সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯   বৈশাখ ৮ ১৪২৬   ১৬ শা'বান ১৪৪০

মুখরোচক আচারের দোকানগুলো ঘিরে ধরেন সবাই

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : আসে উৎসব-জাগে উল্লাস, সাজে নবপল্লবে বনবিথী। নীল গগনে সাদা আর কালো মেঘের খেলা নিরবধি। প্রলয় হুংকার কত ভয়ংকর-ঝড়ে বৃষ্টি আনে তুষ্টি। গাঁয়ের মাঠে প্রাণের মেলায় সাজিয়াছে মন্ডা-মিষ্টি, না এবার অন্যরকম এক চিত্র। 

নতুন বছরের প্রথম দিন ও মাস বৈশাখকে বরণ করতে তখন মেলাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। কালক্রমে সেটির নাম হয় বৈশাখী মেলা। এবার রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল বৈশাখকে ঘিরে মুখরোচক বাহারি আচারের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। এখানে রয়েছে বরই, চালতা, আম, কাঁচা মরিচসহ অনেক রকমের মুখরোচক আচারের দোকান। এতোসব পদের আচার নিয়েই উপজেলার গোলাকান্দাইল বৈশাখী মেলা। আর এই মুখরোচক আচারের টানে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে ছোটরাও আসে। কেননা আচার ছাড়া বৈশাখী মেলা কল্পনা করা যায় না।

বৈশাখী মেলার আনন্দে পূর্ণতা দেয় বাহারী আচার। আচারের স্বাদ নিয়েই যেন বৈশাখী মেলায় আসার দর্শনার্থীরা মূল আনন্দ খোঁজেন। আবহমান বাংলার চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বৈশাখ জুড়ে থাকে মেলার সমাহার । পহেলা বৈশাখ থেকেই বিভিন্ন স্থানে জমে ছোট  বড় মেলা। আর মেলার অনুষঙ্গ যেন আচার। বরই, আমড়া, চালতা, আমের আচার সব বয়সী মানুষেরই পছন্দ।

পহেলা বৈশাখসহ পুরো মাস জুড়ে বৈশাখী মেলাগুলোতে আচার না হলে যেন জমেই না। দল বেঁধে আচার খাওয়ার মজাই আলাদা। ছেলে-বুড়ো সবাই যেন  আচারের ভক্ত । মেয়েদের আচার যেন সবচেয়ে পছন্দের বস্তু তা মেলায় না গেলে বুঝার উপায় নেই। 

বাঙালির প্রাণের উৎসবে আচারের জন্য থাকে আলাদা উচ্ছ্বাস । বৈশাখে রূপগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় বসেছে  বৈশাখী মেলা। দূর-দূরান্তের বিক্রেতারা  এসব মেলায় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বাহারি আচারের পসরা সাজিয়ে বসেন।  আচারের বাহারেই মুগ্ধ হয় ক্রেতা সাধারণ । তারা তাদের পছন্দের আচার খেতে ভিড় করেন  আচারের দোকানগুলোতে। 

বৈশাখী মেলায় আনন্দ খুঁজতে রঙিন সাজেসেজে  অপূর্ব, অনিক, শান্ত, কানাই, তামীম ও তানজিলা আক্তারসহ অনেকেই এসেছেন। তারা তাদের পছন্দের আচার বিক্রেতা থেকে আচার সংগ্রহ করে নিচ্ছেন। অন্যরাও যার যার পছন্দের আচার ক্রয় করছেন। বাহারী স্বাদের আচার কিনে তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছেন সবাই। কেউ আবার নিয়ে যাচ্ছেন বাসা বাড়িতে। পলিথিনে মোড়ানো আর খোলা পসরায় সাজানো আচারের স্বাদ ও গন্ধে মুগ্ধ হয়ে ওঠে মেলায় আগত দর্শনার্থীরা। 

হরেক রকমের আচারের প্যাকেট লক্ষ করা গেছে মেলায়। চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রেতারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। প্রতিটি মেলায় খেলনা সামগ্রীর স্টলের চেয়েও আচারের দোকান বেশি। আর এসব আচারের দোকানেই ছিল শিশু-কিশোর, যুবক- যুবতি ও নারী-পুরুষের ভিড়।

দীর্র্ঘ ২০ বছর ধরে আড়াইহাজার উপজেলার কালীবাড়ি এলাকার আলআমীন আচার বিক্রি করছেন। এবার রূপগঞ্জের প্রতিটি মেলায় লক্ষাধিক টাকার আচার বিক্রি হয়েছে বলে জানান আলআমীন। তিনি প্রতি বছর রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল স্পটে পহেলা বৈশাখে আচার বিক্রি করেন। এবার তিনি এক দিনেই ২০ হাজার টাকার আচার বিক্রি করেছেন। মুনাফাও হয়েছে ভালো।

তিনি জানান, আর আচার তৈরি ও বিক্রির চেয়ে বেশি কষ্ট বহন করা। পুরো বৈশাখ মাস জুড়েই চলবে এসব আচার । আল-আমিন জানান তার আচারের ক্রেতা শিশু ও কিশোরীরাই বেশি । তবে সব ধরণের মানুষই আচার খেতে পছন্দ করেন।    
 

এই বিভাগের আরো খবর