শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

মুসলিমনগরের দ্বন্দ্ব কবে শেষ হবে ?

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান। নিজ এলাকাতে সম্প্রতি তাকে নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বুধবার মুসলিমনগর এলাকায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও কাঙ্গালীভোজের আয়োজন করা হয়। 


সেই অনুষ্ঠান মান্নানকে দূরে রেখেই আয়োজন করেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গদল নেতৃবৃন্দসহ পঞ্চায়েত কমিটি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মান্নানকে নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়।  


এক পর্যায়ে মান্নান প্রসঙ্গে বক্তাদের বক্তব্যের মধ্যেই হট্রগোল শুরু হয়। মান্নান এ সময় অনুষ্ঠানের মাত্র ২০ গজের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। এবারই প্রথম মুসলিমনগরের  এ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি  মান্নান বলয়ের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সমবায়ী জামাল উদ্দিন সবুজ।

 
তবে মান্নানের দাবী এলাকায় একটিচক্র ষড়যন্ত্র করে তাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছে এলাকায়। জামাল উদ্দিন সবুজ ও কামাল উদ্দিন দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্ধ কবরস্থান ও ঈদগাহ কমিটি নিয়ে। আর এই কমিটিকে কেন্দ্র করে তাকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবী করেন। 


অপরদিকে এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ থেকে সমাজকে দুটি ভাগ করার পিছনে মান্নানের ইন্দন রয়েছে বলে দাবী করা হয়। ফতুল্লার এনায়েতনগরের মুসলিমনগর এলাকার এই দ্বন্ধ আদৌ শেষ হবে কিনা এ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।  


ফতুল্লার এনায়েত নগরের মুসলিমনগর গ্রামে এখনো পঞ্চায়েত প্রথা চালু রয়েছে। সম্প্রতি এলাকায় কবরস্থান ও ঈদ গাহ কমিটি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আর এই বিরোধে এলাকাকে দুটি ভাগে ভাগ হয়। পঞ্চায়েতের মধ্যে চলে আসে রাজনৈতিক মতানৈক্য। সম্প্রতি দীর্ঘ ১৫ বছরের কবরস্থান কমিটি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। 


পূর্বের কমিটিতে কামাল উদ্দিন মাতাব্বর সভাপতি আর একই কমিটিতে পঞ্চায়েত প্রধান ফজলুল হক সরকার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তবে ঐ কমিটি  ভেঙ্গে নতুন কমিটির দাবী উঠলে, কামাল উদ্দিন মাতাব্বরের বড় ভাই জামাল উদ্দিন সবুজ এলাকার যুবকদের সাথে নিয়ে আবুল কাশেমকে সভাপতি ও আব্দুল বাতেন বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে ঈদগাহ ও কবরস্থান কমিটি করেন। 


এই কমিটির মাধ্যমে গত ঈদ উল ফিতরে মুসলিমনগর বায়তুল আমান সরকারী শিশু পরিাবরের মাঠে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এর আগেই এই নতুন কমিটি নিয়ে শুরু হয় নতুন করে বিতর্ক। জামাল উদ্দিন সবুজের করে দেয়া কবরস্থান ও ঈদগাহ কমিটির বিরুদ্ধে এলাকায় গুঞ্জন উঠে। এরপরই শুরু হয় পাল্টা কমিটি করার ঘেষাণা। 


সে অনুযায়ী পুরো পুনরায় করা হয় নুতন কমিটি। এই কমিটিতে কামাল উদ্দিনকে সভাপতি ও শামসুল হক মেম্বারকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি করা হয়। এর পর থেকেই জামাল উদ্দিন  ও কামাল উদ্দিনসহ দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।  


এবারের ঈদ উল  আযহার ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে জামাল সবুজের বলয় পঞ্চায়েতের ৩ টি মসজিদে ঈদ জামাত করার ঘোষণা দেয়। তবে মুসলিম নগরের পঞ্চায়েতের লোকজন ঈদগাহে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে। শেষ পর্যন্ত দুটি সমাজের অল্প কিছু মানুষ আলাদা ঈদ জামাত করে। 


