বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

মুসলিমনগরে ফার্মেসিতে গর্ভবতীর অপারেশন, নবজাতকের মৃত্যু 

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০১৯  

যুগের চিন্তা রিপোর্ট : ফার্মেসিতে কোন রকম অপারেশন করার অনুমতি নেই তাদের। কিন্তু তারপরেও তারা গর্ভবতী মহিলাদের সিজার করান। এলএমএএফ সার্টিফিকেটের উপর ভরসা করে অনেকেই করছেন সিজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনও। হতদরিদ্র পরিবারের মানুষকে বিভিন্ন ভুলভাল বুঝিয়ে গর্ভবতী নারীদের সন্তান প্রসব করান। 


গত ১০ অক্টোবর ফতুল্লার মুসলিম নগর নয়াবাজারে এক সন্তানসম্ভবা নারীকে ‘জনপ্রিয় ফার্মেসি’ নামক ঔষধের দোকানে সিজার করে বাচ্চা প্রসব করানো হয়।  ফার্মাসিস্ট রহিম তার স্ত্রী ও একজন ভাড়া করা নার্সকে দিয়ে ঐ নারীকে অপারেশন করায় বলে অভিযোগ। ১১ অক্টোবর শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গত কয়েকদিন যাবৎ একটি পক্ষ চেষ্টা তদবির চালিয়ে আসছিল। অবশেষে মুসলিম নগর আদর্শ পাঠাগারে গতকাল একটি পক্ষ নিহত শিশুর বাবা ইউনুস ও ফার্মেসির মালিক রহিমের সাথে আপোষ করিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


ফতুল্লার মুসলিম নগর নয়াবাজর এলাকা। এই এলাকায় বিসিক শিল্প নগরীর বেশিরভাগ শ্রমিকের বসবাস। নয়াবাজার এলাকাকে ঘিরে কমপক্ষে ১০/১৫ টি ফার্মেসি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দাঁতের ডাক্তারসহ সন্তানসম্ভবা নারীকে অপারেশনও করা হয় কয়েকটি ফার্মেসিতে। গত ১০ অক্টোবর দুপুরে মুসলিম নগর নয়াবাজারস্থ জনপ্রিয় ফামের্সিতে এসেছিলেন ইউনুস মিয়ার গর্ভবতী স্ত্রী। এসময় ফার্মেসীর মালিক রহিম ওই নারী ও তার আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন কথা বলে তাকে সিজার করার জন্য পরামর্শ দেয়। সহজ-সরল ইউনুসের পরিবার রহিম ও তার স্ত্রীর কথায় ফার্মেসির মধ্যেই সিজারের জন্য সম্মতি দেয়। 


ওইদিন রাতে রহিম ও তার স্ত্রী একজন নার্সকে তাদের বাড়িতে আনে। এরপর রহিমের নির্দেশনায় ওই নারীর অপারেশন চলে ফার্মেসীর মধ্যে। অপারেশনে অংশ নেয় রহিমের স্ত্রী ও একজন ভাড়াটিয়া নার্স। সন্তান প্রসব করানোর সময়  শিশুটির ঘাড়ের রগে আঘাত পায়। এছাড়াও গর্ভবতী  নারীরও অপারেশনের পর অসুস্থ বোধ করছিলেন।


শিশুটির অবস্থা বেগতিক দেখে ফার্মেসির মালিক রহিম  শিশুটি বাবা ইউনুসকে ফোন করে জানায় শিশু ও তার মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সেই রাতেই মা ও শিশুকে ফতুল্লার মোস্তাফিজ সেন্টারে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাকে মাতুয়াইল হাসপাতালে রেফার্ড করে। মাতুয়াইল হাসপাতালে নেয়ার পর, সেখান থেকে মা ও শিশুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক। 


পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে বাধা দেয় ফার্মসিস্ট আব্দুর রহিম। এরপর তাদেরকে মাতুয়াইল শিশু হাসাপাতালের পাশে ফ্রেন্ডশিপ স্পেশালিস্ট হসপিটালে নেয়া হয়। গত ১১ অক্টোবর রাতে শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। মাতুয়াইলস্থ ফ্রেন্ডশিপ স্পেশালিস্ট হসপিটাল ডায়াগনস্টি সেন্টারের মৃত্যু সনদে, প্রসবকালীন সময়ে শিশুটির ঘাড়ে আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

শিশু মৃত্যুর সংবাদে যখন মুসলিম নগর এলাকায় চলছিল তীব্র প্রতিক্রিয়া, ঠিক তখনই একটি চক্র  ফার্মসিস্ট রহিমের পক্ষ নেয়। এ বিষয়ে মুসলিম নগর আদর্শ পাঠাগারে গতকাল সকালে জনপ্রিয় ফার্মেসীর মালিক আব্দুর রহিম ও নিহত শিশুটির পরিবারের মধ্যে একটি আপোষ মিমাংসার  উদ্যোগ নেয় একটি পক্ষ। এরপর উভয়ের মধ্যে আপোষ করে দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর