শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৫ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

ব্যাংকের বিরুদ্ধে গার্মেন্টের তালা খুলে না দেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০১৯  

ফতুল্লা (যুগের চিন্তা ২৪) : হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত কিবরিয়া নীট লিঃ এর ফ্যাক্টরিতে ঝুলিয়ে দেয়া তালা ব্যাংক কতৃপক্ষ খুলে দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছে গার্মেন্টর এর মালিকপক্ষ। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গার্মেন্ট এর মালিকপক্ষের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 


ফতুল্লা কুতুবাইলে অবিস্থত কিবরিয়া নীট লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, গার্মেন্ট এর ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে আমরা প্রিমিয়ার ব্যাংক এর নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে ঋন গ্রহন করি। 


ঋন নেয়ার পর আমরা ভালোভাবেই ব্যবসা করে আসছিলাম। কিন্তু হঠাৎ প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে পড়লে ব্যাংককে আমরা অনুরোধ করি ব্যাংকের ঋন পরিশোধের কিস্তির পরিমান ছোট করে দিতে। 


কিন্তু ব্যাংক কতৃপক্ষ তা না করে ক্ষুব্ধ হয়ে উল্টো বেআইনীভাবে ফ্যাক্টরীতে প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বের করে দিয়ে ফ্যাক্টরিতে তালা লাগিয়ে দেয়। 


এ ব্যাপারে আমরা ব্যাংকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট করলে হাইকোর্ট ফ্যাক্টরিটি খুলে দেয়ার জন্য ব্যাংক কতৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু ব্যাংক হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ফ্যাক্টরিটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখেছে। 


এ ব্যাপারে তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করলেও কোনো ফল পাইনি। গত ২৬ মে আনুমানিক বেলা আড়াইটায় ব্যাংক কতৃপক্ষের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করতে গেলে ব্যাংক ম্যানেজার সহীদ মল্লিক সাহেবের নির্দেশে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে তিনশ টাকার ষ্ট্যাম্পে ইংরেজীতে কিছু লিখে সেখানে সাক্ষর নেয় এবং কিবরিয়া নীটের ৫-৭ টি সাদা প্যাডেও সাক্ষর নেয়। 


এ ব্যাপারে আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। আমজাদ হোসেন আরো অভিযোগ করেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম ব্যাংক কতৃপক্ষ লোন রিকভারি করতে ফ্যাক্টরিতে অবস্থিত মেশিনারিজ শীঘ্রই বিক্রি করে ফেলবে। ব্যাংক যাতে ফ্যাক্টরির মালামাল বিক্রি করতে না পারে এবং হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি খুলে দেয়ার ব্যাপারে তারা ফতুল্লা থানায় দ্বিতীয় আরেকটি জিডি করেছেন বলেও জানান। 


অভিযোগের ব্যাপারে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার সহকারি ম্যানেজার শাহ আলম জানান, প্রতিষ্ঠানটি ঋন খেলাপি। তারা যেসব অভিযোগ করছে তা মিথ্যা, বানোয়াট। ঋন নেয়ার পর থেকেই কিবরিয়া নীট কতৃপক্ষ ঋন শোধে অবহেলা করছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ব্যাংকে আসেও না কোনো টাকা শোধও করেনা। 


ফ্যাক্টরিতে ব্যাংকের তালা যেমন রয়েছে তেমনি গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষও তালা মেরে রেখেছে। আমরা গার্মেন্ট এর জিনিসপত্র বিক্রি করবো কি তারাই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নানা কিছু গার্মেন্ট থেকে বিক্রি করে দিচ্ছে। 


ব্যাংকে আসার পর জোর করে তাদের কাছ থেকে জোর করে সাক্ষর নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা। ব্যাংকে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেটির ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করলেই আসলে কি ঘটেছে তা জানা যাবে। 


ফতুল্লা থানায় করা জিডি’র তদন্তকারি কর্মকর্তা এস আই আব্দুল করিম জানান, ২৭ মে এ ব্যাপারে গার্মেন্ট কতৃপক্ষ একটি জিডি করেছে। আমি জিডি’র তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে পারবো।
 

এই বিভাগের আরো খবর