শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

মহানগর আওয়ালীগে রদবদলের আশঙ্কায় তোড়জোড়

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৯  

যুগের চিন্তা ২৪ : আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন এখনো শেষ হয়নি। ডিসেম্বরের ২০ ও ২১ তারিখ  আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জোরেসোরে আলোচিত হচ্ছে।

 

তবে হুট করেই এসবের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি রদবদল হবে এমন তথ্যে বর্তমান কমিটিতে থাকা নেতাদের মধ্যে  তোড়জোড় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের যোগাযোগ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে একটি সূত্র।

 

সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে মহানগর কমিটি আসতে পারে এমন সংবাদে নড়েচড়ে বসেছে বর্তমান কমিটির শীর্ষস্থানীয় পদ দাবি করা নেতারা। এছাড়া কমিটির বাইরেও কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতারা মহানগর কমিটিতে ঠাঁই পেতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

 

সূত্র বলছে, বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে রয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। কমিটি হতে পারে এমন সংবাদে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারাই রাজনীতির মাঠে গোপনে বলে বেড়াচ্ছেন আনোয়ার হোসেন আর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে থাকবেননা। তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যে কোন পদে যোগ হবেন।

 

আনোয়ার হোসেনের অনুপুুস্থিতিতে কে হবেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সেটি নিয়ে বর্তমান কমিটির বেশ কয়েকজন ও কমিটির বাইরেরও বেশ কয়েকজন নেতা কাজে নেমে পড়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ চাচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সেক্রেটারি এড.খোকন সাহাকে।

 

তবে মহানগরের সিনিয়র সহসভাপতি  বাবু চন্দনশীল শীল, শেখ হায়দার আলী পুতুল, রোকন উদ্দিন আহমেদ, কৃষক লীগের সেক্রেটারি ইব্রাহিম চেঙ্গিস, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অর্থ ও পরিকল্পনা উপ কমিটির সদস্য কামাল উদ্দিন মৃধাসহ আরো বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা  সভাপতি হতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন।

 

সূত্র জানিয়েছে, এতালিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদিরও যোগ হতে পারে।

 

কমিটি রদবদলের আশঙ্কায় সেক্রেটারি পদে বর্তমান কমিটির নেতাদের মধ্যে অনেক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, জিএম আরমান, শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মাহমুদা মালা, জিএম আরাফাত, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুসহ আরো জনাবিশেক আওয়ামী লীগ নেতা যার যার অবস্থান থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।  

 

যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে শুরু করে সম্পাদকমন্ডলীর সবগুলোপদেই কমিটিতে থাকা ও এর বাইরের অনেকেই নতুন কমিটিতে ভালো পদ পেতে আগ্রহী। তবে সূত্র জানিয়েছে, প্রকাশ্যে না হলেও কমিটিতে স্থান পাওয়া নিয়ে নিজেরা নিজেরাই অনেকে কাঁদাছোড়াছুড়ি করছেন। অনেকে এক্ষেত্রে বর্তমান চলমান আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।

 

বিতর্কের মধ্যে থাকা ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তি যাতে মহানগর কমিটিতে স্থান না পায় সেক্ষেত্রে তারা প্রত্যেকেই মহানগর কমিটিতে আসতে চায় এমন নেতাদের ব্যাপারে ভালো করে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সূত্র জানিয়েছে, মহানগর কমিটিতে রদবদল অনেকটাই বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেনের অবস্থান অনুযায়ী আবর্তিত হবে বলে ধারণা আওয়ামী লীগ নেতাদের।

 

তাদের ধারণা, এখনো যেহুতু জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ার হোসেন সেক্ষেত্রে তিনি কেন্দ্রীয় দায়িত্বে নাও যেতে পারেন। মহানগর কিংবা জেলাতেই তিনি শীর্ষ পদে থাকবেন। আবার এই ধারণার বিপরীত মত রয়েছে। অনেক নেতা আবার আনোয়ার হোসেন সম্পর্কে বলছেন, সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধিদের কেউ দলীয় শীর্ষ পদে থাকতে পারবেননা।

 

সেই হিসেবে আনোয়ার হোসেন কিংবা অন্য কোন জনপ্রতিনিধি কমিটি পুনর্গঠন হলে সভাপতি কিংবা সেক্রেটারি পদে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে এসবকে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির একাংশ নিজেদের অবস্থান জানাতেও নারাজ, তাদের মতে নারায়ণগঞ্জে মহানগর আওয়ামী লীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে শীর্ষস্থানীয় পদে কারা থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীই নেবেন। তবে রাজনীতিতে তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।

 

এই বিভাগের আরো খবর