এর আগে  ঈদ জামাত মুসলিমনগর পঞ্চায়েত প্রধান ও এনায়েতনগর ইউপির সাবেক মেম্বার ফজলুল হক সরকারের সাথে ছাত্রলীগ নেতা মান্নানের সাথে মসজিদের ভেতরেই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মুসলিমনগরে শুরু হয় নয়া মেরু করণ। মান্নানের বিরুদ্ধে থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ হেভিওয়েট নেতাদের কাছে দেয়া হয় অভিযোগ। 


এর প্রতিফলন ঘটে বুধবার মুসলিমনগরে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শোক সভায়। এ সভায় মান্নানের বিরুদ্ধে নেতারা যখন বক্তব্য দিচ্ছিল তখন মান্নান প্রসঙ্গে দর্শক সারিতে বসা নেতাদের মধ্যে হট্রগোল শুরু হয়। 


এসময় থানা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত  লোকজনদের শান্ত হতে বলেন। এসময় মান্নান থানা আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী নেতার গাড়িতে বসা ছিল। কিন্তু তিনি  সেই গাড়ি থেকে নামেননি। 


এ ব্যাপারে মুসলিম নগর এলাকার কয়েকজন ব্যাক্তি নাম না প্রকাশ শর্তে বলেন,মুসলিমনগরে অঘোষিতভাবে পলিটিক্স চলে। যতক্ষণ মিল থাকে ততোক্ষণ সব জায়েজ হয়ে যায়। আর অমিল হলে সব ফাঁস হয়। মুসলিমনগর এলাকায় একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। আবার দেখা যায় কোন বড় যারা আজকে বিভক্ত তারা এক হয়ে গেছে। 


এই এলাকায় বর্তমানে কোন কমান্ড নেই। ঘরে ঘরে নেতা। ডিস লাইস নিয়ে ৩টি গ্রপের দ্বন্ধ চলছে। থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক আবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একাধিকবার চলমান দ্বন্ধ নিরসনে উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এর একটি-ই কারণ এখানে সবাই নেতা। 


অপরদিকে এতো বড় একটি এলাকা এই এলাকায় নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থার দিকে কারো কোন খেয়াল নেই। অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। সামাজিক কাজগুলো না করে তারা কবরস্থান,ঈদগাহ নিয়ে রাজনীতি করা শুরু করেছে। এই দ্বন্ধ অবসান না হলে যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে এলাকায়।  এমন আশংকাও করছেন তারা। 


এ প্রসঙ্গে দৈনিক যুগের চিন্তার এই প্রতিবেদককে মান্নান বলেন,এতোবছর মুসলিম নগর পঞ্চায়েতের  লোকজনদের সাথে মিলে মিশে কাজ করেছি। আমার বাড়িটি কাশিপুর ও মুসলিমনগর এলাকার বর্ডার। তবে আমাদের সমাজ মুসলিম নগরেই। 


মুসলিম নগরে নতুন করে কবরস্থান ও ঈদগাহ কমিটি যখন করা হয় তখন আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর জানতে পারি কবরস্থান ও ঈদগাহ কমিটি করা হয়েছে। মূলত এই কমিটি নিয়ে জামাল উদ্দিন ও কামাল উদ্দিন মাতাব্বর দুই ভাইয়ের দ্বন্ধ শুরু হয়। পঞ্চায়েত কমিটিতেতো আর আমি নেই। পঞ্চায়েত কমিটিতে যারা রয়েছে তারা সবাই মুরুব্বী।


সবাইকে সম্মান দিয়েই বিগত দিনে তাঁদের সাথে কাজ করেছি। দুই ভাইয়ের কারণে বলির পাঠা আমাকে হতে হয়েছে। এলাকায় একটি পক্ষ আমাকে বিতর্কিত করতেই নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে।   
 

এই বিভাগের আরো খবর