শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

রেলওয়ের উচ্ছেদ : থাকবেনা মাউরা, মনির ও বোসকেবিন

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

ইমতিয়াজ আহমেদ (যুগের চিন্তা ২৪) : নারায়ণগঞ্জে বেশ জোরেশোরেই চলছে রেলওয়ের ডাবল লাইনের কাজ। সিঙ্গেল লাইনকে ডাবলে রূপান্তরিত করতে গিয়ে বেহাত হয়ে যাওয়া রেলওয়ের জায়গা উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় নগরবাসী কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবুও সকলে উন্নয়নের পক্ষে। 

 

রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙ্গা পড়েছে আলোচিত ‘থানকাপড়’ মার্কেট। জমজমাট এই মার্কেটটি এখন যেন ধ্বংসস্তুপ! রেলওয়ের সূত্রগুলো বলছে এরপর ভাঙ্গার তালিকায় আছে মাউরা হোটেল, মনির হোটেল ও  বোসকেবিন। 

 

সূত্রমতে, ডাবল লাইনের জন্য রেলওয়ের জমি একইঞ্চিও ছাড় দেয়া হবেনা। ২নং রেলগেটের মনির হোটেল, ফুডল্যান্ড ও জেলা আওয়ামীলীগ অফিসের দেয়াল ভেতরের দিকে ৫ ফুট পর্যন্ত ভাঙ্গা পড়বে। আপাতত ভাঙ্গা না হলেও কোন অবস্থাতেই রাখা হবেনা এই স্থাপনাগুলো। অযথা আশান্বিত হয়ে কোন লবিং কাজে নাও আসতে পারে। 

 

থান কাপড় মার্কেটের বাকি অংশও থাকবেনা। আগামী ডিসেম্বর মাস নাগাদ উচ্ছেদ করা হবে ২নং রেলগেট -১নং রেলগেট এর মধ্যকার অবৈধ স্থাপনাগুলো। আপাততঃ রেলওয়ের জায়গায় ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন এমন লোকদের জন্য কোন সুখবর নেই। সবই খারাপ খবর। 

 

এদিকে, একটি বিশেষ সূত্র বলছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাছে ২নং রেলগেট থেকে ১নং রেলগেট পর্যন্ত ১৮ ফুট জায়গা চেয়েছে রেলওয়ে। এরমধ্যে ১২ ফুট কাজে লাগবে ৬ ফুট ছেড়ে দেয়া হবে। নাসিক মেয়র ডা. আইভী জনস্বার্থের কথা বলেই রেলওয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তবুও ডাবল লাইন হবে। 

 

স্টেশন থেকে ১নং রেলগেট এবং চাষাড়া থেকে ২নং রেলগেট পর্যন্ত ডাবল লাইন হবে। মাঝখানে বাকি থাকতে পারে দ্বিগুবাবুর বাজারের অংশটি (২নং রেলগেট টু ১নং রেলগেট)। তবে রেলওয়ে আশা করছে বাকি ১৮ ফুট জায়গাও তারা বরাদ্ধ পাবে। 

 

সম্প্রতি আরেকটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাহলো উচ্ছেদের পরপরই  রেলওয়ের জায়গায় আবার দোকানপাট বসে যায়। উচ্ছেদের পর উদ্ধারকৃত জমির রক্ষণাবেক্ষন করা হয়না। দেয়া হয়না পাহারা। শহরবাসীর দাবি উদ্ধারকৃত যায়গায় ডিভিশনাল এস্টেট অফিসারের পাহারার ব্যবস্থা করা উচিৎ। 

 

ফলপট্টির চিত্র পাল্টে গেছে। উচ্ছেদের পরপরই বসে গেছে ৭০টি দোকান। এ সকল দোকান থেকে ৭ হাজার টাকা করে ভাড়াও নেয়া হয়েছে। এই অপকর্মের হোতা আনিস ও একজন সংবাদকর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে। আবারো রেলওয়ের উদ্যোগে নগরীর ১নং রেলগেট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় এক হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা সূত্রে জানা যায়, অভিযান পরিচালনাকালে শহরের  ঐতিহ্যবাহী মাউরা হোটেল উচ্ছেদ করতে গেলে হোটেল মালিক কর্তৃপক্ষ তারা সময় আবেদন করেন। এ সময় ২ দিনের সময় দেয়া হয়েছে বলে জানান হোটেল কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ হওয়া স্থানগুলোতে জুয়া, মাদক কারবারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজ হত। তাদের সেই আস্তানা ভেঙ্গে দেয়াই অনেকেই স্বস্তি অনুভব করছেন। 

