বৃহস্পতিবার   ১৪ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

রাসেল পার্কটি বন্ধ করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে : রফিউর রাব্বি

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪): সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক এবং সংস্কৃতিজন রফিউর রাব্বি বলেছেন, আজকে রাসেল পার্কের যেই চেহারা তৈরি হয়েছে এটার স্বীকৃতি সারা বিশ্বে কাছে পেয়েছে কিন্তু পার্কটি বন্ধ করতে নারায়ণগঞ্জের একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। রেলওয়ের কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে ডাবললাইন স্থাপনের কার্যক্রমকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। ডাবল লাইনের নামে বাণিজ্য করার সুযোগ আমরা আর দেবোনা।

 

শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে শেখ রাসেল পার্ক বাস্তবায়ন ও হাজীগঞ্জ কেল্লা উন্মুক্তকরণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রফিউর রাব্বি বলেন, আজকে আমরা রাসেল পার্ক নিয়ে বলছি, কেন বলছি? বলছি এই জন্যে যে, আমাদের নারায়ণগঞ্জে কিছু ভূমিদস্যু ব্যক্তিবর্গ আছে যারা বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের জায়গা, রাজউকের জায়গা, বিআইডব্লিইটি’র জায়গা দখল করে নিচ্ছে। আমরা যেখানে দাঁড়িয়েছি (নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব) এর পিছনে  রাজউকের জায়গা দখল করে নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ে অসাধু ব্যক্তিবর্গ এবং নারায়ণগঞ্জের কিছু ভূমিদস্যু ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তারা যুগের পর যুগ ধরে এই দখল চালিয়ে যাচ্ছে।

 

তিনি আরও লেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১৮৮১ সালে নারায়ণগঞ্জে কয়েক শত একর মি অধিগ্রহণ করেছে, রেলওয়ের প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য। অধিগ্রহণকৃত শতকরা ২০ ভাগ জায়গা তারা ব্যবহার করেছে এবং বাকি ৮০ ভাগ জায়গা তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সময় মানুষের কাছে  বিক্রি করেছে। অথচ অধিগ্রহণ আইনে বলা আছে যে, অধিগ্রহণকৃত জায়গা যদি কাজে না লাগে তাহলে যাদের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাঁদের কাছে অথবা তাঁদের যদি পাওয়া না যায় তখন সেই জায়গা স্থানীয় কার্যকর প্রশাসনের কাছে তাঁরা হস্তান্তর করবে। তাই আমরা বলতে চাই ১৮৮১ সালে রেলওয়ে যে জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেই জায়গা তৎকালীন পৌরসভার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের।

 

রেলওয়ের কাজে লাগানো জায়গার বাইরে যেসব জায়গা রয়েছে তা রেলওয়ের জায়গা নয়। রেলওয়ে অধিগ্রহণ করেছে সোয়াশ বছর আগে তবে সেটি রেলওয়ের জমি না। যদি কাজে না লাগে তাহলে তা নারায়ণগঞ্জের মানুষকে ফেরত দিতে হবে অথবা স্থানীয় প্রশাসন কিংবা সিটি করপোরেশনকে ফেরত দিতে হবে। কোন ভাবেই তারা তা বিক্রি করতে পারে না।

 

আমরা দেখেছি শত শত একর জায়গা তাঁরা বিক্রি করেছে। ২০০৫ সালে এই জীমখানার জায়গা বিক্রি করার জন্য তাঁরা (রেলওয়ে) টেন্ডার ঘোষণা করেছিলো। তখন পৌরসভা হাইকোর্টে রিট করে এটিকে বাতিল করেছে। এরপর আমরা দেখেছি নারায়ণগঞ্জের এই চিহ্নিত গোষ্ঠিকে নিয়ে তারা এটিকে বিক্রি করার চেষ্টা করেছিলো। আমরা স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই যে এটিতে স্থানীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

 

এ সময় তিনি রেলমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনার মন্ত্রণালয়ে যে সকল দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তিবর্গ রয়েছে তাদের কথায় নারায়ণগঞ্জের মানুষের বিপক্ষে গিয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না।

 

রফিউর রাব্বি বলেন, মীর জুমলার সময় ১৬৬১ সালে শীতলক্ষ্যার দুই পারে দুটি কেল্লা স্থাপন করা হয়। একটি হাজীগঞ্জ আরেকটি সোনাকান্দা। এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো মগ এবং পর্তুগিজদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। আমরা দেখেছি এই কেল্লার মতো বাংলাদেশে আর কেল্লার উপস্থিতি নাই। এটি নারায়ণগঞ্জের গৌরব ও ঐতিহ্যের বিষয়। কিন্তু এই কেল্লার চারপাশে পাট মন্ত্রণালয়ে সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এটি ঘিরে রেখেছিলো। আজকে যখন এই কেল্লার চারপাশ উন্মুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে তখন স্বার্থান্বেষি মহল এর পিছনে উঠে পরে লেগেছে। আমরা বলতে চাই এখন পর্যন্ত এই কেল্লার চারপাশে যেই স্থাপনা অবশিষ্ট রয়েছে দখলদারদের কাছে তাদেরকে উচ্ছেদ করে এটাকে অবমুক্ত করতে হবে।

 

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ চারুকলাি ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শামছুল আলম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দীন সবুজ, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সমমনা’র সদস্য হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা লিগ্যাল এইড বিষয়ক সম্পাদক শাহানারা বেগম।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু, জিয়াউল ইসলাম কাজল, সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনি সুপান্থ, খেলাঘর জেলা সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ মহসিন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর