সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   ভাদ্র ৩১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

মাথলায় করে খাবার খান কাশেম শেখ

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৯  

আনোয়ার হাসান (যুগের চিন্তা ২৪) : কাঠফাটা রোদ্দুরে চারদিক খা খা করছে। রোদ থেকে বাঁচতে একটি বাড়ির গেটের সামনে গাছের ছায়াতলে বসে জিরিয়ে নিচ্ছেন রিকশাচালক আবুল কাশেম শেখ। তাঁর মাথায় একটি মাথলা। তবে বহুকাল থেকে দেখে আসা অন্যসব মাথলার মতো নয়। 

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের শেষ মাথায় তামাকপট্টি এলাকায় বাপ্পী সড়কে বুধবার (১২ জুন) দুপুরে কাশেম শেখের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপার মাঝিরহাটে তাঁর বাড়ি। তবে গত চার দশক ধরে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার শহীদনগরে বাস করেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেয়ার কথা জানানোর সময় তাঁর চেহারায় ফুঁটে উঠে প্রশান্তি চিহ্ন। তবে পরক্ষণে ছেলে সন্তান না থাকার আক্ষেপ করলেন সত্তরোর্ধ এই বৃদ্ধ। বললেন, একটা ছেলে সন্তান থাকলে এই বয়সে আর কাজ করতে হতোনা।

 

কাশেম শেখের মাথায় থাকা মাথলা নিয়ে আগ্রহ দেখালে তিনি হাসিমাখা মুখে জানান, এ মাথলা তাঁর আবিস্কার। তিনি ছাড়া এখন পর্যন্ত এমন মাথলা আর কেউ পরেনি, তৈরীও করেনি। এরপর মাথলার নানা ব্যবহারের কথাও জানান। বললেন, মাথায় দেই রোদ আর বৃষ্টি থেকে বাঁচতে। এর পরের কথা শুনে কিছুটা চমকে উঠতে হয়। এই মাথলা দিয়ে না-কি খাবারের প্লেটের কাজও সারেন। তিনি গড়গড়িয়ে বলে চলেন, রিকশা চালাতে গিয়ে পথের মধ্যে কোন ফ্রি খাবার পেলে মাথলায় করেই খাই। রোজায় ইফতার খেয়েছেন এমনকি বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকীতে খিচুরিও। 

 

কীভাবে সম্ভব ? হাতে নিয়ে দেখার পর বুঝা গেলো তাঁর মাথলাটি বাঁশের তৈরী নয়। এটি একটি প্লাস্টিকের ঢাকনা (জালি)। বাড়িতে খাবারের প্লেট ঢাকতে এর ব্যবহার হয়। দামও বেশী নয়।  মাত্র দশ টাকা দিয়ে তিনি এটি কিনে তার উপর-নীচে পলিথিন লাগিয়ে চিকন তার দিয়ে বেঁধে নিয়েছেন। এই মাথলা মাথায় পড়লে রোদ থেকে যেমন রক্ষা পান তেমনি বৃষ্টি থেকেও। মুড়ি বা ইফতার খাওয়ার সময়ে মাথলার ভিতর অংশে একটি কাগজ দিয়ে নেন। আর খিচুরি বা বিরিয়ানি খাওয়ার সময়ে আরও একটি পলিথিন ব্যবহার করেন।

 

কবি শামসুর রাহমান তাঁর ‘ফেব্রুয়ারি-১৯৬৯’ কবিতায় লিখেছিলেন, “ জীবন মানেই/ মাথলা মাথায় মাঠে ঝাঁ ঝাঁ রোদে লাঙ্গল চালানো ”। কবি বলেছিলেন বাঁশের তৈরী মাথলার কথা। তবে কাশেম শেখের এমন মাথলা দেখলে কবি হয়তো অন্য চরণ আওড়াতেন।

এই বিভাগের আরো খবর