শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

মেলা, মদের বার, থানকাপড় মার্কেট, বিআরটিসি সব ছিলো আলোচনায়

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : জেলার কয়েকটি  গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ে আলোচনাসহ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে  এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

 

সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জিয়া হলের সামনে মেলা বসানোর ব্যাপারটি আবারো আলোচনা উঠে আসে। বারবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পরও কেন মেলা বন্ধ হচ্ছেনা আর যেসব মেলা বসানো হচ্ছে তাতে কেন বিতর্কিত ব্যক্তিরা এর নেপথ্যে থাকছে এবং এর সুবিধাভোগী কারা এবিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জিয়া হলের মেলা প্রসঙ্গে ডিসেম্বরের মাসিক সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 

 

চাষাঢ়ায় বালুরমাঠ এলাকায় একটি ভবনের মদের বারের কাজ এখনো চলমান এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জেলা প্রশাসন থেকে আশ্বস্ত করা হয় এই মদের বারের অনুমতি জেলা প্রশাসন থেকে দেয়া হয়নি। জেলা মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরেও এবিষয়ে কোন সুপারিশ করা হয়নি বলে জানানো হয় সভায়। 
আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নৌপুলিশের কার্যক্রম আরো কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়। সভায় বলা হয়, নৌপথে নৌপুলিশির কার্যক্রম ঢিলেঢালা গতিতে চলছে। এতে করে নানা অপরাধকর্ম রোধ করা সম্ভবপর হচ্ছেনা। এব্যাপারে নৌপুলিশের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার তাগিদ জানানো হয়। 

 

রেলওয়ের ডুয়েল গেজ (ডাবল লাইন) প্রকল্পের জন্য উচ্ছেদে রেলওয়ে থানকাপড় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে তাদের পুনর্বাসনের কথা তোলা হয়। প্রস্তাবনয় বলা হয়, রেলওয়ে থান কাপড় মার্কেটের মাধ্যমে পুরো দেশে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হয়। রেলওয়ের কাছ থেকে ওই ব্যবসায়ীরা জায়গা লিজ নিয়েই ব্যবসা শুরু করে। বর্তমানে পুরো দেশের থানমার্কেট ব্যবসায় অন্যতম জমজমাট মার্কেট এটি। উচ্ছেদে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তাদের সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসন করা হোক। তবে সেটি আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। 

 

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিসি) এসি বাস ও ডাবল  ডেকার (দ্বিতল) বাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। সভায় বলা হয়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির সার্ভিস ঠিকঠাকভাবে দিলে অন্য পরিবহরণগুলোর আর তেমন প্রয়োজন হবেনা। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ বিআরটিসির মাত্র ৩০ টাকায় ৩০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছানোর স্লোগান নিয়ে চালু হওয়া ডাবল ডেকার (দ্বিতল) বাস সার্ভিস। এই বাস সার্ভিস অল্পসময়ে অনেক গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিআরটিসির বাস যাতে আরো বাড়ানো হয়। এবং অজ্ঞাত কোন কারণে যাতে এই বাস সার্ভিস বন্ধ না হয় সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া সভায় বলা হয়, অন্যান্য বেসরকারি পরিবহনের ফিটনেস বিহীন গাড়িগুলোকে যাতে চলতে দেয়া না হয়। এজন্য মোবাইল কোর্ট বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এব্যাপারে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আইনশৃঙ্খলা সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  

 

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং করানো বন্ধ থাকার কথা থাকলেও নানানামে কোচিং সেন্টারগুলোতে অনেক শিক্ষক কোচিং করাচ্ছেন এবিষয়ে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সভায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বেশি বেশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যাপারে জোর দেন।  এছাড়া আইনশৃঙ্খলা সভায় জেলায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান আরো ত্বরান্বিত করা, যানজট নিরসনসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  

 

আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত  জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেহেনা আকতার, তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানী সিংহ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম,  উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, আব্দুর রশিদ, মুজাহিদুর রহমান  হেলো সরকার, ইউএনও নাহিদা বারিক, শুক্লা সরকার, অঞ্জন কুমার সরকার, মমতাজ  বেগম, মো.সোহাগ উপস্থিত ছিলেন। 
 

এই বিভাগের আরো খবর