শনিবার   ২৫ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬   ২০ রমজান ১৪৪০

রূপগঞ্জে চাল বাজারজাতকরণে ব্যবহার হচ্ছে প্লাস্টিকের বস্তা

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০১৯  

রূপগঞ্জ (যুগের চিন্তা ২৪) : পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে পাটের তৈরি বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। চাল ও ধান বাজারজাতকরণে পাটের বস্তা ব্যবহারে সরকারের আইন মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে রূপগঞ্জের চাল ব্যবসায়ীদের উপর।  যদিও চাল ও ধান  বাজারজাতকরণে শুধুই  পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 


সরকারের উর্ধ্ব মহল থেকে নির্দেশ রয়েছে এই দুটি পণ্যের মোড়কে কোনো প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সরকারের এই নির্দেশ মানছেন না চাল ব্যবসায়ীরা!  চাল এখনো প্লাস্টিকের বস্তাতেই বিক্রি হচ্ছে। 


উপজেলার তাঁত বাজার, হাজী আব্দুল হক সুপার মার্কেট, গাউছিয়া কাঁচাবাজার, মুড়াপাড়া বাজার, ইছাপুরা বাজার, তারাব বাজার, বরাব বাজার, বরপা বাজার,কাঞ্চন বাজার, আতলাপুর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে অনায়াসেই প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রি হচ্ছে। 


মূলত প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাবে চাল কল ও বিভিন্ন বাজারগুলোতে ক্ষতিকর প্লাস্টিক ব্যাগ ফের ফিরে এসেছে। প্লাস্টিকের মোড়ক পচে না। ফলে এগুলোর বর্জ্যইে পরিবেশ দূষণের মাত্রা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পয়োঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও বিঘিœত হচ্ছে। 


মঙ্গলবার (১৪ মে) উপজেলার বিভিন্ন চালের আড়ৎ ও অন্যান্য বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকানে ক্ষতিকর প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রায় অধিকাংশ বাজার ও আড়ৎ ঘুরে একই অবস্থা দেখা যায়। মার্কেটের দোকান থেকে উধাও হয়ে গেছে পাটের বস্তা! সয়লাব হয়েছে প্লাস্টিকের বস্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাটকলগুলোতে এখন দুই ধরনের পাটের বস্তা তৈরি হচ্ছে। যে বস্তা রপ্তানি হয়, তার দাম ৬০-৭০ টাকা। আর দেশি চাহিদা মেটাতে তৈরি হওয়া বস্তার দাম ৪২-৪৫ টাকা। 


অন্যদিকে একই ওজন বহনে সক্ষম প্লাস্টিকের বস্তা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় ১৫-২০ টাকায়। তাই ব্যবসায়ীদের কাছে প্লাস্টিকের বস্তা বেশি জনপ্রিয়। ফলে এক শ্রেণীর অসাধু চাল ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে অবৈধ প্লাস্টিক ব্যাগ অবাধে ব্যবহার করছে। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, চাল কল ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিকের বস্তায় চাল সরবরাহ করে। আর তাদের সেই বস্তাতেই চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। বিষয়টি তাদের হাতে নেই। তবে পাটের বস্তার চেয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় পণ্য বেচাকেনা ও আনা-নেয়া বেশি সুবিধাজনক।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান, ২০১০সালে সরকার পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন জারি করেন। আইনানুযায়ী,  পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের মোড়ক বা পলিথিন ব্যবহার করে, তবে ওই আইনের ১৪ ধায়ায় তা দন্ডনীয় অপরাধ হবে। 
এখন কেউ আইন অমান্য করলে শীঘ্রই  তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

এই বিভাগের আরো খবর