শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

যেন বঙ্গবন্ধুই এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জে! (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : লোকটির নাম আরুক মুন্সি। গোপালগেঞ্জর কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কামারোল গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে ১৯৬৯ সালের ৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর সুচাইলে স্থায়ী বসবাস। বাবা জহুর মুন্সি ও মা ময়না খাতুন। চাকরির কারণে তিন ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন ঢাকার হাতিরপুল পাওয়ার হাউস এলাকায়। ১৯৯৩ সাল থেকে গাড়িচালক পদে চাকরি করেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে (ডিপিডিসি)। অষ্টম শ্রেণি পাস বলে নিয়মিত চাকরিতে পদোন্নতি পাননি তিনি। সুযোগ পেলেই আরুক মুন্সি ছুটে যান টুঙ্গিপাড়ায়, যেখানে কেটেছে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব- কৈশোরসহ জীবনের অনেকটা সময়।

 

আরুক মুন্সির চেহারার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর চেহারার বিস্তর মিল। মজার বিষয়, হঠাৎ যে কেউ দেখলে বঙ্গবন্ধু বলে বিভ্রান্ত হবেন। বিশেষ করে যখন তিনি বঙ্গবন্ধুর মতো পোশাক পওে বের হন, তখন সাধারণ মানুষ তাকে ঘিরে ধরে। এমনকি একপলক আরুক মুন্সিকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে তার বাড়িতে ভিড় করেন। অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে থাকেন। কেউ কেউ তার সঙ্গে সেলফিও  তোলেন। অনেকে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে শান্তি পান। কেউ আবার তার মাঝে বঙ্গবন্ধুর ছায়া খুঁজে পান।

মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বলের আমন্ত্রণে শুক্রবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় আরুক মুন্সি নারায়ণগঞ্জে বেড়াতে এসেছিলেন। আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল আরুক মুন্সিকে দেওভোগ শেখ রাসেল নগর পার্ক ঘুরিয়ে দেখান। পেছন পেছন শত শত মানুষ  আরুক মুন্সির সাথে ছবি তুলতে ছুটছে। এক ফাঁকে কথা হয় আরুক মুন্সির সাথে। 

তিনি বলেন, এসব ব্যাপার আরুক মুন্সিকে আনন্দই দেয়। এসব ব্যাপার খুব ভালো লাগে। কখনো এ নিয়ে বিব্রত হই না।
সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও বঙ্গবন্ধুকে মনে-প্রাণে ধারণ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় নানা অনিয়ম আর অনাচার তাকে কষ্ট দেয়। এরপরেও স্বপ্ন দেখেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

 

পরিবার নিয়ে আরুক মুন্সি বলেন, আমার বাবা কৃষক ছিলেন। আমরা চার ভাই। ছোট থাকতে বাবা মারা যান। হতদরিদ্র হওয়ায় রাতইল নায়েবুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করে ঢাকা গিয়ে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করি।

 

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে আরুক মুন্সি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় আর কোনো বঙ্গবন্ধু জন্মাবে না। তাই নিজেকে শুধু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বলেই ভাবি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে চলতে চাই। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করতে চাই।
তবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, শোষণ-নিপীড়ন পীড়া দেয় আরুক মুন্সিকে। বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনোই এসব পছন্দ করতেন না। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি বঙ্গবন্ধু চাইতেন না।

মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল বলেন, আরুক মুন্সি দেখতে অবিকল বঙ্গবন্ধুর মতো দেখায়। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। বঙ্গবন্ধুকে নিজ চোখে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তবে, আমি যখন জানলাম বঙ্গবন্ধুর চেহারার সঙ্গে হুবহু মিল আছে আরুক মুন্সির। আগে একবার দেখা হয়েছিলো। সত্যিই আমি অবাক হয়েছি তাকে দেখে। তিনি যেন বঙ্গবন্ধুর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। প্রথমবার যখন তাকে দেখি তখন ভীষণ অবাক হয়েছিলাম। শোকের মাসে আরুক মুন্সিকে নারায়ণগঞ্জে ঘুরে যাবার জন্য দাওয়াত করেছিলাম। তিনি এসেছেন। খুব ভালো লাগছে। 
 

এই বিভাগের আরো খবর