শনিবার   ১৬ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

শামীম ওসমানকে খুঁজছেন রুবেল খান (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০১৯  

মাহফুজ সিহান (যুগের চিন্তা ২৪) : শারীরিক উচ্চতা লেখাপড়ায় যেখানে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি সেখানে একটা চাকরী পেতে কেন হন্য হয়ে ঘুরতে হবে এই প্রশ্ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানকে খুঁজছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রুবেল খান। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই এসএসসি, এইচএসসি পাশ করার পর সরকারি কবি নজরুল কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স পাশ করেও শুধুমাত্র শারীরিক উচ্চতার কারণে একটি চাকরী যোগাড় করতে পারেননি রুবেল। ধর্না দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবন পর্যন্তও। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নাগাল পাননি।

পরিবারের মা ছাড়া বাকি ৬ সদস্যই যখন শারীরিক প্রতিবন্ধী তখন তাদের আহার যোগাতে কি যে কষ্ট হচ্ছে তা বলতে গিয়ে ঢুকরে কেঁদে ওঠেন রুবেল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে কেউ একজন পরামর্শ দিলো তার কষ্টের কথা যেন সাংসদ শামীম ওসমানকে সে বলে। এরপর থেকেই শামীম ওসমানকে হন্য হয়ে খুঁজছেন রুবেল খান। শামীম ওসমান নম্বর যোগাড় করতে প্রথমে গিয়েছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখান থেকে বলা হয়েছে সে যেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে যোগাযোগ করে। এদিক-ওদিক ঘুরে এখনও পর্যন্ত শামীম ওসমানের সাথে দেখা করতে পারেননি রুবেল।    

চাষাঢ়া এক চায়ের দোকানে দেখা হয় রুবেলের সাথে। সেখানে রুবেল বলেন, তাঁর পিতা, তিন ভাই এবং দুই বোনসহ পরিবারের ৬ জনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী তালিকাভুক্ত হলেও তারা কেউই প্রতিবন্ধী হিসেবে কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা পাননি। বর্তমানে রুবেলের বাবা এবিএমএ হান্নান একেবারেই অচল। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে তিনি অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। দৈনন্দিন জীবিকা যাপনের ব্যয়ভার অর্থ জোগান দেয়ার কোন সুযোগ নেই। ছোটবোন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ফাতেমা তুজ জোহরা জাতীয় বিদ্যালয়ের বিএ পড়ছে, শারীরিক প্রতিবন্ধী আরেকবোন আয়শা সিদ্দিকাও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ পড়ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট দুই ভাই শাহজাদ মিয়া ও সাগর স্থানীয় এক স্কুলে ২য় শ্রেণিতে পড়ছে। শুধুমাত্র শারীরিক উচ্চতার কারণে একটি চাকরী না পাওয়ায় তাদের পুরো পরিবারটি আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানান রুবেল। তিনি বলেন, অনেক ঘাতপ্রতিঘাত পার হয়ে এতো কষ্ট করে পড়াশোনা করে কি লাভ হলো।   

শামীম ওসমানের সাথে কেন দেখা করতে চান এই প্রশ্নে রুবেল খাঁন জানায়, ‘আমরা ১৯৯৭ সাল থেকেই ফতুল্লার ভূঁইগড় পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় থাকি। আমাদের পরিবারের ৬ জনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও কখনো আমরা কারো কাছে হাত পাতিনি। ভেবেছি লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকরি করে পরিবারের হাল ধরবো। ২০১৪ সালে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে বের হবার পরও এই ৫ বছরে একটি চাকরী পাইনি শুধুমাত্র শারীরিক উচ্চতার কারণে। এলাকায় টিউশন করে পরিবারটিকে এখনো অবদি টিকিয়ে রেখেছি। কিন্তু আর পারছিনা। আমরা শামীম ওসমান হাজারো মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান, এলাকার অনেক উন্নয়ন করছেন আর আমরা তাঁর এলাকায় থেকে ৭টি মানুষ না খেয়ে মরছি একথাটুকুই শুধু তাঁকে (শামীম ওসমান) জানাতে চাই। কতোটা দুর্বিসহ জীবনযাপন করছি সেই কথাটুকু এমপি শামীম ওসমানকে জানাতে চাই।’ 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে রুবেল বলেন, ‘আমাদের দুর্ভোগের কথাটা যদি আপনার কাছে পৌঁছায় তবে আপনাকে বলছি, অনেককে আপনি অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। আমরা খুব অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছি। নয়তো আমাদের মেরে ফেলার জন্য বলেন। এই ভার আর বইতে পারছিনা।’ 

সরেজমিন কথা হয় ফতুল্লার ভূঁইগড়ের বাসায় রুবেলের বাবা এবিএমএ হান্নানের সাথে। তিনি বলেন, আমার শারীরিক উচ্চতা  ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি। বড় ছেলে রুবেলের শারীরিক উচ্চতা ৩ ফুট ৪  ইঞ্চি। বাকি ছেলে মেয়েগুলোও আমার মতোনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তবুও কারো কাছে হাত পাতিনি। ভেবেছি ছেলেমেয়েগুলোকে মানুষ করতে পারলে আমার দুঃখ বোধহয় লাঘব হবে। বড় ছেলে রুবেলটা মাস্টার্স পাশ করেছে ঠিকই কিন্তু শুধুমাত্র শারীরিক উচ্চতার কারণে একটা চাকরি পাচ্ছেনা। পুরো পরিবারটি নিয়ে মহাসমুদ্রে ভাসছি। কোন উপায়ন্তর পাচ্ছিনা। রুবেল জেদ ধরেছে এমপি শামীম ওসমানের সাথে সে দেখা করবে। শুধু এটুকুই বলবো ছেলের যোগ্যতা অনুযায়ী একটা চাকরি হলে আমাদের পুরো পরিবারটা বেঁচে যেতো। 
 

এই বিভাগের আরো খবর