি সেলিম ওসমান আগেই সমর্থন দিয়েছেন। তবে লিটনসাহার নেতৃত্বাধীন প্যানেলটি এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী।

 

সেলিম ওসমান নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে কিছুক্ষণ পর পর ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়শন ভবনের ভেতর থেকে মাইকিং করেন। সেলিম ওসমান মাইকে বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এসে দেখলাম বহিরাগত বেশ কিছু মানুষ সাধারণ সদস্যরা যখন ভোট দিতে আসছেন তাদেরকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকের গলায় আমি ব্যাচ দেখেছি। তাদেরকে আমি প্রশ্ন করেছি উনি সদস্য কিনা! উনি সদস্যনা। এখবর পাওয়ার পর আমি এখানে এসেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাই খবর দেয়া হয়েছে। সাদা পোষাকে বেশ কিছু পুলিশকেও আনা হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। কোন ভোটার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভালোবেসে বা টাকা খেয়ে অনেকে ডিস্টার্ব করছেন। সংযত হওয়ার কারণ আমি দেখিনি। অন্যথায় আইনের প্রয়োগ হবে। এখানে কেউ ক্ষমতা খাটাতে পারবেনা।

 

তবে পুলিশ সুপার কিংবা সাংসদ শামীম ওসমান নির্বাচন পরিদর্শনে আসলেও কোন বক্তব্য রাখেননি। 
 

এই বিভাগের আরো খবর