মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৪ ১৪২৬   ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

মহাকাশে মারা গেলে মৃতদেহের কী হবে !

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : মানুষ মরণশীল। প্রত্যেক মানুষকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তবে মৃত্যুর পর আমাদের মৃতদেহ পঁচে-গলে যায় এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মহাকাশে মৃতদেহের কী হয় -তা কি আমরা জানি ? কারণ মহাকাশে অল্প ঘনত্বের বস্তু বিদ্যমান।


অর্থাৎ শূন্য মহাশূন্য পুরোপুরি ফাঁকা নয়। প্রধানত, অতি অল্প পরিমাণ হাইড্রোজেন প্লাাজমা, তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং নিউট্রিনো এই শূন্যে অবস্থান করে। তাত্ত্বিকভাবে, এতে কৃষ্ণবস্তু এবং কৃষ্ণশক্তি বিদ্যমান।


মহাশূন্য এমন অনেক কিছু আছে যা মানুষ এখনও কল্পনা করতে পারেনি। তাই পৃথিবীর মত মহাকাশে মৃতদেহ পঁচে না। তবে কী হয় ?

 

মহাকাশে লাশটা পঁচার সুযোগ পাবেনা। কারণ রেডিয়েশন ও বায়ুশূন্যতায় শরীরের যত ব্যাকটেরিয়া আছে, ওগুলো মারা যাবে বা শীতনিদ্রায় চলে যাবে। লাশটা যদি পৃথিবীর কক্ষপথের সাথে চলে তবে তা কম চাপের কারণে সিদ্ধ হয়ে মমিতে পরিণত হবে। অনেকটা ইতালির পম্পেইতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ধ্বংস হওয়া নগরীতে যেমন লাশ উদ্ধার হয়েছিল তেমন।

 

আবার যদি লাশটা পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে সৌরজগতের বাইরের দিকে থাকে, যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নীচে, লাশটা জমে শক্ত হয়ে যাবে। যেহেতু বায়ু শূন্যতায় তাপের পরিবহনও দ্রুত হয়না তাই এরকম হতে কয়েকদিন এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।


মাউন্ট এভারেস্ট বা আল্পস পর্বতমালার হিমবাহের মাঝে লাশ যেমন বছরের পর বছর ভাল থাকে, তেমনি মহাকাশেও লাশটা কয়েক মিলিয়ন বছর পরেও চেনা যাবে, যতক্ষণ না এটা কোন জ্যোতিষ্কে পতিত হচ্ছে।

 

২০১৬ সালের এক হিসাবমতে, এ পর্যন্ত ১৮ জন মহাকাশযাত্রায় মারা যান। সোভিয়েতের মহাকাশযাত্রা শুরুতে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। ১৯৭১ সালে সর্বপ্রথম সয়ূজ-১১ মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফেরার পথে সোভিয়েতের তিন মহাকাশচারী মৃত্যুবরণ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ যাত্রার পথে এ পর্যন্ত ৭ জন পৃথিবীতে ফেরার পথে আরও ৭ জন নিখোঁজ হন।

এই বিভাগের আরো খবর