শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর করে চাঁদা দাবি করল কাউন্সিলর আলা

প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

সিদ্ধিরগঞ্জ (যুগের চিন্তা ২৪) : ইউছুফ (৪৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে আদমজী ইপিজেড থেকে তুলে নাসিক ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলের কার্যালয়ে মারধর করে ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে কাউন্সিলর আলী হোসেন আলার বিরুদ্ধে। 
সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় আদমজী ইপিজেড অভন্তরের টিএনএস বাটন কারখানার সামনে থেকে ঐ ব্যবসায়ীতে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ইউছুফ বাদী হয়ে সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

তবে অভিযুক্ত নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলী হোসেন আলা দাবী করেছেন তিনি ব্যবসায়ী ইউছুফকে তার লোকজন দিয়ে তুলে এনে সমঝোতা করে ছেড়ে দিয়েছেন। চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর তাকে আসতে বলা হয়েছে, সে আসলে তার মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা দাবী করেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবত আদমজী ইপিজেড অভন্তরের টিএনএস বাটন কারখানায় ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েক দিন পূর্বে ইউছুফ ঐ টিএনএস বাটন কারখানায় ব্যবসা করার জন্য কোটেশন দিয়ে আমার ব্যবসা নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তাই ইউছুফকে আমার লোকজন তুলে এনে সমঝোতা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইউছুফ বলেছে টিএনএস বাটন কারখানায় সে আর যাবে না।

এদিকে ব্যবসায়ী ইউছুফ জানান, টিএনএস বাটন কারখানা কর্তৃপক্ষ কোটশেন আহবান করলে তিনি কোটেশন দাখিল করে কাজ পান। কর্তৃপক্ষ তাকে কাজ দিয়েছেন তাই তিনি বৈধ ভাবে ঐ কারখানায় ব্যবসা করে আসছিলেন। হঠাৎ সোমবার বিকালে ঐ কারখানার সামনে থেকে ৩টি মোটরসাইকেলে করে শাহজাহান, হারুন, নজরুলসহ ৬ জন লোক তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে করে নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলের কার্যালয়ে নিয়ে নিয়ে যান। 

সেখানে পূর্ব থেকেই অবস্থান করছিলেন কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা। এসময় ইউছুফকে কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা বলে আমি কাউকে পরোয়া করিনা। ইপিজেডে ব্যবসা করতে হলে আমাকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। এ কথা বলেই কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা ও তার লোকজন ইউছুফকে এলোপাতারি কিল ঘুষি মেরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   

এ বিষয়ে কথা হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামরুল ফারুক বলেন, এক ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   

এই বিভাগের আরো খবর