 

উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে ডেপুটি কমিশনার নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সদর এসি ল্যান্ডের কানুনগো ইকবাল, ১নং  রেলস্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনর সদস্যরা।

 

দৈনিক যুগের চিন্তার পক্ষ থেকে জানতে চাইলে রেলওয়ের বিভাগীয় এস্টেট অফিসার মো.নজরুল ইসলাম জানান, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ শহরের ১নং রেলগেট থেকে ২নং রেলগেট পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলবে। এ মাসেই নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হবে। এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেয়া হবেনা। রেলওয়ের নাম করে অনেকে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছে। 

 

তিনি আরও বলেন, থানকাপড় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জানা উচিৎ কোন অবস্থাতেই রেলওয়ের জ৭ায়গায় মার্কেট থাকবেনা। বাকিটুকুও উচ্ছেদ করা হবে। ২নং রেলগেইটে মনির হোটেল ও ফুডল্যান্ড ছাড়িয়ে জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের ৫ ফুট ভেতরে রেলওয়ের জায়গা। আওয়ামী লীগ অফিস পর্যন্ত সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। রেলস্টেশন এলাকার মাউরা হোটেলও থাকবেনা। রেলওয়ের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।রেলওয়ের জায়গায় অন্যকোন স্থাপনা থাকতে পারবেনা। 

 

উচ্ছেদ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা কষ্ট করে উচ্ছেদ করি। রেলওয়ের জায়গা উদ্ধার করি। দু’দিন গেলেই সেই জায়গায় বসে পড়ে একদল দোকানদার। আমরা কত পরিশ্রম করে ১নং রেলগেট সংলগ্ন ফলপট্টি এলাকার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি।সেখানে আবার  দোকানপাট বসে গেছে। আমরা উচ্ছেদ করতে পারি কিন্তু সে জায়গা পাহারা দিয়ে রাখতে পারিনা। পাহারা দেয়ার দায়িত্ব  রেলওয়ে পুলিশের। কিন্তু রেলওয়ে পুলিশ দায়িত্বে অবহেলা করে বলে অভিযোগ পাই।  

 

এ ব্যাপারে আলাপকালে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি নারায়ণগঞ্জের ইনচার্জ এসআই আলী আকবর বলেন, ১নং রেলগেট থেকে ২নং রেলগেট পর্যন্ত অংশ দেখে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। আমরা কিছু বললেও দোকানদাররা কর্ণপাত করেনা। সিটি কর্পোরেশন দ্বিগুবাবুর বাজারের অংশে রেললাইনের দু’পাশের  দোকানপাট উচ্ছেদ করেছিল। রেললাইনের দু’পাশ আবার দখল হয়ে গেছে। ফলপট্টি অংশে লুকোচুরি চলছে। এখানে আবারো দোকানপাট গজিয়ে উঠছে। আবারো উচ্ছেদ করা হবে। তাছাড়া এবার রেলওয়ের জমি পরে থাকবেনা। এখানে রেলওয়ের অফিস  তৈরি করা হবে। 

 

তিনি আরও বলেন, তাছাড়া আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। আমাদের মোট জনবল ৯ জন। ২ জন ডিউটি করে ঢাকা রেলওয়ে থানায়। ২ ছুটিতে আছে। পরীক্ষা চলছে ২ জনের। বাকী ৩ জন কনস্টেবল ডিউটি করছে। আমি ফাঁড়ি ইনচার্জ হিসেবে থাকলেও বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকি। মামলা-মোকদ্দমা ও সাক্ষী নিয়ে ঢাকায় দৌড়াতে করতে হয়। আমরাতো ঢাকা  রেলওয়ে থানার অধীনে। তাই সেই থানার কাজ কর্ম বেশি করতে হয়। এ কারণে নারায়ণগঞ্জে সময় দিতে পারিনা। 

এই বিভাগের আরো খবর