সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯   বৈশাখ ৮ ১৪২৬   ১৬ শা'বান ১৪৪০

‘ভুল প্রশ্নে’ এইচএসসি পরীক্ষা

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০১৯  

ডেস্ক রিপোর্ট (যুগের চিন্তা ২৪) : এইচএসসি ও সমমানের বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার প্রথম দিনে ঢাকা বোর্ডের আওতাভুক্ত তিনটি কেন্দ্রে ২০১৯ সালের বদলে ২০১৬ সালের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। 


বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক সোমবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার তিনটি কেন্দ্রে ২০১৬ সালের প্রশ্ন বিতরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


সূত্রে মতে, রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ ও মাদারীপুরের শাজাহানপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ২০১৬ সালের এইচএসসির প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে এবং এই ভুল প্রশ্নে এ তিন কেন্দ্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।


বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেন। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ ও শাজাহানপুর সরকারি কালেজ কেন্দ্রের সব খাতা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়। এসব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার্থীদের খাতা বর্তমানে শিক্ষা বোর্ডে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।


ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, ‘অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আমরা সব খাতা বোর্ডে সংরক্ষণ করেছি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী কলেজে ৩৪ শিক্ষার্থীকে ও সিঙ্গাইর সরকারি কলেজে ২০১৯ সালের বদলে ২০১৬ সালের এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী) প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। শাজাহানপুর সরকারি কলেজে ২০১৬ সালের এমসিকিউ ও লিখিত দুটি সেটেই ২০১৬ সালের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।’


চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘ইতোমধ্যে আমরা তিনজন কেন্দ্র সচিবকে শোকজ করেছি। সোহরাওয়ার্দী কলেজের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি দুই কেন্দ্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়া হবে।’


জিয়াউল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় আমরা সেই দিকটা লক্ষ্য রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত ছোট অভিযোগও এড়িয়ে যাওয়া হবে না। অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


এদিকে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত স্যাররা আমাদের ২০১৬ সালের প্রশ্ন দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা দেখার পর স্যারদের জানালে কিছু হবে না বলে পরীক্ষা দিতে বলেন। এ কারণে আমরা ভুল প্রশ্নেই পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসি।

এই বিভাগের আরো খবর