বুধবার   ২৭ মে ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

বেসরকারী খাতেও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২০  

নারায়ণগঞ্জের করোনার প্রাদুর্ভাবে কাহিল জনগণ। করোনা সংকটকালে জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থাও হয়ে উঠেছে নাজুক। জেলার অধিকাংশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা বন্ধ। কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রাখলেও সীমিত পর্যায়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।

 

অন্যদিকে সরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ থাকায় সেখানেও নেই সাধারন রোগীদের চিকিৎসা সেবা। সরকারি জেনারেল হাসপাতাল সাধারন রোগের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করা হলেও হাসপাতালের একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় এখানেও রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল।

 

জেলায় লকডাউন থাকলেও লকডাউন এখন প্রায় শিথিল। তবে গণপরিবহণ বন্ধ হওয়ায় জেলার বাহির থেকে আসছে না কোন চিকিৎসক। ফলে রোগীদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।


সরজমিনে দেখা যায় নগরের একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবা সীমিত। আবার কোন কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। জেলার বৃহৎ দুটি সরকারি হাসপাতালের নিকটবর্তী অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ।

 

যে সব ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রয়েছে। সেখানে ডাক্তারের সংখ্যা খুবই কম। রোগীরা নিজেদের নিয়মিত চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছেন না। আবার কখনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়েও ফিরে আসছেন।


নগরের অতি পরিচিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পূর্বের তুলনায় অর্ধেক চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। অনেক ডাক্তারই এখন চেম্বারে নিয়মিত বসেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়মিত বসছেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে অনেক ঢাকা থেকে চিকিৎসকরা আসতে পারছে না বিধায় ডাক্তারের সংখ্যা এখন কম।


একই অবস্থার কথা জানালেন মর্ডান ডায়গনস্টিক সেন্টারের হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে অনেক কম ডাক্তার চেম্বারে বসেন। পূর্বের ৩ ভাগের ১ ভাগ চিকিৎসক এখন রোগী দেখেন। তবে সীমিত পর্যায়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালু রয়েছে।

 


এদিকে, হাসপাতালে সীমিত পর্যায়ে চিকিৎসা দেওয়ায় সাধারন রোগীরা ব্যাপক হয়রানির শিকার হচ্ছে। ফতুল্লার সেহাচরের বাসিন্দা রুহুল আমিন নগরের একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি তার পা ফ্র্যাকচার হলে জেলার একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে পরবর্তীতে ঢাকার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।


ভুক্তভোগী নিতাইগঞ্জের ফারহানা ইসলাম জানান, আমি কিছু পরীক্ষার জন্য চাষাড়ার মডার্ণ ডায়গনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ পরীক্ষা সেখানে করানো হচ্ছে না। পরবর্তীতে আমরা অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার টেস্ট করিয়েছি। সব ডায়গনস্টিক সেন্টারে একই অবস্থা, সকল পরীক্ষা এখন হয়না।


নগরের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে এখন শুধুমাত্র গাইনী বিভাগে রোগীরা ভর্তি আছেন। অন্য কোন রোগের রোগী ভর্তি নেই। জেলার প্রাইম জেনারেল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আহসানুল কবির রিজন বলেন, আমাদের হাসপাতালে ২০ শয্যা রয়েছে। তার মধ্যে ১৩ শয্যায় প্রসূতি নারী ভর্তি আছেন।


মেডিহোপ হাসপাতালের ব্যাবস্থাপক মাহমুদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ৭-৮ জন চিকিৎসকের চেম্বার রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে একজন গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বসেন। তাই অন্য রোগের কোন চিকিৎসা আপাতত হচ্ছে না। হাসপাতালে এখন শুধুমাত্র প্রসূতি নারীরা ভর্তি আছেন।


সরকারি বেসরকারি সকল হাসপাতালে গাইনী রোগের চিকিৎসা থাকলেও সম্প্রতি চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন অন্তঃসত্ত্বা সাজিয়া বেগম। তিনি মাসদাইরে বাসিন্ধা।

 

এই মে মাসের ১৩ তারিখে ডেলিবারি সময় দেওয়া হয়েছিল কিন্তু গত ২১ এপ্রিল পা পিছলে পড়ে যায়। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার পিতা জলিল আহমেদ ও স্বামী সুমন তাকে নারায়ণগঞ্জের একাধিক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে গেলেও কোথাও তার চিকিৎসা করা হয়নি।

 

যার পরিণতি ছিল সাজিয়া বেগম  ও তার গর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যু। করোনার আতঙ্কে সাজিয়া বেগমের চিকিৎসা করা হয়নি কোন হাসপাতালে।
জেলা সিভিল সার্জন এ বিষয়ে বলেন, সরকারী জেনারেল হাসপাতালে সকল রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকার থেকে সকল বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া আছে।

 

লকডাউনের কারণে ঢাকা থেকে ডাক্তার ও টেকনিশিয়ানরা আসতে পারছে না বলে সাময়িক সমস্যা হতে পারে কিন্ত কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা যাবে না। সীমিত পর্যায়ে হলেও চিকিৎসা দিতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর